পড়াশুনা

আইসোটোপ কাকে বলে? | Isotope Kake Bole? তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

আইসোটোপ কাকে বলে? Isotope কাকে বলে | তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা! বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বিজ্ঞানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইসোটোপ (Isotope)। এই শব্দটি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেকেই সহজভাবে আইসোটোপ কাকে বলে — সেটি বুঝতে পারেন না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা খুব সহজ ভাষায় আইসোটোপ, তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, তাদের ব্যবহার ও উদাহরণ বিস্তারিত আলোচনা করব।

আইসোটোপ কাকে বলে? | Isotope Kake Bole? তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
আইসোটোপ কাকে বলে? | Isotope Kake Bole? তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

আইসোটোপ কাকে বলে (Isotope Kake Bole)

একই মৌলের এমন কিছু পরমাণুকে আইসোটোপ বলা হয় যাদের প্রোটনের সংখ্যা একই কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন। এর ফলে ঐ মৌলের ভর সংখ্যা ভিন্ন হলেও রাসায়নিক ধর্ম একই থাকে।

👉 সহজ ভাষায়:
প্রোটন সংখ্যা একই → একই মৌল
নিউট্রন সংখ্যা আলাদা → আলাদা আইসোটোপ

উদাহরণ: হাইড্রোজেনের আইসোটোপ

নামপ্রোটন সংখ্যানিউট্রন সংখ্যাভর সংখ্যা
প্রোটিয়াম (Protium)101
ডিউটেরিয়াম (Deuterium)112
ট্রিটিয়াম (Tritium)123

উপরের টেবিল থেকে দেখা যাচ্ছে, তিনটি আইসোটোপেই প্রোটন সংখ্যা ১ (মানে এগুলো হাইড্রোজেন মৌল), কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন। তাই এগুলোকে হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ বলা হয়।


আইসোটোপের বৈশিষ্ট্য

  1. একই মৌলের আইসোটোপগুলির রাসায়নিক ধর্ম এক, কারণ প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা এক থাকে।

  2. ভৌত ধর্ম ভিন্ন হতে পারে — কারণ ভর সংখ্যা ভিন্ন।

  3. কিছু আইসোটোপ স্থিতিশীল, আবার কিছু তেজস্ক্রিয় (Radioactive)

  4. আইসোটোপের অর্ধায়ু (half-life) ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কাকে বলে (Tejoskriyo Isotope Kake Bole)

যেসব আইসোটোপ সময়ের সাথে সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ (radiation) নির্গত করে ধীরে ধীরে অন্য মৌলে রূপান্তরিত হয়, তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (Radioactive Isotope) বলা হয়।

এই বিকিরণ হতে পারে —

  • আলফা কণা (α)

  • বেটা কণা (β)

  • গামা রশ্মি (γ)

👉 সহজভাবে বললে:
স্থিতিশীল নয় এমন আইসোটোপ → সময়ের সাথে বিকিরণ ছাড়ে → নতুন মৌল তৈরি করে → একে বলে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ।

উদাহরণ: ইউরেনিয়াম-২৩৫ (Uranium-235)

ইউরেনিয়াম-২৩৫ একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, যা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ও অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সময়ের সাথে এটি বিকিরণ ছাড়ে এবং অন্যান্য মৌলে রূপান্তরিত হয়।

আইসোটোপের ব্যবহার

আইসোটোপের বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব অনেক বেশি। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার তুলে ধরা হলো 👇

১. চিকিৎসা বিজ্ঞানে

  • Radioactive iodine (I-131) থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

  • বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে আইসোটোপ ব্যবহার করে স্ক্যানিং করা হয় (যেমন PET Scan)।

২. কৃষিক্ষেত্রে

  • তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ প্রক্রিয়া ও সার ব্যবহারের দক্ষতা নির্ধারণ করা যায়।

  • পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণেও নির্দিষ্ট আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

৩. শিল্পক্ষেত্রে

  • মেশিনের ভেতরের লিকেজ বা ফাটল নির্ণয়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।

  • তেল ও খনিজ অনুসন্ধানেও isotope tracking পদ্ধতি কাজে লাগে।

৪. গবেষণায়

  • আইসোটোপ ব্যবহার করে পদার্থের গঠন, বয়স (carbon dating), বিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করা হয়।


আইসোটোপ ও আইসোবারের পার্থক্য

অনেকেই আইসোটোপ ও আইসোবার গুলিয়ে ফেলেন। নিচের টেবিলটি দেখে পার্থক্য পরিষ্কার বোঝা যাবে 👇

বিষয়আইসোটোপআইসোবার
সংজ্ঞাএকই মৌলের প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্নভর সংখ্যা একই কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
মৌলএকই মৌলভিন্ন মৌল
উদাহরণহাইড্রোজেন-১, হাইড্রোজেন-২, হাইড্রোজেন-৩আর্গন-৪০ ও ক্যালসিয়াম-৪০

উপসংহার

আইসোটোপ কাকে বলে — এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ:


👉 প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন — এমন পরমাণুকেই আইসোটোপ বলে।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপগুলো আমাদের বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি মৌলিক কিন্তু প্রয়োজনীয় বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button