Category: রাসায়নিক নিরাপত্তা

  • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় আইন ও নিয়মকানুন

    রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় আইন ও নিয়মকানুন

    রাসায়নিক পদার্থ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে।
     
    তাই সাধারন ভবন, স্থান থেকে শুরু করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় আইন ও নিয়মকানুন নিচে আলোচনা করা হলো।
     
    ● কোন কক্ষে হালকাভাবে ঢাকনা আটকানো ফ্লেমেবল তরল পদার্থের কন্টেইনার থেকে তরল দাহ্য ব্যবহার করা হলে উক্ত কন্টেইনার ৪ লিটার বা তার কম ধারণক্ষমতার হতে হবে এবং এ জাতীয় কক্ষে প্রতি বর্গ মিটারে ৮২০ লিটারের ফ্লেমেবল তরল রাসায়নিক রাখা যাবে না।
    ● যে সকল কক্ষে দাহ্য পদার্থ গুদামজাত করা হয় সেই রুম বা তার আশেপাশে রাখা অন্যন্য বস্তু হতে তা ১ঘন্টা অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা দ্বারা আলাদা থাকতে হবে। উক্ত গুদামে যদি স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংঙ্কলার ব্যবস্থা থাকে তাহলে তার আশেপাশে রাখা বস্তু মধ্যখানে আলাদাকরে অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই।
    ● রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের সময় লিকেজ বা স্পিলেজের কারনে ব্যবহারের স্থান থেকে যাতে তা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য নূন্যতম ১০০ মি.মি. উঁচু বেষ্টনী তৈরি করতে হবে।
    ● কোন কাঁরখানা যদি তার উৎপাদন বা অন্য কোন কাজে এসিড ব্যবহার, মজুদ ও পরিহবন করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।
    ● উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের কাছে অবশ্যই পরিচালক স্বাক্ষরিত লিখিত পরিবেশ নীতি থাকতে হবে,
    ● ভবন ও ভবন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ড্রেনিং সিস্টেম থাকতে হবে যা সেকেন্ডারি কন্টেইনমেন্ট ও অগ্নি সুরক্ষা পানির ধারক হিসেবে চিহ্নিত। প্রতেক বিভাগের জন্য আলাদা ড্রেন বা নালা ডিজাইন করতে হবে যেন স্প্রিংঙ্কলার সিস্টেমের পানি এর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
    ● যে সকল স্থানে বা কক্ষে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে সেখানে ধোঁয়া ও তাপ বিহর্গমনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।
    ● যারা রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে কাজ করবে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, রাসায়নিক পদার্থ এবং রাসায়নিক বর্জ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
    ● ঝুঁকির প্রকৃতির উপর ভিত্তিকরে রাসায়নিক পদার্থের সংরক্ষণের সর্বোচ্চ পরিমান নির্ধারন করতে হবে। নিচে তা উল্ল্যেখ করা হলঃ

    S.N.

    Material

    Class/State

    Maximum Quantities

    Storage Limit

    Use Closed System

    Use Open System

    1

    Flammable Liquids

    Class l-A

    115 liters*

    115 liters*

    38 liters

    Class l–B, l-C

    454 liters*

    454 liters*

    115 liters

    2

    Combustible Liquids

    Class-ll

    454 liters*

    454 liters*

    114 liters

    Class-lll-A

    1249 liters*

    1249 liters*

    320 liters

    Class-lll-B

    49962 liters*

    49962 liters*

    12490 liters

    3

    Combination of flammable liquids

    Class l-A, l-B, l-C

    454 liters*

    454 liters*

    113 liters*

    4

    Flammable Gases

    Gaseous

    28 m3 at NTP

    28 m3 at NTP

    Not Applica.

    Liquefied

    113 liters

    113 liters

    Not Applica.

    5

    Liquefied  flammable

    Class l-A

    113 liters

    113 liters

    38 liters

    Class l-B, l-C

    454 liters

    454 liters

    113 liters

    6

    Flammable Solids

    Ingots, Pigs

    454 kg

    454 kg

    454 kg

    Light Metallic Products

    57 kg

    57 kg

    57 kg

    Dusts, Scraps

    0.454 kg

    0.454 kg

    0.454 kg

    7

    Oxidizing Materials

    Class 4

    0.454 kg

    0.1135 kg

    0.1135 kg

    Class 3

    4.54 kg

    0.227 kg

    0.227 kg

    Class2

    113 kg

    113 kg

    113 kg

    Class 1

    1816 kg

    1816 kg

    1816 kg

    8

    Oxidizing Gas

    Gaseous

    42.48 m3 NTP

    42.48 m3 NTP

    Not Applica.

    Liquefied

    56.78 liters

    56.78 liters

    Not Applica.

    9

    Corrosive

    Not Applicable

    2270 kg/1892 liters/23 m3 NTP

    2270 kg/1892 liters/23 m3 NTP

    454 kg/379 liters

    10

    Highly Toxic

    Not Applicable

    4.54 kg/ 0.57 m3 NTP

    4.54 kg/ 0.57 m3 NTP

    1.362 kg

    11

    Toxic

    Not Applicable

    227 kg/23 m3 NTP

    227 kg

    56.75 kg

     

    ● সকল প্রতিষ্ঠানকে তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারনে সৃষ্ট বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
    ● বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ষ্টোরেজ নন এয়ার কন্ডিশন্ড রুমের জন্য সিলিং এর নূন্যতম উচ্চতা ৩.৫ মিটার ও এয়ার কন্ডিশন্ড রুমের জন্য ৩ মিটার হতে হবে।
    ● নিয়ন্ত্রন এলাকার অবস্থান এবং সংখ্যা নিচে ছকের মাধ্যমে উল্ল্যেখ করে হলোঃ

    Grade Level

    Floor Level

    Number of Control Areas Per Floor

    Fire Resistance Rating of Barriers in Hours

    Walls

    Floors

    Floor Supporting Members

    Above

    Higher than 9

    5

    1

    2

    2

    7-9

    5

    2

    2

    2

    6

    12.5

    2

    2

    2

    5

    12.5

    2

    2

    2

    4

    12.5

    2

    2

    2

    3

    50

    2

    1

    2

    2

    75

    3

    1

    2

    1

    100

    4

    1

    2

    Below

    1

    75

    3

    1

    2

    2

    50

    2

    1

    2

    Lower than 2

    Not Allowed

    Not Allowed

    Not Allowed

    Not Applicable

     

     

  • রাসায়নিক পদার্থ নিরাপদে পরিবহণ, গুদামজাতকরন ও ব্যবহার পদ্ধতি

    রাসায়নিক পদার্থ নিরাপদে পরিবহণ, গুদামজাতকরন ও ব্যবহার পদ্ধতি

    রাসায়নিক পদার্থ নিরাপদে পরিবহণের ক্ষেত্রে করনীয় – Chemical Transportation Regulations

    রাসায়নিক পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হয়। সেগুলো হলোঃ
    • রাসায়নিক পদার্থ পরিবহনের সময় তা যেন অতিরিক্ত ঝাকুনি বা নাড়াচাড়া প্রাপ্ত না হয় বা আছাড় না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে,
    • পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা গাড়ি, ট্রলি বা সরঞ্জাম ত্রুটিমুক্ত হতে হবে,
    • কন্টেইনার লিকেজ বা অগ্নি দূর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে,
    • রাসায়নিক পদার্থের ধরনের উপর ভিত্তি করে উপযুক্ত স্পিল কিট ব্যবহার করতে হবে এবং উক্ত কার্যপ্রক্রিয়া একজন অভিজ্ঞ লোক দ্বারা সম্পন্ন করতে হবে। কারন, প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে যে কোন ঝুঁকি বা বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
     
     

    রাসায়নিক পদার্থ গুদামজাতকরন ও ব্যবহার পদ্ধতি – Warehouse and Use of Chemical Materials

    রাসায়নিক পদার্থ নিরাপদে গুদামজাতকরন ও ব্যবহারে জন্য নিন্মক্তো পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবেঃ
    • রাসায়নিক পদার্থ গুদামজাতকরনে সমতল ফ্লোর নির্বাচন করতে হবে,
    • উপযুক্ত সেনেন্ডারি ট্রে ও কন্টেনার ব্যবহার করতে হবে,
    • গুদামজাত করার পূর্বে সকল রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থের ধারক পাত্র লেবেলযুক্ত হতে হবে,
    • রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার ও সংরক্ষণের স্থান প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ করতে হবে,
    • রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের স্থানে খোলা বাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতে বিরত থাকতে হবে,
    • অধিক ঝুকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থের আলাদা তালিকা তৈরি করতে হবে,
    • বিপদজনকতার রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা, প্রকৃতি বিবেচনা করে পাত্র ও স্থান নির্বাচন করতে হবে,
    • উত্তম বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    • অধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না,
    • রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষনের স্থান নিরাপদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে,
    • রাসায়নিক পদার্থের সিলিন্ডার সংরক্ষণের জন্য নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক যে তার ছিপি লাগানো আছে এবং তা নিরাপত্তা বেষ্টনী দ্বারা আবদ্ধ আছে,
    • ইমারজেন্সি ড্রেন ইটিপি এর সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে,
    • পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত অগ্নি নির্বাপক সামগ্রীর ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    • কোন রাসায়নিক পদার্থ কতটুকু ক্ষতিকারক তার প্রতিকী চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে,
    • রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ এরিয়া, ব্যবহারের যায়গা ও পরিবহণ পথে নিরাপত্তা সাইন রাখতে হবে,
    • সকল রাসায়নিক পদার্থ সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    • রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য পৃথক এলাকা থাকতে হবে,
    • সলিড ও লিকুউড রাসায়নিক পদার্থের ধরণ অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে হবে,
    • রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশনের পূর্বে তা সঠিকভাবে পরিশোধন করতে হবে।
     
     
     
    রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারে কিছু সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। সেগুলো হলোঃ
    • অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার,
    • এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা পরিবহন করা,
    • রাসায়নিক পদার্থের কণ্টেইনারের ঢাকনা খোলা,
    • গুদামজাতকরন ও সংরক্ষন করা,
    • খালি কণ্টেইনারের উত্তম ব্যবস্থাপনা,
    • এক পাত্র থেকে তা অন্য পাত্রে ঢালা,
    • পিপেটের সাহায্যে ক্যামিকেল ঢালা,
    • কাপড় বা সুতা ধোঁয়া,
    • রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থাপনা,
    • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা ও ব্যবহার।
    তাছাড়া ক্যামিকেল ষ্টোরে কাজ করার সময় ধূমপান করা, কোন কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় এসবের মাধ্যমে ক্যামিকেল মানবদেহে প্রবেশকরে মারাত্নক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। সতর্কতার সাথে রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে হবে। অনুবা তা বড় ধরনের দূর্যোগের সৃষ্টি করতে পারে।
     
     
    রাসায়নিক পদার্থ স্থানান্তর, ব্যবহার ও নারাচাড়ার সময় সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরন (পিপিই) ব্যবহার করতে হয়। সে গুলো হলোঃ
    • ক্যামিকেল প্রতিরোধক হ্যান্ড গ্লাভস,
    • ক্যামিকেল প্রতিরোধক পোশাক,
    • নিরাপত্তা মাস্ক,
    • নিরাপত্তা চশমা,
    • ক্যামিকেল প্রতিরোধক গামবুট ইত্যাদি।
  • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ঝুঁকি ও এর সংস্পর্শে আসলে করনীয় কি?

    রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ঝুঁকি ও এর সংস্পর্শে আসলে করনীয় কি?

    রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ঝুঁকি সমূহ – Risks of Using Chemicals

    অনিরাপদ ও অরিক্ষিত ব্যবহারের ফলে সৃষ্টি ঝুঁকি হচ্ছে রাসায়নিক ঝুঁকি। তাছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন রকমের তরল পদার্থ, কাজ চলাকালীন সময়ে উৎপাদিত ধূলা, ধোঁয়া, গ্যাস ও বাষ্প থেকে রাসায়নিক ঝুঁকির উৎপত্তি হয়।
     
    এ সকল রাসায়নিক পদার্থ নিঃশ্বাস, চামড়া বা ত্বকের সংস্পর্শ এবং গলাধঃকরনের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী রোগের সৃষ্টি করে। অনিরাপদভাবে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে লিভার ও কিডনির ক্যান্সার ছাড়াও চুলকানি, ফুয়াফুসের সমস্যা, মাথাব্যাথা, ত্বকের জ্বালাপোড়া, হজম জনিত সমস্যা, গর্ভধারনে নানান জটিলতা সহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
     
    অনিরাপদভাবে ক্যামিকেল বা রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সমূহ নিন্মরূপঃ
    ● দাহ্য পদার্থের নিকটে আসলে আগুন ধরতে পারে,
    ● উচ্চ তাপে ক্যামিকেল সংরক্ষন করাহলে বিস্ফোরণ হতে পারে,
    ● ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে বা কুঁচকে যেতে পারে,
    ● শরীরের কোন অংশ পুড়ে যেতে পারে,
    ● ত্বকে ফোষ্কা পড়া, র‍্যাশ বা চুলকানি হতে পারে,
    ● অস্বস্তি বোধ করা, চোখ জ্বালাপোড়া, ব্যাথা বা লাল হয়ে যেতে পারে,
    ● ক্যামিকেলের ধুলা বা ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশের করলে ফুসফুসের মারাত্নক ক্ষনির সম্ভবনা থাকে,
    ● পরিশোধন না করে ক্যামিকেল উন্মুক্ত পরিবেশে নিষ্পত্তির ফলে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়ে জলজ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
     
     

    রাসায়নিক দ্রব্য মানবদেহে প্রবেশের পথ – Routes of Chemical Exposure

    রাসায়নিক দ্রব্য মানবদেহে প্রবেশের পথ ৩ টি। যথাঃ
    ১. শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে,
    ২. ত্বকের মাধ্যমে,
    ৩. গলধঃকরন বা গিলে ফেলার মাধ্যমে।
     
     

    রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শে আসলে করনীয় কি? – What is actually to do with the Contact of Chemicals

    রাসায়নিক দ্রব্য বা ক্যামিকেল বিভিন্ন উপায়ে মানুষের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী মারাত্নক ক্ষতি করে। তাই এর সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
     
    নিচে তা আলোচনা করা হলোঃ
     
    • শরীরে লাগলেঃ ক্যামিকেল শরীরে লাগলে সাথে সাথে প্রচুর পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। শরীরের পোশাক, আংটি, বেল্ট, চুড়ি ইত্যাদি থাকলে দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। কারন কিছু ঝুকিপূর্ণ ক্যামিকেল আছে যেগুলো শরীরের চামড়া ও মাংস পুড়িয়ে ফেলে বা ফুলে উঠে।
     
    • চোখের সংস্পর্শে আসলেঃ কোন রাসায়নিক পদার্থ চোখে প্রবেশ করলে চোখের পাতা খোলা রেখে চোখে প্রচুর পরিমান পানি ঢালতে হবে। ১৫ মিনিট বা তার অধিক সময় ধরে নির্দিষ্ট কল দ্বারা চোখ ভালো করে ধুতে হবে এবং দ্রুত ডাক্তারের নিকট যেতে হবে।
     
    • নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলেঃ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে উক্তব্যক্তি কে দ্রুত খোলা বাতাসের নিকট নিতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
    • মুখে প্রবেশ করলেঃ ক্যামিকেল মুখের ভেতর প্রবেশ করলে বা গিলে ফেললে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
     
     

    রাসায়নিক পদার্থ বা ক্যামিকেল ব্যবহারের সাধারণ নির্দেশনাবলী – General Instructions for using Chemicals

    নিরাপদে রাসায়নিক পদার্থ বা ক্যামিকেল ব্যবহার ও গুদামজাতকরনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য ও সম্পদের অনাকাক্ষিত ঝুঁকি এড়ানো।
     
    নিচে এটি ব্যবহারের নির্দেশনা সমূহ উল্ল্যেখ করা হলোঃ
    • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যাতে চোখ ও শরীরে না লাগে,
    • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের পর ভাল করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে,
    • উপযুক্ত পিপিই মাস্ক, এপ্রোন, নিরাপদ চশমা, হাতমোজা, গামবুট ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে,
    • ক্যামিকেল ব্যবহার ও সংরক্ষণের স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    • ফ্লোরে ক্যামিকেল পরেগেলে সাথে সাথে স্পিল কিট দিয়ে তা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে,
    • সকল প্রকার খাবার, পানীয় ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে,
    • সঠিক মাত্রায় ক্যামিকেল ব্যবহার করা উচিত,
    • লেভেলবিহীন ক্যামিকেল ব্যবহার করা যাবে না,
    • অনুমতি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া কোন ক্যামিকেল মিশ্রিত করা যাবে না,
    • সহজে জ্বলে উঠে এমন কোন দাহ্য বস্তুর নিকটে রাসায়নিক পদার্থ রাখা যাবে না,
    • আগুনের প্রকৃতির ভিত্তিতে সঠিক পদ্ধতিতে অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রসমূহ ব্যবহার করতে হবে,
    • লেবেল বিহীন পাত্র বা খালি পাত্রে ক্যামিকেল ঢালা বা সংরক্ষণ করে যাবে না,
    • কাজ শেষ হলে কন্টেইনারের মুখ ভালো করে আটকিয়ে রাখতে হবে ও খালি কন্টেইনার নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে,
    • খাবার গ্রহণের পূর্বে ও কাজ শেষ হলে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • রাসায়নিক নিরাপত্তা কি? শ্রেণীবিন্যাস, প্রকারভেদ ও তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা

    রাসায়নিক নিরাপত্তা কি? শ্রেণীবিন্যাস, প্রকারভেদ ও তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা

    ক্যামিকেল কি? – What is Chemical?

    ক্যামিকেল হলো এমন এক স্বতন্ত্র আনবিক মিশ্রণ যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত বা কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।
     
     

    রাসায়নিক বা ক্যামিকেল নিরাপত্তা কি? – What is Chemical Safety?

    রাসায়নিক বা ক্যামিকেল নিরাপত্তা বলতে বুঝায় রাসায়নিক পদার্থের উৎপাদন থেকে শুরু করে বর্জ্য নিষ্কাশন পর্যন্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যা রাসায়নিক পদার্থ ঘটিত যেকোন দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
     
    প্রতিনিয়ত আমরা বিভিন্ন রকম ক্যামিকেল ব্যবহার করে থাকি। যেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা অভাবে প্রায়ই সময়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে প্রতি বছর শ্বাস-প্রশ্বাস, ত্বক ও গলধঃকরনের মাধ্যমে নতুন করে মানুষ অসুস্থার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে, অগ্নি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে ও সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। তাই সঠিক পদ্ধতি ও আইন যেনে রাসায়নিক বা ক্যামিকেল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরী হয়ে পরেছে।
     
     

    রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা – Importance of Chemical Management

    স্বাস্থ্য ঝুঁকি, অগ্নি ঝুঁকি সহ বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
     
    নিচে তা উল্ল্যেখ করা হলোঃ
    ● অগ্নি ঝুঁকি কমিয়ে আনা,
    ● রাসায়নিক পদার্থের গুনগতমান অক্ষুণ্ণ রাখা,
    ● রাসায়নিক পদার্থের অপচয় কমিয়ে আনা,
    ● সুষ্ঠ কর্মপরিবেশ বজায় রাখা,
    ● পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনা,
    ● পন্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো,
    ● উৎপাদন বৃদ্ধি করা,
    ● উৎপাদিত পন্যের গুনগতমান বজায় রাখা
     
     

    ক্যামিকেলের শ্রেণীবিন্যাস ও প্রকারভেদ – Classification of Chemical Reaction

    বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন মানদন্ড ও লেভেল ব্যবহার করে ক্যামিকেলের তীব্রতা এবং বিষাক্ততা নিরূপণ করার চেষ্টার ফলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতো।
     
    তাই ২০০৩ সালে OHSA (ওসা) Globally Harmonized System of Classification and Labeling of Chemicals (GHS) প্রবর্তন করে। GHS হলো শ্রেনীবিন্যাস ও লেবেলিং এর জন্য আন্তর্জাতিক মানদন্ড।
    Globally Harmonized System (GHS) অনুযায়ি রাসায়নিক পদার্থ সমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
     
    যথাঃ
    ১. ফিজিক্যাল হ্যাজার্ড (Physical Hazard)
    ২. স্বাস্থ্যগত হ্যাজার্ড (Health Hazard)
    ৩. পরিবেশগত হ্যাজার্ড (Environmental Hazard)
     
    Globally Harmonized System (GHS) অনুসারে বিভাগ অনুযায়ি বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের উদাহরন, সাবধানতা ও চিহ্নের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেয়া হলোঃ
     

    ১. ফিজিক্যাল হ্যাজার্ডঃ

    • Flammable বা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থঃ এরোসল, ডিজেল, হাইড্রোজেন সালফাইড, পেট্রোল ইত্যাদি। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, উতপ্ত বস্তু, অতিরিক্ত তাপ, খোলা আগুন, ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে।
    • Oxidizer বা জারক রাসায়নিক পদার্থঃ নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহারের সময় অবশ্যই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামি (পিপিই) ব্যবহার করতে হবে।
    • Corrosive বা ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থঃ হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ইত্যাদি। ব্যবহারের সময় অবশ্যই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামি (পিপিই) ব্যবহার করতে হবে এবং নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।
     
    • Explosive বা বিস্ফোরণ ঝুঁকি সম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থঃ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড। ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তামূলক সরঞ্জামি (পিপিই) ব্যবহার করতে হবে।
     
    • কম্প্রেসড গ্যাসঃ হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি। ব্যবহারের সময় অবশ্যই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামি (পিপিই) পরিধান করতে হবে ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
     

    ২. স্বাস্থ্যগত হ্যাজার্ডঃ

    • Fatal বা মারাত্নক ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থঃ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কষ্টিক সোডা), এনামেল পেইন্ট ইত্যাদি। ব্যবহারের সময় উপযুক্ত পিপিই ব্যবহার করতে হবে এবং যেকোন প্রকার খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
     
    • Intense Baneful বা তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থঃ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড ইত্যাদি। এ ধরনের পদার্থ বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক বলে এগুলো ব্যবহারের সময় সতর্ক মূলক ব্যবস্থা হিসেবে পিপিই পরিধান করতে হবে ও কোন কিছু খাওয়া যাবে না।
     
    • Harrowing বা যন্ত্রনাদায়ক রাসায়নিক পদার্থঃ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড ইত্যাদি। ব্যবহারের সময় অবশ্যই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামি ব্যবহার করতে হবে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
     

    ৩. পরিবেশগত হ্যাজার্ডঃ

    এটি পরিবেশের উপর ঝুঁকি সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পদার্থ। উদাহরনঃ অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, ইত্যাদি। এ ধরনের পদার্থ পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ জন্য রাসায়নিক বর্জ আবাদি জমিতে ব্যবহার অথবা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।