Category: দুর্যোগ থেকে নিরাপত্তা

  • আপদ, বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের সংজ্ঞা | দুর্যোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও ধারণা !

    আপদ, বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের সংজ্ঞা | দুর্যোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও ধারণা !

    আপদ, বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের সংজ্ঞা | দুর্যোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও ধারণা! দুর্যোগ এমন একটি পরিস্থিতি যা হঠাৎ করে মানুষের জীবন, সম্পদ, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট—যেকোনো ধরনের দুর্যোগ একটি দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দুর্যোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও মৌলিক ধারণা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুর্যোগের ধরন, কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে যত বেশি স্পষ্ট ধারণা থাকবে, তত ভালোভাবে প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় দুর্যোগ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও ধারণা উপস্থাপন করব, যা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকের জন্য সমানভাবে সহায়ক হবে।

    দুর্যোগ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও ধারণা

    দুর্যোগ কি? – What is the Disaster?

    সাধারন ভাবে দুর্যোগ বলতে বুঝায় এমন অবস্থা বা পরিস্থিতি যা মানুষের মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দুর্যোগ মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দু ধরনেরই হতে পারে। কারন যাই হোক এ দুর্যোগ চলমান জীবন ও সমাজ কে ব্যাহত করে এবং মানুষ, সম্পদ ও পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি সাধন করে। বেশির ভাগ সময় এ অবস্থা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয় না। তারপরেও এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমাদের দরকার প্রতিরোধ ও করনীয় সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান। দুর্যোগের সাথে তিনটি শব্দ জড়িত। তা হলোঃ আপদ (Hazard), বিপদাপন্নতা (Vulnerability) ও ঝুঁকি (Risk)।
     
     

    আপদ কি? – What is the Nuisance?

    আপদ বা বিপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানবসৃষ্ট বা কারিগরি ত্রুটির কারনে হতে পারে এবং তা সমাজ, জীবন ও জীবিকার ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করতে পারে। যেমনঃ প্রাকৃতিক আপদ (বন্যা, সুনামি, সাইক্লোন, সুনামি, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি) ও কারিগরি আপদ (পারমানবিক বোমা)। আপদ কোন দূর্ঘটনা নয়, দুর্যোগের সম্ভাব্য কারন। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলাফল পূর্ব থেকে অনুমান করা যায়।
     
     

    বিপদাপন্নতা কি? – What is the Vulnerability?

    কোন জনগোষ্ঠির বা তার অংশের কোন এক বা একাধিক সুনির্দিষ্ট আপদের মাধ্যমে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা ও উক্ত আপদ ঘটার ফলে সামাজিক ও ব্যক্তির জীবনযপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য মাত্রাকে বিপদাপন্নতা বলে। বিপদাপন্নতা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমনঃ বস্তুগত, সামাজিক, রাজনৈতিক অথবা দৃষ্টিভঙ্গিগত। বিপদাপন্নতা কে নিচের সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয়ঃ
    Vulnerability = People + Condition + Place + Time + Event
    নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠি সমাজের সবচেয়ে বিপদাপন্ন অংশ ও যেকোন দুর্যোগে এরাই সবার আগে ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
     
     

    ঝুঁকি কি? – What is the Risk?

    ঝুঁকি অর্থ আপদ, বিপদাপন্নতা ও পরিবেশের সম্মিলিত ও সক্ষমতার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য মাত্রা বা অবস্থা। ঝুঁকির সাথে তিনটি বিষয় জড়িত, সেগুলো হলোঃ আপদ (Hazard), বিপদাপন্নতা (Vulnerability) ও সক্ষমতা (Capacity)। কখনো ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে ব্যক্তির বিপদাপন্নতা এবং সক্ষমতার মাত্রার উপর। ঝুঁকিকে নিন্মক্তো সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয়ঃ
    Risk = (Hazard x Vulnerability) / Capacity
    আপদের ফলাফলকে কেঊ যদি তার সক্ষমতার মাধ্যমে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তবে তার নিকট বিষটির আর কোন ঝুঁকি থাকবে না।
     
     

    সামর্থ্য বা সক্ষমতা কি? – What is Capability?

    সক্ষমতা হলো আগাম প্রস্ততি বা পূর্ব প্রস্ততি গ্রহণ করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান। যেমনঃ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনশীল বিল্ডিং অ মজবুত ঘর নির্মাণ করা। দুর্যোগ মোকাবেলার দক্ষতাকে একজন ব্যক্ত্যির সক্ষমতা বলা যেতে পারে। সামর্থ্য হলো কাল্পনিক বা সত্যিকার কোন দুর্যোগ প্রণীত জনগোষ্ঠির ইতিবাচক পদ্ধতিতে সাড়া দেয়ার সার্বিক সক্ষমতা।
     
     

    জলবায়ু কি? – What is Climate?

    একটি নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের দৈনন্দিন আবহাওয়ার সাধারণ অবস্থা বা স্বল্প কয়েক দিকের গড় ফলকে জলবায়ু বলে। নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহের স্বল্প কয়েক দিকের গড় (যেমনঃ ১ থেকে ৭ দিনের গড়) ফলকে আবহাওয়া বলে। বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বুঝায় বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ু প্রবাহের দিক ও তার গতি, মেঘের পরিমান, প্রকারভেদ ও বৃষ্টিপাত।
     
     

    জলবায়ু পরিবর্তন কি? – What is Climate Change?

    পৃথিবীতে সকল শক্তির মূল উৎস হলো সূর্যের আলো এবং তাপ। এ আলো ও তাপ পৃথিবীর সকল প্রাণীর জীবনধারণে সাহায্য করে। প্রতিদিন পৃথিবীতে যে সূর্যের আলো পৌঁছায় ভূপৃষ্ঠ তা শোষণ করে, এ শোষিত সূর্যকিরণ আবার বিকিরিত বা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায় এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। এই প্রাকৃতিক নিয়মে কোন বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
     
     

    অপসারন বা স্থানান্তর কি? – What is the Removal or Transfer?

    জনগনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থাই হলো অপসারণ বা স্থানান্তর। যেমনঃ অগ্নিকান্ডের সময় জনগনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। যখন কোন নির্ধারিত মাত্রার দুর্যোগের সতর্কতা প্রদান করা হয়, তখন বিপদাপন্ন মানুষদেরকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা জরুরী।
     
     

    অনুসন্ধান ও উদ্ধার কি? – What is Search and Rescue?

    যে কোন দুর্যোগে আটকে পড়া ও হারিয়ে যাওয়া মানুষদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার বা মুক্ত করা প্রয়োজন। যেমনঃ ভূমিকম্পের সময় ধ্বসে পড়া ভবনের নচে বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় হারিয়া যাওয়া মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পারে না, এ অবস্থায় তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার করার প্রয়োজন পড়ে।
     
     

    দ্রুত পুনরুদ্ধার কি? – What is Fast Recovery?

    দুর্যোগ সংঘঠিত হওয়ার পর দুর্যোগ পরবর্তী সাড়াদান বা ত্রান তৎপরতা পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ধরনের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াই হলো মূলত দ্রুত পুনরুদ্ধার। দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং ত্রান তৎপরতা উভয়ের উদ্দেশ্য একই। ব্যপক অর্থে দ্রুত পুনরুদ্ধার বলতে বুঝায় বাস্তুহারা জনগোষ্ঠির পুনঃসম্নিতকরণ জীবন-জীবিকা, আশ্রয়, পুনর্গঠন, সংষ্কার প্রভৃতি।
     
     

    সাড়াদান কি? – What is the Response?

    সাড়াদান বলতে বুঝায় দুর্যোগের পূর্বে, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগের পরে জীবন ও সম্পদ রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠির মৌলিক চাহিদা পূরণ, জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানে গৃহীত পদক্ষেপ।
     
     

    সেবা কি? – What is the Service?

    সেবা বলতে বুঝায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তি হতে প্রদেয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, বস্ত্র, পয়ঃনিষ্কাশন, টেলিযোগাযোগ, উদ্ধার, অনুসন্ধান, নিরাপত্তা, অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী ও সরকার কর্তৃক অন্যান্য সেবা সমূহ।
     
     

    দুর্যোগের প্রকারভেদ – Types of disasters

    দুর্যোগ সৃষ্টির ধরন অনুসারে দুর্যোগকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ
    ১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Disaster)
    ২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ (Man-made Disaster)
     

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ

    প্রাকৃতিকভাবে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে সরাসরি মানুষের কোন হাত থাকে না। যেমনঃ ভূমিকম্প, খরা, বন্যা ইত্যাদি। এ ধরনের দুর্যোগ জীবন ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ও বিস্তার সকল দেশে সমান নয়। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশে দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা কম হওয়ার কারনে জীবন এবং সম্পদহানির পরিমান অনেক বেশি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পিছনে যেসব বিষয় দায়ী যেগুলো হলোঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি।
     

    মানবসৃষ্ট দুর্যোগ

    মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হলো মানুষের কাজ বা আলস্যের দ্বারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ। অর্থাৎ মানুষের ভুলভ্রান্তি ও অবহেলার ফলে যে দুর্যোগের উৎপত্তি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। যেমনঃ বন উজাড়, অগ্নিকান্ড, যুদ্ধ ও সন্ত্রাস, বিস্ফোরণ, ইত্যাদি।
  • ভূমিকম্প থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – পূর্বে, চলাকালীন সময় ও পরবর্তী করনীয়

    ভূমিকম্প থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – পূর্বে, চলাকালীন সময় ও পরবর্তী করনীয়

    ভূমিকম্প হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর প্রাকৃতিক ভাবে ঘটা দুর্যোগ সহজে মোকাবেলা করা যায় না। ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দেয়ার কোন যন্ত্র এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই কিছু নিয়মকানুন ও সতর্কতা মেনে চললে এর ভয়াবহতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব।
     
     
    ভূমিকম্পের ক্ষতিক্ষতি কমিয়ে আনতে এর সতর্কতা মূলক করনীয় হিসেবে কাজকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
    ১. ভূমিকম্পের পূর্বে করনীয়,
    ২. ভূমিকম্পের সময় করনীয় ও
    ৩. ভূমিকম্প পরবর্তী করনীয়।
     
     

    ভূমিকম্পের পূর্বে করনীয় – Things to Do Before An Earthquake

     
    এ অংশে ভূমিকম্পের পূর্বে কি করা উচিত সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারনা দেয়া হলঃ
    ● পরিবার বা কার্যপরিবেশে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে কার কি করনীয় তা পূর্ব থেকে নির্ধারন করা।
    ● বিল্ডিং কোড ও আইন মেনে ভবন নির্মাণ করা।
    ● নিয়মিত সকল ইউটিলিট সার্ভিস সমূহ পরীক্ষা করা।
    ● জরুরী টেলিফোন নাম্বার সমূহ (ফায়ার সার্ভিস, এম্বুলেন্স, ব্লাডব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনি) সংরক্ষণ করা ও দেয়ালে বা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শিত করা।
    ● একাধিক দরজা ও জরুরী বহিঃগমন সিঁড়ি রাখা। বহিঃগমন পথ চিহ্নিত করে দিতে হবে।
    ● প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা।
    ● রাসায়নিক পদার্থ বা ক্ষতিকারক দ্রব্যাদি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা।
    ● নিয়মিত অগ্নি মহড়া, অগ্নি নির্বাপক চালনা প্রশিক্ষন, উদ্ধার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
     
     
     

    ভূমিকম্পের সময় করনীয় – What to Do During An Earthquake

     
    ভূমিকম্প যখন চলমান বা পুনরায় সংগঠিত হবার আশঙ্কা থাকে সেক্ষেত্রে কি করনীয় এ অংশে আমরা তা জানবোঃ
    ● আপনি ভবনের ভাহিরে থাকলে ভবনের ভেতর ঢোকা থেকে বিরত থাকুন ও বৈদ্যুতিক খুটি, ব্রীজ, ঝুলন্ত কোন বস্তু, সাইনবোর্ড বা কোন অবকাঠামোর কাছাকাছি আশ্রয় না নিয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
    ● কোন ভাবে বেরহতে না পারলে বা উপরের তলায় থাকলে দ্রুত খাট বা টেবিলের নিচে, ভীম বা কলামের পাশে বা রুমের এক কোণায় আশ্রয় নিন। বসে পড়ুন এবং কিছু দিয়ে (হেলমেট, বালিস বা নিজ হাত) মাথা কে সুরক্ষিত রাখুন।
    ● বহুতল ভবন, শপিং মল, সিনেমা হল বা সহজে নির্গ্মন যোগ্য নয় এমন স্থানে থাকলে আতংকিত হয়ে দৌড়ে বের হবার চেষ্টা করবেন না। মাথায় হাত রেখে বসে পড়ুন।
    ● এ সময় লিফট ব্যবহার করা যাবে না।
    ● পানিতে অবস্থান করলে দ্রুত উপরে উঠে আসতে হবে।
    ● বহুতল ভবনের ছাদ, জানালা বা উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পড়া যাবে না।
    ● ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির পর আবার ঝাঁকুনি হতে পারে, তাই কিছু সময় নিরাপদে অবস্থান করা জরুরী।
    ● গাড়ির ভেতরে থাকলে বের হবেন না। বহুতল ভবন, ওভারব্রীজ, বড় গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুটি থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে।
     
     
     

    ভূমিকম্প পরবর্তী করনীয় – What to Do After An Earthquake

     
    ভূমিকম্পের পর যে সকল কাজ করতে হবে তা নিন্মরূপঃ
    ● অগ্নি নির্বাপন, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা সহ অন্যান্য সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করা,
    ● সর্বশেষ অবস্থা জানতে টিভি বা রেডিও শোনা,
    ● খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা,
    ● ত্রান সামগ্রী সুষ্ঠ বন্টনে সাহায্য করা,
    ● হেলে পড়া বা ফাটল ধরা কোন ভবনের মধ্যে প্রবেশ না করা,
    ● প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা না থাকলে চাপা পড়া কোন ব্যক্তিকে টেনে হেচড়ে বের না করা,
    ● ধ্বংসস্তুপ ও আবর্জনা দ্রুত অপসারনের ব্যবস্থা নেয়া,
    ● রাসায়নিক বিক্রিয়া, বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা অগ্নি কান্ডের সম্ভবনা থাকলে নিরাপদ দূরত্বে থাকা,
    ● দ্রুত পর্যাপ্ত পরিমান স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করা,
    ● সরকার সহ বিভিন্ন সেবা মূলক সংস্থার কাজে সাহায্য করা,
    ● ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ লাইন ও ড্রেন লাইন মেরামত ও পুনঃ স্থাপন করা,
    ● প্রশিক্ষিত হলে আহত ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে এগিয়ে আসা,
    ● মৃত ব্যক্তিদের যথাযথ ব্যবস্থা করা ও মৃত পশু-পাখি মাটিতে পুঁতে ফেলা,
    ● আহত, সর্বহারা ও নিহত পরিবারের স্বজনদের সান্ত্বনা প্রদান,
    ● ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ ও রাস্তা সহ সকল জরুরী স্থাপরা পুনঃ স্থাপন করা,
    ● সম্পদের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী তাই কোন অবস্থায় যে কোন মূল্যবান দ্রব্য আনার জন্য পুনরায় ভবনে বা রুমে প্রবেশ করা যাবে না,
    ● কোন বিধ্বস্ত ভবনে আটকা পড়লে আপনার ডাক যদি কেউ শুনতে না পায় সেক্ষেত্রে শক্ত কিছু দিয়ে ফ্লোরে বা দেয়ালে জোরে জোরে আঘাত করুন, তাহলে নিকটে থাকা কেউ বা উদ্ধারকর্মী তা শুনতে পাবে।
    ● বড় বা ভারী কোন বস্তুর নীচে আটকা পড়লে টানা হেচড়া করে শরীরের শক্তি নষ্ট না করে কেউ পৌছানোর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব এবং বন্যা মোকাবেলায় করণীয়

    বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব এবং বন্যা মোকাবেলায় করণীয়

    বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব – Harmful Effects of Floods

     
    বিভিন্ন সময়ে বন্যায় বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে। বিগতসালে ঘটা বন্যা ও তার ভয়াবহতা পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে প্রতি ২ বছরে মাঝারি আকারে এক বার, ৬ থেকে ৭ বছরে ভয়াবহ আকারে এক বার, ৭ বছরে এক বার ব্যাপক বন্যা ও ৩৩ থেকে ৫০ বছরে এক বার মহাপ্রলয়ংকরী বন্যা হানা দিতে পারে।
     
    এ সকল বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়। মানুষের প্রাণহানি ঘটে ও সম্পদ নষ্ট হয়। পরিবেশ নষ্ট হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় ও উন্নয়নের ধারা ব্যহত হয়।
     
     

    বন্যার ধরন – Types of Flood

    প্রতি বছর একই কারনে বন্যা সংগটিত হয় না। বন্যার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো –
    ১. মৌসুমি বন্যা,
    ২. জোয়ার-ভাটা জনিত বন্যা এবং
    ৩. আকষ্মিক বন্যা।
     
     

    বন্যা থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – Safety from Flood

    বাচ্চারা ও বয়ষ্ক ব্যক্তিরা বন্যায় সবচেয়ে বেশি আহত হয় এবং অসহায় হয়ে পড়ে। এছাড়াও কৃষকরা ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বহু মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে।
     
    বন্যা হতে নিরাপত্তার ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যে কাজগুলো করতে হবে তা নিচে দেয়া হলোঃ
    ● সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা।
    ● পূর্ব থেকে বা বন্যার পূর্বাবাস পাওয়া পাত্র পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ করে সংরক্ষণ করা।
    ● বর্ষা ও বন্যায় সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে বাড়ীতে কার্বলিক এসিড নিরাপদে সংরক্ষণ করা।
    ● বন্যার সময় চলাফেরার সময় নৌকা তৈরি করে রাখা। নৌকা তৈরি করার সামর্থ্য না থাকলে কলা গাছের ভেলা বেনিয়ে ব্যবহার করা।
    ● বাড়ি ও শোবার খাটের চারপাশে বেষ্টনী দেয়া। এতে করে ছোট বাচ্চারা নিরাপদ থাকবে ও ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করতে পারবে না।
    ● খালি বা পরিত্যাক্ত বাড়িতে প্রবেশ না করা। কারণ এ সময় উক্ত স্থানে হিংশ্র প্রানি, সাপ ও বিষাক্ত পোকা-মাকর সেখানে বাসা বাঁধে।
    ● বন্যার পূর্বে বন্যা প্রতিরোধী শস্য রোপণ ও শস্য রোপণ মৌসুমের অভিযোজন করা।
    ● গবাদিপশু সমূহের জন্য মাচা দিয়ে উঁচু করে থাকার যায়গা তৈরি করে দিতে হবে।
    ● বন্যার সময় মসার উপদ্রব বেড়ে যায় তাই মসারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
    ● নিরাপদ পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
    ● এ সময় নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো পরীক্ষা করতে হবে ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে প্রভৃতি।
     
     

    বন্যা মোকাবেলায় করণীয় – What to do to Deal with Floods

    বেশিরভাগ সময় বন্যা হবার সম্ভবনা পূর্ব থেকে অনুমান করা যায়। তাই বন্যা হতে নিরাপত্তায় পূর্ব থেকেই কাঠামোগত ও অ-কাঠামোগত দুই ব্যবস্থাই নেয়া যায়। বন্যা হতে নিরাপত্তায় কি কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো।
     
     

    সহজ ব্যবস্থাপনা – Easy Management

    যে সকল ব্যবস্থাপনা অপেক্ষাকৃত সহজ ও অল্প সময়ে সম্পন্ন করা যায় সেগুলো হলো সহজ ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছেঃ
    ● সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা,
    ● বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন,
    ● বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রশিক্ষণের আয়োজন,
    ● পুকুর, খাল-বিল ও নালা খনন করে সেচের পানি সংরক্ষণ করা,
    ● রাস্তাঘাট নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা,
    ● বিল্ডিং নির্মাণ কোড অনুসরণ করে বিল্ডিং নির্মাণ করা,
    ● বাড়ির চারপাশে বেষ্টনী নির্মাণ করা,
    ● এলাকায় বেষ্টনীমূলক বাঁধ তৈরি করা,
    ● নদীর দুই ধাঁরে বেড়ি বাঁধ দেয়া,
    ● নদীর দুই ধাঁরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা,
    ● বন্যা প্রবল অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা,
    ● বন্যা সহনক্ষম শস্য চিহ্নিত করে তা রোপণ করা ইত্যাদি।
     

     

    ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য ব্যবস্থাপনা – Expensive and Laborious Management

    যে সকল ব্যবস্থাপনায় প্রচুর অর্থ ও শ্রম দিতে হয় সেগুলো হলো ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য ব্যবস্থাপনা। বেশিরভাগ সমর ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনার কাজ সরকার সম্পন্ন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছেঃ
    ● বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধা প্রদান করা,
    ● নদী তীরকে সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী সুদৃড় কাআঠামো নির্মাণ,
    ● ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করে নদীর গভীরতা বাড়ানো,
    ● সমুদ্র উপকূলবর্তী স্থানে পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা,
    ● প্রর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি।
     
    বন্যা বাংলাদেশের একটি বড় দুর্যোগ। তাই এ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ব্যপক কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিছু সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু চলমান রয়েছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলা ও নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সচেতন থাকতে হবে।
     
  • বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় করনীয় বা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

    বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় করনীয় বা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

    বর্তমান সময়ে বজ্রপাত মারাত্নক আকার ধারন করেছে। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়কালে (এপ্রিল থেকে জুন) অধিক বজ্রপাত ও ঝড়-তুফান সংগঠিত হয়।
     
    তাই বজ্রপাতকে এখন দুর্যোগ হিসেবে গন্য করা হয়। এ দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। বজ্রপাতে থেকে রক্ষা পেতে ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে জাতীয় বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত দন্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পোস্টে আমরা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।
     
    নিচে বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় আরো কি কি করা যেতে পারে যে সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
    ● পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখার সাথে সাথে সকল বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে হবে,
    ● ঘরের ভেতর অবস্থানকালে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বারান্দায় বা জানালার নিকটে থাকা যাবে না,
    ● বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির পাইপ, সিঁড়ির ধাতব রেলিং ইত্যাদি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে,
    ● বজ্রপাতের সময় বের হবার প্রয়োজন হলে রাবারের জুতা পরে, প্লাষ্টিক বা কাঠের হাতল যুক্ত ছাতা নিয়ে বের হতে হবে,
    ● দ্রুত দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে,
    ● কালো মেঘ দেখা দিলে জলাশয় (পুকুর, ডোবা ইত্যাদি) থেকে দূরে থাকা,
    ● সকল মাছ ধড়ার নৌকা ও ট্রলারকে মাছ ধরা বন্ধ করে নিরাপদে অবস্থান করতে হবে,
    ● প্রতিটি ভবনে বাধ্যতামূলক ভাবে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন করতে হবে,
    ● এপ্রিল হতে জুন মাস এ সময় বজ্রপাত দেশি হয় বিধায় উক্ত সময় আকাশে মেঘ দেখলে ঘরে অবস্থান করা,
    ● বজ্রপাতের সময় উঁচু স্থান ও খোলা জায়গায় থাকা যাবে না,
    ● বেশি করে তাল গাছ রোপণ করতে হবে,
    ● খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে ও দু কানে ভেতর আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়তে হবে,
    ● কোন গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না, এ সময় বড় গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে,
    ● এ সময় খোলা মাঠে কোন কাজ বা খেলাধুলা করা যাবে না,
    ● গাড়ির ভেতরে থাকলে তার ধাতব পদার্থের সাথে যাতে শরীর না লাগে তাতে লক্ষ্য রাখতে হবে। গাড়ি নিরাপদ কোন স্থান যেখানে ছাউনি রয়েছে এমন স্থানে নিয়ে যাওয়া,
    ● অনেকজন একসাথে খোলা জায়গায় থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেককে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে অবস্থান করতে হবে,
    ● বৈদ্যুতিক খুঁটি বা যে কোন খুঁটি, পিলার, ছেঁড়া তার, মোবাইলের টাওয়ার, উঁচু গাছপালা থেকে থেকে সাবধান থাকা,
    ● বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে সে ক্ষেত্রে সকলে এক রুমে না থেকে ভিন্ন ভিন্ন রুমে অবস্থান করা,
    ● বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক শকের মত করেই চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
  • ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ ও তাসৃষ্ট কারণ [যা না জানলেই নয়]

    ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ ও তাসৃষ্ট কারণ [যা না জানলেই নয়]

    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারনে ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ – All Natural and Man-made Disasters

    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দু কারনেই দুর্যোগ সংগঠিত হতে পারে তবে প্রাকৃতিক কারনেই অধিকাংশ দুর্যোগ ঘটে থাকে।
     
    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট এ দুটির মধ্যে যে কয়টি দুর্যোগ বড় ধরনের বিপদ বয়ে আনে ও প্রায় প্রতি বছর সংগঠিত হয় সে গুলো হলোঃ
    ১. ভূমিকম্প (Earthquake)
    ২. ভবনধ্বস (Collapse/Structure Failure)
    ৩. অগ্নিকান্ড (Fire)
    ৪. বজ্রপাত (Thunder)
    ৫. বন্যা (Flood)
     
     

    ভূমিকম্প

    ভূ-অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময়ে জমানো চাপ, তাপ ও বিক্রিয়ায় কারনে সৃষ্ট শক্তির হঠাৎ বিমুক্তির ফলে ভূপৃষ্ঠে যে কম্পনের সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। এ ধরনের কম্পন মৃদু, মাঝারি বা প্রচন্ড হতে পারে। এটি সাধারনত কয়েক সেকেন্ড থেকে ২-৩ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬,০০০ ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগই মৃদু আকারের হয় বলে আমরা তা বুঝতে পারি না। শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে ও প্রাণহানি হয়।
     
    যে সকল কারনে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে সেগুলো হলোঃ
    • ভূপৃষ্ঠের প্লেটসমূহের মধ্যে পারস্প্ররিক ধাক্কা,
    • ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে শিলাচুৎতি ঘটলে,
    • ভূ-অভ্যন্তরের গলিত গ্যাস বা লাভার প্রবল ধাক্কা,
    • আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে মানবসৃষ্ট কারনে।
     
     
    এসব ভূমিকম্পের ফলে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয় তা নিন্মরূপঃ
     ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ নষ্ট সহ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা অকেজ হয়ে পড়ে,
     বিভিন্ন ভবন ও ঘরবাড়ির নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে ও মারা যায়,
     গবাদি পশু হাস-মুরগী সহ অন্যান্য পশু-প্রানী মৃত্যুবরণ করে,
     বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বসে যায়,
     গ্যাস পাইপ লাইন ও রাসায়নিক পদার্থে বিস্ফোরণ ঘটে,
     সমুদ্র উপকূলে জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়,
     পুকুর ও নদী-নালা শুকিয়ে যায়,
     গাছপালা নষ্ট হয় ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়,
     বহু যানবাহন নষ্ট হয়ে জরুরী পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়,
     অনেক সময় মহামারী ও দুর্ভিক্ষে বহু লোক মারা যায়,
     বৈদুতিক শর্টসার্কিট ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের কারনে আগুন লেগে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
     
    পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে যে ভবন নির্মাণ আইন না মানা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অবহেলা ও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হওয়ার মূল কারন। এছাড়াও যে সকল কারন গুলো রয়েছে সেগুলো হলোঃ
    ● ভবন নির্মাণ নিয়ম না মেনে ভবন তৈরি করা,
    ● ভূমিকম্প সহনশীল রড ও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা,
    ● ঘন বসতি ও অধিক জনসংখ্যা,
    ● অদক্ষ প্রকৌশলী ও মিস্ত্রি ব্যবহার করা,
    ● নদী, পুকুর বা ডোবা ভালো ভাবে ভরাট না করে ভবন নির্মাণ,
    ● মাটি পরিক্ষা না করেই ভবন নির্মাণ,
    ● পরিকল্পনা বিহীন ভবন ও রাস্তা নির্মান ইত্যাদি।
     
     

    ভবনধ্বস

    বিল্ডিংকোড ও ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, নীচু জমি ভরাট করে ভবন মির্মাণ, পরিকল্পনা ছাড়া যত্রতত্র ইচ্ছেমত বিল্ডিং তৈরি, নির্মাণ ত্রুটি ও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ভবনধ্বস হয়ে থাকে। ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বসের মূল কারণ হলো মানবসৃষ্ট কারণ। তবে মানবসৃষ্ট কারন ছাড়াও ভূমিকম্পের কারণে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বস সংগঠিত হতে পারে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রানা প্লাজার ধ্বস কে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বসের প্রধান উদাহরন হিসেবে উল্যেখ করা যায়।
     
    বিভিন্ন কারনে ভবনধ্বস বা কাঠামোগতধ্বস হতে পারে, তা নিচে দেয়া হলোঃ
    ● ভূমিকম্পের কারণে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বস হতে পারে,
    ● বিল্ডিং এর ডিজাইন ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর্ঘনার অন্যতম কারন,
    ● অবিজ্ঞ প্রকৌশলী ও দক্ষ মিস্ত্রি না রাখা, রাখলেও তদারকির অভাব থাকলে,
    ● বিল্ডিং নরম মাটি ও নীচু জমিতে নির্মানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভীত ও পর্যাপ্ত পাইলিং না থাকা,
    ● পাহারের তলদেশে ভবন নির্মান করার ফলে কখনো পাহার হেলে পরা বা কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ে ভবনধ্বস ইত্যাদি।
     
     

    অগ্নিকান্ড

    পরিমিত তাপের উপস্থিতিতে দাহ্যবস্তুর সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলে আগুনের সৃষ্টি হয়। আগুন আমাদের জীবনে আশীর্বাদ স্বরুপ কিন্তু তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার ফলে অগ্নিকান্ড সংগঠিত হয়। প্রতিনিয়ত অগ্নিকান্ডের ফলে বহু প্রাণহানী ও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হচ্ছে।
     
    অগ্নিকান্ডের কারন গুলো হলোঃ
    ● যন্ত্রাংশের ঘষর্ণ,
    ● যত্রতত্র ধূমপান,
    ● অনিরাপদ ওয়েল্ডিং,
    ● অতিরিক্ত তাপমাত্রা,
    ● ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ফিটিংস,
    ● গ্যাস ও বয়লার বিস্ফোরন,
    ● জ্বলন্ত বস্তু ও জ্বলন্ত গ্যাসের চুলা,
    ● অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সংযোগ
    ● ক্যামিকেলের অনিরাপদ ব্যবহার ও সংরক্ষণ,
    ● ভূমিকম্পের কারনে বিদ্যুৎ বা গ্যাস লাইন থেকে আগুন লাগতে পারে ইত্যাদি।
     
     

    বজ্রপাত

    বজ্রপাত কেন সংগঠিত হয় তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা নেই। ধারনা করা হয় উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাতে সৃষ্টি হয়। বজ্রমেঘের ভেতরে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের ফলে জলীয়বাষ্পে একই সময়ে একই সাথে শিশির বিন্দু, বৃষ্টিকণা, ও তুষারকণার তৈরি হয়।
     
    উক্ত বৃষ্টিকণা এবং তুষারকণার সংঘর্ষে স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ ঘটনাটি বিশাল মেঘামালার মধ্যে ঘটে বলে এর ফ্রিকোয়েন্সি, পরিমান ও সৃষ্ট শব্দের পরিমান অনেক বেশি হয়। এ বিদ্যুৎ প্রায় ৩০,০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপ উৎপাদন করে বিধায় এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হয়।
     
     

    বন্যা

    বর্ষাকালে কোন এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি তা দীর্ঘ সময় মানুষের জীবন এবং সম্পদের ক্ষতি সাধন করে তবে তাকে বন্যা বলা হয়। আমাদের দেশে রয়েছে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী সহ মোট ৭০০টি নদী এবং বার্ষরিক বৃষ্টিপাতের পরিমান ২৩০০ মি.মি. ।
     
    এজন্য বলা হয়ে থাকে “বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল দেশ”। প্রতি বছর প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কি.মি. অঞ্চল অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখন্ড বন্যা কবলিত হয়। ব্যপকভাবে বন্যা হলে তা ৫৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। আমাদের দেশের বন্যাকে তিন শ্রেনীতে ভাগ করা যায়।
     
    যথা – ১. মৌসুমি বন্যা (Monsoon Flood) ২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) এবং ৩. জোয়ারসৃষ্ট বন্যা (Tidal Flood)
     
    এ সকল বন্যায় মানুষ ও পশুপাখির প্রাণহানী ঘটে ও বিপন্ন হয়। তাছাড়া ফসলী জমি ডুবে যাবার ফলে বিপুল পরিমান ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকে। সাধারনত মে থেকে অক্টোবর এ সময়ে বন্যা সংগটিত হয় এবং এর উচ্চতা ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
     
    বন্যা সংঘটিত হবার কারণগুলো হলোঃ
    ● দেশের ভেতরে ও দেশের বাহিরে উজান এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত,
    ● ভূমিকম্প ও ভূরূপতত্ত্বে পরিবর্তন সম্পর্কিত জটিলতা,
    ● ভৌগলিক অবস্থান ও মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
    ● হিমালয়ের বড়ফ গলা পানির প্রবাহ,
    ● গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া,
    ● অপরিকল্পিত নগরায়ণ,
    ● প্রকৃতির উপর মানুষের হস্তক্ষেপ,
    ● বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা,
    ● শাখানদীগুলো পলি দ্বারা ভরে যাওয়া ও তার পার্শ্বদেশ দখল হয়ে যাওয়া,
    ● গঙ্গা নদীতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ ও অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব,
    ● প্রধান নদীগুলোর একিসাথে পানি বৃদ্ধি ও এক নদীর উপর অন্য নদীর প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি।
     
     
    উপরোক্ত বড় দুর্যোগ ছাড়াও আরো কিছু দুর্যোগ রয়েছে যেগুলো প্রায়ই আমাদের বিপদে ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে – ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও সুনামি।
     
    ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ হলো সমুদ্রে সৃষ্ট নিন্মচাপ, বায়ুমন্ডলে বাতাসের গতিবেগ এক হওয়া, সমুদ্রের উত্তাপ তাপমাত্রা প্রভৃতি। অনাবৃষ্টি, বৃক্ষ নিধন, ভূগভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়া ইত্যাদি কারনে খরার সৃষ্টি হয়। নদীভাঙনের কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বৃক্ষ নিধন, রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি, নদী গর্ভে ফাটল প্রভৃতি। সুনামি হয়ে থাকে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুপাতের কারণে।
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কি? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উপাদান কয়টি ও কি কি?

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কি? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উপাদান কয়টি ও কি কি?

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Disaster Management]

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে বুঝায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য গৃহিত কৌশল।
     
    ব্যাপক অর্থে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হলো দুর্যোগের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে এর ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য বিভিন্ন কৌশল এবং পরিকল্পনা। সঠিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব।
     
     
    দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ বা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তা নিন্মরূপঃ
    ● প্রতিরোধ (Prevention)
    ● হ্রাসকরন (Mitigation)
    ● প্রস্তুতি (Preparedness)
    ● সাড়া প্রদান (Response)
    ● পুনর্বাসন (Rehabilitation)
    ● পুনর্গঠন (Reconstruction)
    ● উন্নয়ন (Development)
     
     

    প্রতিরোধ

    সাধারণত প্রতিরোধ বলতে বুঝায় কোন ঘটনা বা পরিস্থিতিকে বাঁধা দিয়ে রাখা বা ঘটতে না দেয়া। দুর্যোগ প্রতিরোধ বলতে বুঝায় সম্ভাব্য কোন দুর্যোগকে বাঁধা প্রদান করে ঘটতে না দেয়া এবং উক্ত দুর্যোগের হাত থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ভবনে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন।
     
     

    হ্রাসকরন বা প্রশমন

    দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং জীবন ও সম্পদ বাঁচতে নেয়া পদক্ষেপকে দুর্যোগ হ্রাসকরন বা প্রশমন বলে। দুই পদ্ধতিতে দুর্যোগ হ্রাসকরন বা প্রশমন করা যায়। ১. কাঠামোগত এবং ২. অ-কাঠামোগত।
    কাঠামোগত ব্যবস্থাঃ এর মধ্যে রয়েছে তাল, নারকেল, গেওয়া, কেওড়া, বাবলা, ঝাউ সহ নানান জাতের গাছ লাগিয়ে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা। পাকা স্কুল, ঘড়-বাড়ি, অফিস এবং বন্যার ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য নদী ড্রেজিং করা, সুইচ গেট বানানো ইত্যাদি।
     
     

    অ-কাঠামোগত ব্যবস্থা

    সঠিক সময়ে সতর্ক সংকেত ও বার্তা প্রদান করা, শুকনা খাবার ও পানি সংরক্ষন, নলকূপের মাথা খুলে মুখ পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেয়া, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা, পত্রিকা, টিভি ও রেডিও এর মাধ্যমে সকলকে সচেতন করা ইত্যাদি।
     
     

    প্রস্তুতি

    অতীতের দুর্যোগের ঘটনার অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে অনুরূপ একটি ঘটনাকে অনুমান করে আগে থেকে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার নামই দুর্যোগ প্রস্তুতি। যে কোন দুর্যোগে পতিত জনগোষ্ঠিকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যা দূর করা ও জীবন রক্ষার প্রচেষ্টা সহ মৌলিক চাহিদা পূরণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় দুর্যোগের সময় নিরাপদে আশ্রয় পেতে পূর্ব থেকে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে রাখা।
     
     

    সাড়া প্রদান

    দুর্যোগ চলাকালীন বা তার পরে দুর্যোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষা ও জীবন নির্বাহের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিকে জরুরী সাড়া প্রদান বলে। দুর্যোগকে আমরা নানা ভাবে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও অনেক সময় দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সময় এ বিষয় বিবেচনা করে জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা ও দুর্গত জনগোষ্ঠিকে জরুরী অবস্থায় সাহায্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠি, সংস্থা ও ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হচ্ছে দুর্যোগে সাড়াপ্রদান।
     
     

    পুনর্বাসন

    দুর্গত জনগোষ্ঠিকে অর্থনৈতিক, মানসিক ও ভৌত কল্যাণ সাধন এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কার্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হলো পুনর্বাসন। এ পর্যায়ে মৃত মানুষ, গবাদি পশু অপসারণের ব্যবস্থা করাহয় ও পুকুর, খাল-বিল, জলাশয় সমূহ পরিষ্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, গবাদি পশু ইত্যাদির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার সহ ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা তার চেয়ে ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
     
     

    পুনর্গঠন

    সাধারণ ভাবে পুনর্গঠন বলতে বুঝায় কোন কিছু পুনরায় নির্মাণ করা। আর দুর্যোগের ক্ষেত্রে পুনর্গঠন বলতে বুঝায় দুর্যোগের পর নষ্ট হয়ে যাওয়া বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া অবকাঠামো সমূহ পুনরায় নির্মাণ করা। এর মূল উদ্দ্যেশ হলো দুর্গত জনগোষ্ঠিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
     
     

    উন্নয়ন

    দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হতে কাটিয়ে উঠা ও দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াটা জরুরী। আর দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়ন আবশ্যক। তাই কোন জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও এর ধারা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টাই হলো উন্নয়ন।