ভবনের নিরাপত্তা

অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা – ব্যবহারের নিয়মাবলী ও প্রয়োজনীয়তা

অগ্নি প্রতিরোধক দরজা কি? – What is Fire Rated Door?

অগ্নি প্রতিরোধক দরজা হলো এমন একটি কাঠামো যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আগুন, ধোঁয়া ও গ্যাস প্রবেশে বাধা প্রদান করে। এছাড়াও এ দরজা এক রুম থেকে অন্য রুমে, এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে আগুন, ধোঁয়া ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
এখন সচেতন প্রত্যেক ভবন/প্রতিষ্ঠান/কারখানার মালিকগণ অগ্নি প্রতিরোধ তথা অগ্নি জনিত দুর্ঘটনার ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ব্যবহার করছেন।
 
 

অগ্নি প্রতিরোধক দরজার প্রকারবেদ – Types of Fire Doors

বাহ্যিক দৃষ্টিকোন বিচার করে ফায়ার ডোর কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
 
যথাঃ
১. রোলিং ষ্ট্রিল ফায়ার ডোর (Rolling Steel Fire Door)
২. ডাবল ফায়ার ডোর (Double Fire Door)
৩. সুইংগিং ফায়ার ডোর (Swing Fire Doors)
 
 

অগ্নি প্রতিরোধক দরজা কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত? – Fire Door Materials

অগ্নি প্রতিরোধক দরজা বিশেষ ভাবে তৈরি এমন একটি দরজা যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগুন ও তাপ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই এই দরজা তৈরিতে বিশেষ কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ কাঁচ, কাঠ, ষ্টিল, জিপসাম, এলুমিনিয়াম ও ভারমিকুলাইড বোর্ড ইত্যাদি।
 
 

ফায়ার ডোরের প্রয়োজনীয়তা – Importance of Fire Doors

আগুনে পুরে প্রতি বছর অনেক লোক মারা যায় অথবা উক্ত আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে গুরুতর আহত হচ্ছে, এমনকি মারাও যাচ্ছে। ফলে জীবন হানির পাশাপাশি সম্পদের ক্ষতি হয়।
 
আমাদের মূল্যবান জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য এবং আগুনের বিস্তার, তাপ, গ্যাস ও ধোঁয়া দ্রুত রোধ করতে ফায়ারডোর স্থাপন করা অত্যান্ত জরুরী। ফায়ার ডোর অবশ্যই সার্টিফাইড হতে হবে, অন্যথায় তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
 
বর্তমান সময়ে এটি জীবন ও সম্পদের হানি রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই অগ্নি প্রতিরোধে ফায়ার ডোর সত্যই এক অসাধারণ আবিষ্কার যা জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে।
 
 

ফায়ার ডোর ও বহির্গমন দরজার মান নির্ধারন করার বিষয়গুলো ও নিয়মাবলী [Fire Door and Exit Door Standards]

  • পাঁচ তলা বা তার অধিক উচ্চতার ভবনের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
  • চার তলা বা তার অধিক উচ্চতার ভবনের জন্য – ১ ঘন্টা
  • গুদামঘড় এবং সংরক্ষাগারের জন্য – ৪৫ মিনিট
  • জেনারেটর রুমের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
  • ট্রান্সফর্মার রুমের জন্য – ১.৫ ঘন্টা
  • বহির্গমনের এসেসের জন্য ন্যূনতম – ১ ঘন্টা
  • বহির্গমন করিডোরে যাওয়ার দরজার ন্যূনতম – ৩০ মিনিট
  • বহির্গমন দরজা হিসাবে স্লাইডিং ডোর ব্যবহার করা যাবে না,
  • বহির্গমন দরজার প্রস্থ ১ মিটার ও উচ্চতা ২ মিটারের কম হতে পারবে না,
  • ভিতর থেকে এবং বাহিরের দিকে তাৎক্ষনিকভাবে খোলা যায় এমন দর/জা ব্যবহার করতে হবে,
  • অগ্নি কান্ডের সময় সকলে যাতে সহজেই বর্হিগমন দরজা চিনতে/বুঝতে পারে তাই লাল রং দ্বারা লিখে বা অন্য কোন চিহ্ন ব্যবহার করে চিহ্নিত করে দিতে হবে,
  • প্রতিষ্ঠানিক ভবনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা সকল ভবনের ক্ষেত্রে যেখানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০ বা তার বেশী সেখানে ঘূর্নায়মান দরজা ব্যবহার করা যাবে না।
 
 
নিচে একটি ছকের মাধ্যমে বহির্গমন দরজার সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও সর্বোচ্চ যাতায়াত দূরত্ব উল্লেখ করা হলোঃ-

ভবনের শ্রেণী

সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর সংখ্যা

সর্বোচ্চ যাতায়াত দূরত্ব (মি.)

১. প্রাতিষ্ঠানিক

২. আবাসিক

৩. স্বাস্থ্যসেবা

১২

২৩

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

৫. শিল্প কারখানা

৬. বাণিজ্যিক ভবন

৭. সমাবেশ, ধর্মীয় ভবন

৫০

২৩

৮. গুদাম ঘর

৩০

৩০

৯. বিপদজনক ভবন

 

 

ফায়ার উইন্ডো [Fire Window]

ফায়ার ডোরেয় পাশাপাশি ব্যবহার বাড়ছে ফায়ার উইন্ডোর। যদিও আমাদের দেশে অগ্নি প্রতিরোধক জানালার ব্যবহার তেমন নেই, তবে দ্রুত তা অগ্নি প্রতিরোধের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।
 
ইউ,এস,এ সহ বেশ কিছু দেশ এ জানালা তৈরি করছে এবং দিন দিন তার চাহিদা বাড়ছে। ফায়ার উইন্ডো মূলত ঠান্ডা গঠিত ইস্পাত বিভাগ থেকে তৈরি।
 
এটি ভবনের আকার, ব্যবহার কারীর চাহিদার ধরণের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন আকারের ও রং এর হয়ে থাকে। এ জানালাগুলো সাধারনত ২০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত অগ্নি প্রতিরোধে সক্ষম।
 
নতুন র্স্পাক ফায়ার উইন্ডো একটি চমৎকার অগ্নি প্রতিরোধক উপাদান হিসেবে জনপ্রিয় যা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং দ্রুত ও খুব সহজে ইনস্টল করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button