নিরাপত্তা

ডাটা রিকভারি কি? এবং ডাটা রিকভারি কিভাবে করে?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মূলত কম্পিউটার, মোবাইল, হার্ডড্রাইভ বা ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে যায়, হার্ডড্রাইভ নষ্ট হয়ে যায়, বা সিস্টেম ক্র্যাশ করে—তখন সেই তথ্যগুলো ফেরত আনার প্রয়োজন পড়ে। ঠিক এখানেই কাজে আসে ডাটা রিকভারি (Data Recovery)। ডাটা রিকভারি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া, ভুল করে ডিলিট হওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত বা ফরম্যাট হয়ে যাওয়া ডেটা পুনরুদ্ধার করা হয়। এটি শুধু সফটওয়্যার দিয়েই নয়, কখনো কখনো বিশেষ হার্ডওয়্যার বা ল্যাব–লেভেলের প্রযুক্তি ব্যবহার করেও করা হয়। ব্যবসায়িক তথ্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত স্মৃতিময় ছবি—সবকিছু ফিরিয়ে আনার জন্য ডাটা রিকভারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।

ডাটা কি?

সাধারণ ভাবে ডাটা বলতে বুঝায় ইনফরমেশন বা কোন তথ্য। যা হতে পারে টেক্সট, ফোটো, অডিও, ভিডিও ও কোন ডুকোম্যান্ট। আমাদের যাবতিয় তথ্যগুলা মূলত এ কয়টি ফরমেটেই পেন ড্রাইভ, হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ, সলিড স্টেট ড্রাইভ, এস.ডি. কার্ড বা যেকোন ডিজিটাল স্টোরেজে সংরক্ষিত থাকে। বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এ ডাটা গুলো ডিলিট হয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়।

ডাটা রিকভারি কি?

ডাটা রিকভারি বলতে বুঝায় কোন পেন ড্রাইভ, হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ, সলিড স্টেট ড্রাইভ, এস.ডি. কার্ড বা যেকোন ডিজিটাল স্টোরেজ থেকে কোন ডাটা নষ্ট বা ডিলিট হয়ে গেলে তা উদ্ধার পরার প্রক্রিয়াকে।

তাই বলা যায়, আপনার কোন মূল্যবান তথ্য বা ডাটা হারিয়ে গেলে তা কোন সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের, টুলস অথবা ডাটা রিকভারি ল্যাবের সাহায্যে উদ্ধার করাকেই ডাটা রিকভারি বলে।

কি কি কারনে ডাটা নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

মূলত ১০ বিশেষ কারনে ডাটা নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেগুলা হলো। যথঃ

১. কোন ভুলের কারনে ডিলিট হওয়া,

২. সফটওয়্যারের ত্রুটির কারনে,

৩. কোন ভাইরাসের কারনে,

৪. হ্যাকিং এর কবলে পরলে,

৫. হার্ড ডিস্কের হার্ডওয়্যার কোন কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে,

৬. হার্ড ডিস্ক ক্রাস করলে,

৭. হার্ড ডিস্ক হঠাৎ অকেজো হয়ে গেলে,

৮. বিদ্যুতের পাওয়ারের উঠানামার কারনে,

৯. ডাটা করাপশন হলে,

১০. অপারেটিং সিস্টেমে কোন সমস্যা হলে।

ডাটা রিকভারি কিভাবে করে?

এ কাজটি সম্পূর্ন করতে অবশ্যই একজন ডাটা রিকভারি এক্সপার্ট প্রয়োজন। কারণ এ কাজটি মোটেও কোন সাধারণ কাজ নয়।

ডাটা রিকভারি শুরু করার জন্য নিচের বিষয় গুলা নিশ্চিত করতে হয় প্রথমেঃ

১. ল্যাবটি বদ্ধ অবস্থায় আছে,

২. ল্যাবটি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন আছে এবং

৩. ল্যাবটি সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের মধ্যে আছে।

কারণ, সাধারণ একটি ধূলিকনাও হার্ডড্রাইভকে স্পর্শ করতে পারলেই সম্পূর্ন হার্ডড্রাইভকে অকেজো করে দিতে পারে।

ডাটা রিকভারি কি সত্যই সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। এখন আধুনিক প্রযুক্তি কল্যাণে খুব সহজে ডাটা রিকভারি করা সম্ভব। তবে তা নির্ভর করে মূলত ২ টি জিনিসের উপর। তা হলোঃ

১. কি ভাবে আপনার ডাটাগুলো হারিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে এবং

২. আপনার ডিজিটাল স্টোরেজ ডিভাইসটি বর্তমানে কি পজিশনে আছে।

ডাটা রিকভারি করার পদ্ধতি

উপরের বিষয় গুলা নিশ্চিত হবার পর একজন ডাটা রিকভারি এক্সপার্ট বিশেষ ভাবে তৈরি করা পোষাক পরে করে কাজ শুরু করেন।

ডাটা রিকভারি এক্সপার্ট বিভিন্ন টুলস, সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে নিবির পর্যবেক্ষন ও কয়েকটি ধাপে ডিলিটকৃত ডাটা গুলোর লোকেশন চিহ্নিত করে ডাকা রিকভার করতে সক্ষম হন।

নোটঃ এ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ন ডাটা রিকভারি এক্সপার্টদের কাজ। কখনো আপনার কোন মূল্যবান ডাটা ডিলিট হলে বা হারিয়ে গেলে সাথে সাথে উক্ত ডিভাইস টি অফ করে দিন এবং নতুন করে কোন ডাকা যুক্ত করবেন না। ইন্টারনেট অন থাকলে অফ করে দিবেন।

ডাটা রিকভারি সেন্টারঃ আপনার ডাটা রিকভারির কাজটি বর্তমানে বাংলাদেশের ১ নাম্বার ডাটা রিকভারি সার্ভিস “ডাটা  রিকভারি স্টেশন” থেকে করিয়ে নিতে পারেন। ডাটা  রিকভারি স্টেশন ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে সুনামের সাথে ডাটা রিকভারি সার্ভিস প্রদান করে আসছে।

শেষ কথা

অতীতে রিকভারির কাজটি ছিলো অনেক কঠিন কিন্তু বর্তমানে ডাটা রিকভারি এক্সপার্টদের কারনে তা খুব সহজ হয়ে গেছে।

তাই কখনো আপনার মূল্যবান কোন ডাটা হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে অতি দ্রুত ডাটা রিকভারি এক্সপার্ট বা কোন ডাটা রিকভারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button