ইসলামিক

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, সময় সূচি, নিয়ত, সূরা ও ফজিলত (সম্পূর্ণ গাইড) | Tahajjud Namaz

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, সময় সূচি, নিয়ত, সূরা ও ফজিলত (সম্পূর্ণ গাইড) | Tahajjud Namaz Niyom, Rakat, Niyot, Sura & Fazilat! ইসলামে তাহাজ্জুদ নামাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। কুরআন ও হাদীসের আলোকে এই নামাজের মর্যাদা, ফজিলত ও ফল অসীম। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন, রাতের একটি বিশেষ সময়ে বান্দার সঙ্গে তাঁর সান্নিধ্য বৃদ্ধি পায়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, সময় সূচি, নিয়ত, সূরা ও ফজিলত (সম্পূর্ণ গাইড) | Tahajjud Namaz Niyom, Rakat, Niyot, Sura & Fazilat
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, সময় সূচি, নিয়ত, সূরা ও ফজিলত (সম্পূর্ণ গাইড) | Tahajjud Namaz Niyom, Rakat, Niyot, Sura & Fazilat

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার এক অনন্য সুযোগ পান। এই নামাজকে বলা হয় “রাতের সেরা ইবাদত”।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব — তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, সময়, নিয়ত, সুরা, ফজিলত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাহাজ্জুদ নামাজ কী?

“তাহাজ্জুদ” শব্দটি আরবি “هَجَدَ” (হাজাদা) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে “ঘুম থেকে জেগে ওঠা”।
অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামাজ হলো এমন একটি ইবাদত যা রাতে ঘুম থেকে উঠে আদায় করা হয়।

এটি নফল নামাজ, তবে এর গুরুত্ব এত বেশি যে অনেক আলেম এটিকে প্রায় ওয়াজিবের কাছাকাছি মর্যাদা দিয়েছেন। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনোই তাহাজ্জুদ নামাজ বাদ দিতেন না।


তাহাজ্জুদ নামাজের সময়

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় শুরু হয় ইশার নামাজের পর ঘুমিয়ে ওঠার পর থেকে, এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত।

সময়ব্যাখ্যা
শুরুইশার নামাজ আদায়ের পর ঘুমিয়ে ওঠার পর
শেষফজরের আজান হওয়ার আগ পর্যন্ত
উত্তম সময়রাতের শেষ তৃতীয় অংশ (শেষ ভাগ)

রাতের শেষ ভাগেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সবচেয়ে উত্তম। এই সময় আল্লাহ তাআলা আসমানের সবচেয়ে নিচের আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন —
“কেউ কি আছে আমার কাছে কিছু চাইবে? আমি তাকে তা দিব।” — (সহিহ মুসলিম)


তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাত সংখ্যা

তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই।
তবে হাদীসে এসেছে, নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন এবং শেষে ৩ রাকাত বিতর নামাজ আদায় করতেন।

রাকাত সংখ্যাব্যাখ্যা
২ রাকাতসর্বনিম্ন (ঘুম থেকে উঠেই পড়া যায়)
৪–৮ রাকাতনবীজির নিয়মিত অভ্যাস
১১ রাকাত৮ রাকাত তাহাজ্জুদ + ৩ রাকাত বিতর (সবচেয়ে উত্তম)

চাইলে আপনি ২ রাকাত করেও শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে রাকাত বাড়ানো যেতে পারে।


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত (আরবি ও বাংলা উচ্চারণ)

আরবি নিয়ত:

أُصَلِّي سُنَّةَ التَّهَجُّدِ رَكْعَتَيْنِ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া রাকআতাইত তাহাজ্জুদি আল্লাহু আকবার

অর্থ:

“আমি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে তাহাজ্জুদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি।”

প্রত্যেক ২ রাকাতে এই নিয়ত করা যায়। তাহাজ্জুদের কোনো আজান বা ইকামত নেই।

নোটঃ মুখে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক নয়, অন্তরে নিয়ত থাকলেই, নিয়তের সওয়াব পেবে যাবে তাহাজ্জুদ আদায়কারী।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

১. প্রথমে ইশার নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
২. রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠুন।
৩. অজু করুন (পবিত্র থাকলে উত্তম)।
৪. কমপক্ষে ২ রাকাত বা বেশি রাকাত নামাজ আদায় করুন।
5. প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা তেলাওয়াত করুন।
6. ধীরে ও মনোযোগ সহকারে নামাজ পড়া উত্তম।
7. নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

তাহাজ্জুদ নামাজে কোনো নির্দিষ্ট সূরা বাধ্যতামূলক নয়, তবে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণত দীর্ঘ সূরা তেলাওয়াত করতেন।


তাহাজ্জুদ নামাজে কোন দোয়া পড়লে মনোবাসনা পূরণ হয়

হাদীসে এসেছে, রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। তাই এই সময়ে নিজের প্রয়োজনীয় দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহাজ্জুদের সময় বেশি বেশি করে:

  • নিজের জন্য দোয়া

  • পিতা-মাতা ও পরিবারের জন্য দোয়া

  • উম্মতের জন্য দোয়া

  • গুনাহ মাফের জন্য দোয়া

তাহাজ্জুদের সময় পড়া দোয়াগুলোর মধ্যে “দুয়া ইউনুস” (لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين) বিশেষভাবে বরকতময়।


তাহাজ্জুদ নামাজে কোন সূরা পড়া উত্তম

তাহাজ্জুদ নামাজে নির্দিষ্ট কোনো সূরা পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে দীর্ঘ সূরা পাঠ করা উত্তম।
নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাহাজ্জুদের সময় সূরা বাকারা, সূরা آل ইমরান ইত্যাদি দীর্ঘ সূরা তেলাওয়াত করতেন।

শুরু করার জন্য ছোট সূরাগুলোও পড়া যেতে পারে যেমন:

  • সূরা আল-ইখলাস

  • সূরা আল-ফালাক

  • সূরা আন-নাস

  • সূরা আল-কাউসার


তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত অসীম। এটি এমন একটি ইবাদত যা একজন মুমিনকে আল্লাহর সর্বাধিক নিকটে নিয়ে যায়।

কুরআনের দৃষ্টিতে:

“আর রাতের একাংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর; এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। সম্ভবত তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদে) প্রতিষ্ঠিত করবেন।”
— (সূরা ইসরা: আয়াত ৭৯)

হাদীসের দৃষ্টিতে:

“রাতের নামাজ সর্বোত্তম নামাজ, ফরজ নামাজের পর।”
— (সহিহ মুসলিম)

সংক্ষেপে তাহাজ্জুদের ফজিলত

  • আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার উত্তম মাধ্যম

  • গুনাহ মাফের সুযোগ

  • দোয়া কবুলের সময়

  • আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও ঈমান বৃদ্ধি

  • নবীদের অভ্যাস


তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচি ২০২৪

তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট কোনো বৈশ্বিক সময়সূচি নেই; এটি ইশা ও ফজরের সময়ের উপর নির্ভর করে
তবে অনেক ওয়েবসাইট বা ইসলামিক অ্যাপে প্রতিদিনের তাহাজ্জুদের শেষ তৃতীয় অংশের সময় হিসাব করে দেওয়া থাকে।

সময় নির্ণয়ের সহজ নিয়ম:

  1. ইশার নামাজের সময় থেকে ফজরের আজান পর্যন্ত মোট সময় বের করুন।

  2. এই সময়টিকে ৩ ভাগে ভাগ করুন।

  3. শেষ ভাগটাই হলো তাহাজ্জুদের উত্তম সময়।


তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে সাধারণ ভুল ধারণা

  • শুধু রমজানে পড়া উচিত: না, এটি সারা বছর আদায় করা যায়।

  • অনেক রাকাত না পড়লে হবে না: ২ রাকাত দিয়েও শুরু করা যায়।

  • দীর্ঘ সূরা না পড়লে গ্রহণযোগ্য নয়: না, যেকোনো সূরা পড়া যায়।

তাহাজ্জুদ নামাজ একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত বরকতময় ইবাদত।


জনপ্রিয় সার্চ কিওয়ার্ড (SEO Insight)

তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে অনলাইনে মানুষ যেসব প্রশ্ন বেশি করে থাকেন, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো —
এগুলো ব্লগের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ব্যবহার করলে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক ভালো হবে।

  • তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

  • তাহাজ্জুদ নামাজের সময়

  • তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

  • তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

  • তাহাজ্জুদ নামাজের সুরা

  • তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচি ২০২৪

  • তাহাজ্জুদ নামাজে কোন দোয়া পড়লে মানত পূরণ হয়

  • তাহাজ্জুদ নামাজের আরবি নিয়ত

  • ৮০ দিন তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত


সংক্ষেপে (উপসংহার)

তাহাজ্জুদ নামাজ এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার এক অনন্য মাধ্যম। রাতের নির্জনতা ও প্রশান্ত পরিবেশে বান্দা যখন আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তখন তার দোয়া, কান্না ও চাওয়া আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে কবুল হয়।

তাহাজ্জুদ নামাজ শুরু করতে বড় কোনো আয়োজনের দরকার নেই — ২ রাকাত দিয়েই শুরু করা যায়। ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করলে এটি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।

তাই আজ থেকেই শুরু করুন তাহাজ্জুদের নিয়মিত চর্চা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এই বরকতময় ইবাদতের তাওফিক দান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button