Category: ভবনের নিরাপত্তা

  • ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের নিরাপত্তার সর্বত্তোম প্রক্রিয়াসমূহ

    ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের নিরাপত্তার সর্বত্তোম প্রক্রিয়াসমূহ

    আধুনিক নগরায়নের এই যুগে শুধু দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; সেই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এখন একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিভিন্ন বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সরকারি ভবনে প্রবেশ করে—তাদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি ভবন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অগ্নি–নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, সিসিটিভি মনিটরিং, অ্যালার্ম সিস্টেম থেকে শুরু করে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী—সবকিছুই একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।


    সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কেবল দুর্ঘটনা প্রতিরোধেই নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবন পরিচালনায় সর্বোত্তম নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আজকের দিনে বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।

    ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কি? – What is Building Safety?

    অগ্নিঝুকি প্রতিরোধ ও যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ভবনকে রক্ষা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যে সকল নিরাপত্তা কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহন করা হয় তাকে ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বলে।
     
    ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবনের আকার ও তার ব্যবহারের ধরনের উপর নির্ভর করে। ভবন ছোট অথবা বড় যাই হোক না কেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে।
     

     

    ভবনের শ্রেণিবিভাগ – Building Classification Types

    বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার অনুযায়ী প্রতেকটি ভবনকে আলাদা করা হয়েছে। এগুলো হলঃ

    ধরন

    ভবনের শ্রেণীবিভাগ

    A

    আবাসিক

    B

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    C

    প্রাতিষ্ঠানিক (কেয়ার)

    D

    হেলথ কেয়ার

    E

    ব্যবসা

    F

    বাণিজ্যিক

    G

    শিল্প কারখানা

    H

    সংরক্ষণাগার

    I

    জনসমাবেশ

    J

    বিপজ্জনক

    K

    গ্যারেজ

    L

    উইটিলিটিস

    M

    অন্যান্য ভবন

    ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? – Why Building Maintenance is Important?

    অপরিকল্পিত ভাবে ভবন নির্মাণ, বিল্ডিং কোড অনুসরন না করা, অবহেলা, প্রশিক্ষন ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রসমূহের সঠিক ব্যবহারবিধি না জানার কারনে প্রতি বছর ভবনধ্বস, ভবন থেকে আগুনে ও তা থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে বহু লোক মারা যাচ্ছে।
     
    বর্তমানে বাংলাদেশে ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। এর ফলে এক দিকে যেমন ঝড়ে যাচ্ছে তাজা প্রান অন্যদিকে বাড়ছে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমানও। তাই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
     
    নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার, নির্মাণ ত্রুটি, নীচু জমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ, প্রচলিত ইমারত নির্মান আইন ও নগর পরিকল্পনার কথা বিবেচনা না করে ভবন নির্মানের প্রবণতা ভবনধ্বস ও অগ্নি দুর্ঘনার জন্য দায়ি। সম্প্রতি রানা প্লাজায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা বাংলাদেশে সহ বিশ্ববাসি সকলেরই জানা।
     
    এটি মূলত ভবনধ্বস, একে মানব সৃষ্ট দুর্যোগও বলা চলে। অগ্নি দুর্ঘটনার মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার ও বাংলাদেশে তাজরীন ফ্যাশনের কথা মনে রাখবে সবাই।
     
    এ সকল ঝুঁকি নিরসন ও ভবনকে অগ্নি নিরাপত্তার আওতায় আনার জন্য ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা সংশিষ্ট আইন সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা ভবনের আকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।
     
     

    ভবনের নিরাপত্তার সর্বত্তোম প্রক্রিয়াসমূহ – Building Safety Procedures

    • বিল্ডিং নকশা তৈরি করার পূর্বেই অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা মাটির গুনাগুন বিশ্লেষন ও মাটির ধারণক্ষমতা পরিক্ষা করে নিতে হবে,
    • নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ফ্লোর বা উপরের তলার ছাঁদে টিনশেড নির্মাণ করা যাবে না,
    • সঠিক অনুপাতে উন্নতমানের রড, সিমেন্ট বালি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে হবে,
    • অবশ্যই কলাম, বিম ও স্ল্যাব বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে হবে,
    • দেয়াল কিংবা মেঝেতে কোন ফাটল বা হেলে পড়া দেখতে পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে,
    • ভবনের নির্দিষ্ট কোন ফ্লোর অতিরিক্ত লোড করে ভারি মেশিন, মাল বা যন্ত্রপাতি রাখা যাবে না,
    • নিচতলায় পার্কি রাখলে ঐ তলার পিলারগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করতে হবে,
    • নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প ও অগ্নি প্রতিরোধক নিয়মাবলি প্রয়োগ করতে হবে,
    • যে কোন ফ্লোর হতে সম্পূর্ণ ভবনে দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    • পর্যাপ্ত এলার্ম ও ডিটেকশন সিস্টেম ইনস্টল করতে হবে,
    • অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জমাদি অবশ্যই থাকতে হবে,
    • ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে উপযুক্ত উপকরন রাখতে হবে,
    • জরুরী পাওয়ার সাপ্লাই থাকতে হবে,
    • ফারায় লিফট থাকা প্রয়োজন,
    • প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার ব্যারিয়ার ব্যবহার করতে হবে,
    • ভবনথেকে নিরাপদে বের হবার জন্য পর্যাপ্ত বহিগর্মন পথ রাখতে হবে,
    • নিরাপদে বের হবার পর সমাবেশ স্থান (এসেম্বলি পয়েন্ট) থাকতে হবে,
    • সিঁড়ির প্রস্থ ও ঢাল নির্ধারনে আইন মানা জরুরী,
    • অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা ব্যবহার করতে হবে,
    • প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার ব্যারিয়ার ব্যবহার করতে হবে,
    • সকল প্রকার চিহ্ন,প্রতিক,সংকেত ও নির্দেশনা ভবনের প্রতি ফ্লোরের এমন স্থানে রাখতে হবে যা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়,
    • ভবনের ভেতরে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে ভবনের বাইরে ধূমপানের জন্য আলাদা জোন নির্ধারন করে তা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করে টানিয়ে দিতে হবে,
    • নিশ্চিত হতে হবে ভবনের কাছা-কাছি স্থানে জলাধার অথবা নিজস্ব পানি সংরক্ষণাগার রয়েছে,
    • সম্পূর্ণ ভবন ও তার আসে-পাশে কোথায় কি কি আছে তার নির্দেশনা চিত্রাআকারে উল্লেখ করে দেয়াল/বোর্ডে টানিয়ে দিতে হবে,
    • প্রত্যেকটি ফ্লোরে ন্যূনতম ১টি গ্রিলবিহিন কজ্বাসংযুক্ত জানালা থাকতে হবে যাতে জরুরী প্রয়োজনে খুলে লেডার বা দড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসা যায়,
    • অগ্নি নিরাপত্তা কমিটি ও প্রশিক্ষিন জনবল থাকতে হবে এবং
    • চাহিদা অনুসারে আরো অনেক সরঞ্জাম ও পদ্ধতি ইনস্টল/অনুসরন করতে হবে।
     
    ভবনের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারন অভিজ্ঞ ষ্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া, আইন না মেনে যত্রতত্র ভবন নির্মানের ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমান ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
     
    যা বর্হিবিশ্বের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি দেশিয় অর্থনিতিতে নেতি বাচক প্রভাব বিস্তার করছে।
    তাই আমাদের সবাইকে নতুন ও বিধ্যমান ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে অবশ্যই আরো মনযোগী হতে হবে এবং অ‌ভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ই‌ন্জি‌নিয়ার দ্বারা ভবন নির্মান করতে হবে।
  • সিঁড়ি, আইলস মার্ক, হ্যান্ড রেইল ও গার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

    সিঁড়ি, আইলস মার্ক, হ্যান্ড রেইল ও গার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

    সিঁড়ি – Stairs

    যে সকল প্রতিষ্ঠানের ভবনে বা ভবনের কোন অংশে নিচ তলার উপরে ২০ জন বা তার অধিক লোক কাজ করে অথবা দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা/জমা রাখা হয় সেক্ষেত্রে জরুরী মুহুর্তে বের হবার জন্য স্থায়ীভাবে ন্যূনতম দুটি মজবুত ও পৃথক সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
     
    এগুলো অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা তৈরি এবং বাধামুক্ত হতে হবে। কত জন লোকের জন্য কমপক্ষে কতটি সিঁড়ি প্রয়োজন তা নিচে দেয়া হলোঃ
     

    মোট জনসংখ্যা/শ্রমিক সংখ্যা

    সিঁড়ির সংখ্যা

    ৫০০ বা তার কম হলে ন্যূনতম

    ২ টি

    ৫০১ থেকে ১০০০ হলে ন্যূনতম

    ৩ টি

    ১০০০ এর অধিক হলে ন্যূনতম

    ৪ টি

     

     

    সিঁড়ির প্রস্থের মাত্রা – Stairs Width Regulations

    ইমারত নির্মাণবিধিমালা ও আইন অনুসারে বিভিন্ন ধরণের ভবনের ক্ষেত্রে সিঁড়ির প্রস্থ বিভিন্ন হবে। যেমনঃ

    ধরন

    দখল

    সিঁড়ির ন্যূনতম প্রস্থ (মি.)

    A

    আবাসিক ভবন

    একক পরিবার

    ১.০

    ফ্লাট বা আপার্টমেন্ট

    ১.১৫

    হোস্টেল,মেস ও বোর্ডিং

    ১.২৫

    হোটেল ও লজিং ঘর

    ১.২৫

    B

    শিক্ষাবিষয়ক ভবন

    ১.৫

    C

    প্রাতিষ্ঠানিক ভবন (কেয়ার)

    ১.৫

    D

    হেলথ কেয়ার ভবন

    ২.০

    E

    ব্যবসা ভবন

    অফিস

    ১.৫

    F

    বাণিজ্যিক ভবন

    ছোট দোকান ও মার্কেট

    ১.৫

    বড় দোকান ও মার্কেট

    ২.০

    জরুরী সেবা

    ১.৫

    I

    সমাবেশ ভবন

    ২.০

    M

    অন্যান্য ভবন

    ১.২৫

     

     

    বিদ্যমান ও নতুন ভবনের সিঁড়ির জন্য বিধিমালা – Rules for Existing and New Building Stairs

    ● সিঁড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং অন্ধকারাছন্ন ও ধোয়াচ্ছন্ন যাতে না হতে পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে,
    ● প্রত্যেক ফ্লোর বা তলার প্রবেশ মুখে, দরজার কাছে সিঁড়ি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য,চিহ্ন বাংলা ও ইংরেজিতে টানিয়ে দিতে হবে,
    ● ৬ তলা পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের কোন সিঁড়ি প্রস্থ ১.১৫ মিটারের কম এবং ৬ তলার অধিক উচ্চতা সম্পন্ন ভবনের ক্ষেত্রে সিঁড়ির প্রস্থ ২.০০ মিটারের কম হতে পারবে না,
    ● অগ্নিকান্ডের সময় ভবনের প্রত্যেক তলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী নূন্যতম একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বিহির্গমনের ব্যবস্থা থাকতে হবে,
    ● সিঁড়িগুলো নিরাপদ বেষ্টনীসহ সরাসরি খোলা স্থানে বা নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্বে খুলতে হবে,
    ● সমতল হতে সিঁড়িগুলোর কৌণিক দুরত্ব ৪৫° কোণের অধিক হতে পারবে না,
    ● শিল্প কারখানার ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপদ সিঁড়ি ১.৫ মিটার ও ৫৯ ইঞ্চির কম হতে পারবে না,
    ● সিঁড়ি বা বর্হিগমন পথ কোন শ্রমিকের কাজের স্থান থেকে পঞ্চাশ মিটারের অধিক দূরত্বে হতে পারবে না,
    ● নূন্যতম অর্ধেক সংখ্যক সিঁড়ির শেষ ভাগ ভবনের বাহিরের দিকে থাকতে হবে,
    ● প্রত্যেক সিঁড়ির উভয়পাশে হাতল দিতে হবে এবং প্রয়োজনে মধ্যবর্তী হাতল ব্যবহার করতে হবে।
     
     

    হ্যান্ড রেইল ও গার্ড – Handrail and Guardrail

    সিঁড়িতে হ্যান্ড রেইল থাকা জরুরী কিন্তু উক্ত সিঁড়ি রেলিং স্থাপনের জন্য প্রশস্ততা যদি ১.১৫ মিটারের কম হয় তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। হ্যান্ড রেইল ও গার্ড সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। সেগুলো হলোঃ
     
    ● অগ্নিকান্ড সংগঠিত হলে বের হবার জন্য যে সিঁড়ি ব্যবহার করা হবে তার উভয়পাশে মজবুত হ্যান্ড রেইলিংযুক্ত থাকতে হবে,
    ● সিঁড়ি ও সিঁড়ির রেইল তার অপরিবাহী ও অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মিত হতে হবে,
    ● নতুন হ্যান্ড রেইল উচ্চতার নূন্যতম ৮৬৫ মি.মি. (৩৪ ইঞ্চি) ও সর্বোচ্চ ৯৬৫ মি.মি.(৩৮ ইঞ্চি) হতে হবে,
    ● পুরাতন হ্যান্ড রেইল যেগুলো ৭৬০ মি.মি. (৩০ ইঞ্চি) এর কম বা ১১০০ মি.মি. (৪৪ ইঞ্চি) এর বেশি, তা উপরোক্ত বিধি অনুসারে প্রতিস্থাপন করতে হবে,
    ● বর্হিগমন পথের খোলা যায়গা যেখানে ফ্লোর হতে উচ্চতা ৭৬০ মি.মি. (৩০ ইঞ্চি) এর বেশি হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপত্তা গার্ড ব্যবহার করতে হবে,
    ● নতুন গার্ডের নূন্যতম উচ্চতা হবে ১০৬৭ মি.মি. (৪২ ইঞ্চি) এবং বিদ্যমান গার্ডের ক্ষেত্রে নূন্যতম উচ্চতা হবে ৭৬০ মি.মি. (৩০ ইঞ্চি)।
     
     

    আইলস মার্ক – Aisles Mark

    আইলস মার্কিং এর ক্ষেত্রে এর প্রশস্ত প্রতি তলায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়। আইলস মার্ক নির্ধারন ও এর বিধান সমূহঃ
    • ৫০ জন বা তার কম ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ০.৯ মিটার ও ৫০ জনের বেশী ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ১.১ মিটার প্রশস্ত হবে,
    • দেয়াল হতে যন্ত্রপাতির দূরত্ব কমপক্ষে ১ মিটার হতে হবে এবং যন্ত্রের পাশে চলাচলের জন্য ১ মিটার প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হবে। তবে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে যে ক্ষেত্রে স্থান সংকুলনের ব্যবস্থা নেই সে ক্ষেত্রে দেয়াল হতে যন্ত্রপাতির দূরত্ব ও চলাচলের রাস্তা নূন্যতম ০.৭৫ মিটার রাখতে হবে।
     
  • ফায়ার এলার্ম ও স্মোক ডিটেক্টর সিস্টেম – প্রয়োজনীয় আইন সমূহ

    ফায়ার এলার্ম ও স্মোক ডিটেক্টর সিস্টেম – প্রয়োজনীয় আইন সমূহ

    ফায়ার এলার্ম সিস্টেম – Fire Alarm Systems

    আগুন লাগলে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত লোকদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যে সতর্কতা সংকেত দেয়া হয় বা বাজানো হয় তাকে ফায়ার এলার্ম সিস্টেম বা অগ্নি হুশিয়ারী সংকেত বলে।
     
    ফায়ার এলার্ম সিস্টেম হলো মূলত আগুনের অবস্থান নির্দেশ এবং ঘোষণা করার একটি সম্মিলিত মাধ্যম। এ এলার্ম সিস্টেমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
     
    যথাঃ
    ১. অটোমেটিক এলার্ম সিস্টেম (Automatic Fire Alarm Systems)
    ২. ম্যানুয়াল এলার্ম সিস্টেম (Manual Fire Alarm Systems)
     
     

    অটোমেটিক এলার্ম সিস্টেম

    স্বয়ংক্রিয় এলার্ম সিস্টেম হলো এমন এলার্ম সিস্টেম যেটি কয়েকটি ডিটেকটরের সম্মিলিত রূপ যা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং তারের উভয় দিকে কন্ট্রোল প্যানেলে সংযোগ দেয়া হয়।
     
    এ সিস্টেমে প্রত্যেক ডিটেকটরের একটি নির্দিষ্ট লোকেশন থাকে যাতে যে ডিটেকটরটি সংকেত দেয় তাকে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। বহুতল ভবন বা ক্যাম্পাসের জন্য এ সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
     
    এ এলার্ম ব্যবস্থা দু ধরনের। যথাঃ সিংগেল ষ্টেজ ও টু ষ্টেজ।
     
    সিংগেল ষ্টেজঃ যে ক্ষেত্রে সমগ্র ভবনের এর এলার্ম বাজার নির্দিষ্ট সময় পর তা নিজে নিজে বন্ধ হয়ে যায় তাকে সিংগেল ষ্টেজ ফায়ার এলার্ম বলে।
     
    টু ষ্টেজঃ যে ক্ষেত্রে সমগ্র ভবনের এর এলার্ম বাজার নির্দিষ্ট সময় পর তা নিজে নিজে বন্ধ হয় না তাকে সিংগেল ষ্টেজ ফায়ার এলার্ম বলে।
     
     

    ম্যানুয়াল এলার্ম সিস্টেম

    সাধারনত ছোট স্থানের জন্য ম্যানুয়াল এলার্ম সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এই এলার্ম সিস্টেমে সাধারন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় ফলে তা অটোমেটিক এলার্ম সিস্টেমের তুলনায় খরচ খুব কম।
     
    এতে সুইচ,এলিডি ও বেল ব্যবহার করা হয়। স্বয়ংক্রিয় এলার্ম সিস্টেম সহজলভ্য ও জনপ্রিয় হওয়ায় এর ব্যবহার অনেক কমে গেছে।
     
     

    ফায়ার এলার্ম বা অগ্নি হুশিয়ারী সংকেত ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আইন – Fire Alarm Laws

    ● ম্যানুয়াল ফায়ার এলার্ম বক্সগুলো এক্সিট ডোরের ৫ মিটারের মধ্যে স্থাপন করতে হবে।
    ● দুটি ম্যানুয়াল ফায়ার এলার্ম বক্সের মধ্যে ২০০ ফুটের কম দূরত্ব হতে হবে,
    ● এলার্ম ঘোষনার জন্য প্রত্যেকটি ফ্লোরে আলাদা আলাদা ডিটেকটর থাকতে হবে,
    ● ম্যানুয়াল ফায়ার এলার্ম বক্সগুলো এমন ভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে তা ৪২ ইঞ্চির উপরে এবং ৪৮ ইঞ্চির উপরে না হয়,
    ● এলার্ম সিস্টেমের ঘোষণা এমন হতে হবে যেন তা চোখে দেখা যায় ও কানে শোনা যায়,
    ● এলার্ম সিস্টেমের মাইক গুলো ফ্লোর থেকে ৯০ ইঞ্চির উপরে ও ছাদ থেকে ৬ ইঞ্চির নিচে স্থাপন করতে হবে,
    ● গংবেল ও অটোমেটিক এলার্ম সিস্টেম সংরক্ষণ করতে হবে।
     

    স্মোক ডিটেক্টর সিস্টেম – Smoke Detector System

    স্মোক ডিটেক্টর এমন একটি সেন্সর যা কোথাও আগুন লাগলে সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে আগুন নির্ণয় করে ও এলার্ম দিয়ে সকলকে জানিয়ে দেয়। সব সময় এটি সঠিক সংকেত দেয় না। ভুল সংকেত দিয়ে স্মোক ডিটেক্টর মাঝে মধ্যে মারাত্বক ঝামেলায় ফেলে।
     
    যে সব কারনে এটি ভুল সংকেত দিয়ে থাকে তা হলোঃ
    ● ডিটেক্টরের ভিতরের শর্ট সার্কিট,
    ● পানি প্রবেশ করা বা এর কাছাকাছি স্থান স্যাঁতস্যাঁতে হওয়া,
    ● ধূলা-বালি প্রবেশ করলে,
    ● আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটা,
    ● সঠিক ভাবে স্থাপন না করা,

    ● পর্যাপ্ত রক্ষনাবেক্ষনের অভাব ইত্যাদি।

     
     
    ভুল সংকেত প্রতিরোধে করনীয়ঃ
    • এর ভেতরে যাতে ধূলা-বালি না ঢোকে খেয়াল রাখতে হবে,
    • বিধান অনুযায়ী স্থাপন করতে হবে,
    • মাঝে মাঝে খুলে পরিষ্কার করতে হবে,
    • নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষন ও ১ বছর পরপর সব ডিটেক্টর চেক করতে হবে,
    • পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা ও স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দূর করা,
    • প্রয়োজনবোধে কোন অংশ বা কোন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা।
     
     

    স্মোক ডিটেক্টর ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আইন – Smoke Detector Law

    ● প্রয়োজন অনুসারে প্রত্যেক ফ্লোরে স্মোক ও হিট ডিটেক্টর স্থাপন করতে হবে,
    ● ২২৫ বর্গ ফিট বা প্রস্তুতকারকের নির্দিষ্টকরণ এর মধ্যে যেটি ছোট তার উপর ভিত্তি করে স্মোক ডিটেক্টর ব্যবহার করতে হবে,
    ● এটি সিলিং এ ব্যবহার করতে হবে,
    ● ওয়ালের ক্ষেত্রে সিলিং থেকে ১২ ইঞ্চির মধ্যে স্থাপন করতে হবে,
    ● দুটি স্মোক ডিটেক্টরের মধ্যে দূরত্ব হবে ৩০ ফিট,
    ● স্থাপন করার পর থেকে ১ বছর পরপর ডিটেক্টরগুলো চেক করতে হবে এবং ৫ বছরের মধ্যে সকল স্মোক ডিটেক্টর চেক করতে হবে।
  • অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা – ব্যবহারের নিয়মাবলী ও প্রয়োজনীয়তা

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা – ব্যবহারের নিয়মাবলী ও প্রয়োজনীয়তা

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজা কি? – What is Fire Rated Door?

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজা হলো এমন একটি কাঠামো যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আগুন, ধোঁয়া ও গ্যাস প্রবেশে বাধা প্রদান করে। এছাড়াও এ দরজা এক রুম থেকে অন্য রুমে, এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে আগুন, ধোঁয়া ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
     
    এখন সচেতন প্রত্যেক ভবন/প্রতিষ্ঠান/কারখানার মালিকগণ অগ্নি প্রতিরোধ তথা অগ্নি জনিত দুর্ঘটনার ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ব্যবহার করছেন।
     
     

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজার প্রকারবেদ – Types of Fire Doors

    বাহ্যিক দৃষ্টিকোন বিচার করে ফায়ার ডোর কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
     
    যথাঃ
    ১. রোলিং ষ্ট্রিল ফায়ার ডোর (Rolling Steel Fire Door)
    ২. ডাবল ফায়ার ডোর (Double Fire Door)
    ৩. সুইংগিং ফায়ার ডোর (Swing Fire Doors)
     
     

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজা কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত? – Fire Door Materials

    অগ্নি প্রতিরোধক দরজা বিশেষ ভাবে তৈরি এমন একটি দরজা যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগুন ও তাপ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই এই দরজা তৈরিতে বিশেষ কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ কাঁচ, কাঠ, ষ্টিল, জিপসাম, এলুমিনিয়াম ও ভারমিকুলাইড বোর্ড ইত্যাদি।
     
     

    ফায়ার ডোরের প্রয়োজনীয়তা – Importance of Fire Doors

    আগুনে পুরে প্রতি বছর অনেক লোক মারা যায় অথবা উক্ত আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে গুরুতর আহত হচ্ছে, এমনকি মারাও যাচ্ছে। ফলে জীবন হানির পাশাপাশি সম্পদের ক্ষতি হয়।
     
    আমাদের মূল্যবান জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য এবং আগুনের বিস্তার, তাপ, গ্যাস ও ধোঁয়া দ্রুত রোধ করতে ফায়ারডোর স্থাপন করা অত্যান্ত জরুরী। ফায়ার ডোর অবশ্যই সার্টিফাইড হতে হবে, অন্যথায় তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
     
    বর্তমান সময়ে এটি জীবন ও সম্পদের হানি রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই অগ্নি প্রতিরোধে ফায়ার ডোর সত্যই এক অসাধারণ আবিষ্কার যা জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে।
     
     

    ফায়ার ডোর ও বহির্গমন দরজার মান নির্ধারন করার বিষয়গুলো ও নিয়মাবলী [Fire Door and Exit Door Standards]

    • পাঁচ তলা বা তার অধিক উচ্চতার ভবনের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
    • চার তলা বা তার অধিক উচ্চতার ভবনের জন্য – ১ ঘন্টা
    • গুদামঘড় এবং সংরক্ষাগারের জন্য – ৪৫ মিনিট
    • জেনারেটর রুমের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
    • ট্রান্সফর্মার রুমের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
    • বহির্গমনের এসেসের জন্য ন্যূনতম – ১ ঘন্টা
    • বহির্গমন করিডোরে যাওয়ার দরজার ন্যূনতম – ৩০ মিনিট
    • বহির্গমন দরজা হিসাবে স্লাইডিং ডোর ব্যবহার করা যাবে না,
    • বহির্গমন দরজার প্রস্থ ১ মিটার ও উচ্চতা ২ মিটারের কম হতে পারবে না,
    • ভিতর থেকে এবং বাহিরের দিকে তাৎক্ষনিকভাবে খোলা যায় এমন দর/জা ব্যবহার করতে হবে,
    • অগ্নি কান্ডের সময় সকলে যাতে সহজেই বর্হিগমন দরজা চিনতে/বুঝতে পারে তাই লাল রং দ্বারা লিখে বা অন্য কোন চিহ্ন ব্যবহার করে চিহ্নিত করে দিতে হবে,
    • প্রতিষ্ঠানিক ভবনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা সকল ভবনের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ বা তার বেশী সেখানে ঘূর্নায়মান দরজা ব্যবহার করা যাবে না।
     
     
    নিচে একটি ছকের মাধ্যমে বহির্গমন দরজার সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও সর্বোচ্চ যাতায়াত দূরত্ব উল্লেখ করা হলোঃ-

    ভবনের শ্রেণী

    সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর সংখ্যা

    সর্বোচ্চ যাতায়াত দূরত্ব (মি.)

    ১. প্রাতিষ্ঠানিক

    ২. আবাসিক

    ৩. স্বাস্থ্যসেবা

    ১২

    ২৩

    ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    ৫. শিল্প কারখানা

    ৬. বাণিজ্যিক ভবন

    ৭. সমাবেশ, ধর্মীয় ভবন

    ৫০

    ২৩

    ৮. গুদাম ঘর

    ৩০

    ৩০

    ৯. বিপদজনক ভবন

     

     

    ফায়ার উইন্ডো [Fire Window]

    ফায়ার ডোরেয় পাশাপাশি ব্যবহার বাড়ছে ফায়ার উইন্ডোর। যদিও আমাদের দেশে অগ্নি প্রতিরোধক জানালার ব্যবহার তেমন নেই, তবে দ্রুত তা অগ্নি প্রতিরোধের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।
     
    ইউ,এস,এ সহ বেশ কিছু দেশ এ জানালা তৈরি করছে এবং দিন দিন তার চাহিদা বাড়ছে। ফায়ার উইন্ডো মূলত ঠান্ডা গঠিত ইস্পাত বিভাগ থেকে তৈরি।
     
    এটি ভবনের আকার, ব্যবহার কারীর চাহিদার ধরণের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন আকারের ও রং এর হয়ে থাকে। এ জানালাগুলো সাধারনত ২০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত অগ্নি প্রতিরোধে সক্ষম।
     
    নতুন র্স্পাক ফায়ার উইন্ডো একটি চমৎকার অগ্নি প্রতিরোধক উপাদান হিসেবে জনপ্রিয় যা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং দ্রুত ও খুব সহজে ইনস্টল করা যায়।
  • ভবনধ্বস থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – যা আপনার জানা উচিত

    ভবনধ্বস থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – যা আপনার জানা উচিত

    ভবনধ্বস এর মূল কারন হলো ভবনের দূর্বল কাঠামো ও পর্যাপ্ত প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকা।
     
    তাই এ দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অন্যন্য সকল বিষয় বিবেচনা করে ভবনধ্বস ঠেকাতে নিন্মক্তো বিষয় গুলো মেনে চলা জরুরী।
     
    ● সঠিক স্ট্রাকচারাল নকশা না হলে ভবন ভূমিকম্প ও ভবনধ্বস প্রতিরোধক হবে না। তাই ভবনের নকশা তৈরি করার পূর্বে স্ট্রাকচারাল নকশার বিধিগুলো অনুসরণ করতে হবে।
    ● মাটির গুনাগুন বিশ্লেষণ এবং মাটির ধারণক্ষমতা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করে রিপোর্ট করতে হবে।
    ● রিপোর্টের ভিত্তিতে যাচাই বাছাই করে ভবনের ডিজাইন করতে হবে।
    ● অপেক্ষাকৃত জটিল কাঠামোর জন্য ত্রিমাত্রিক ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে নকশা তৈরি করতে হবে।
    ● নতুন ভবনে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বিধিগুলো প্রয়োগ করলে ২% থকে ৩% নির্মাণ খরচ বাড়ে তাই অবশ্যই ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিষটি মাথায় রাখতে হবে।
    ● ভবনের গুনগত মান ঠিক রাখতে ভবন নির্মাণের সমস্ত তদারকির দায়িত্ব অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর হতে দিতে হবে।
    ● নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে কোন ফ্লোর নির্মাণ, বা ফাঁকা রাখা যাবে না।
    ● ইঞ্জিনিয়ারকে “বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড” অনুসরন করে বিল্ডিংকে ভূমিকম্প প্রতিরোধেক করে নির্মান করতে হবে।
    ● সঠিক পরিমানে সিমেন্ট, বালি, রড ও কংক্রিট ব্যবহার করতে হবে। কংক্রিটে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না। কারন ঢালাই এর পর কংক্রিটের কিউরিং করতে পানির ব্যবহার করা হয়।
    ● ভালো মানের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রড ব্যবহার করতে হবে। র্ষ্ক্যাপ থেকে তৈরি রড ব্যবহার করা যাবে না।
    ● নিচ তলায় পার্কিং রাখলে সেখানে অবশ্যই পিলারগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করতে হবে। কংক্রিটের দেয়াল তৈরি করে পিলারগুলোকে আটকিয়ে দিতে হবে।
    ● প্রয়োজনে অতিরিক্ত দেয়াল সঠিক স্থানে বসিয়ে ভূমিকম্পরোধ শক্তির পরিমান বাড়াতে হবে।
    ● হঠাৎ ভবন বা কোন কক্ষের মাপ কমানো যাবে না। যদি কমানো আবশ্যিক হয় তবে ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ পূর্বক প্রতিক্রিয়া জেনে ডিজাইন করতে হবে।
    ● ভূমিকম্প প্রতিরোধের জন্য ৫ ইঞ্চি ইটের দেয়াল নিরাপদ নয়। এই দেয়ালগুলো ছিদ্রযুক্ত ইটের ভেতরে চিকন রড দিয়ে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে মিলিয়ে দিতে হবে ও সকল দিকে লিন্টেল দিতে হবে।
    ● ভীম বা কলাম বিহীন ভবন ঝুঁকি পূর্ণ ভবন কারন মাঝাড়ি রকমের ভূমিকম্প হলেই তা ভেঙ্গে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই অবশ্যই কলাম, ভীম ও স্ল্যাভ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে হবে।