ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের নিরাপত্তার সর্বত্তোম প্রক্রিয়াসমূহ
আধুনিক নগরায়নের এই যুগে শুধু দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; সেই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এখন একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিভিন্ন বাণিজ্যিক, আবাসিক ও সরকারি ভবনে প্রবেশ করে—তাদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি ভবন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অগ্নি–নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, সিসিটিভি মনিটরিং, অ্যালার্ম সিস্টেম থেকে শুরু করে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী—সবকিছুই একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।
সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কেবল দুর্ঘটনা প্রতিরোধেই নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবন পরিচালনায় সর্বোত্তম নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আজকের দিনে বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।
ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কি? – What is Building Safety?
ভবনের শ্রেণিবিভাগ – Building Classification Types
ধরন | ভবনের শ্রেণীবিভাগ |
A | আবাসিক |
B | শিক্ষা প্রতিষ্ঠান |
C | প্রাতিষ্ঠানিক (কেয়ার) |
D | হেলথ কেয়ার |
E | ব্যবসা |
F | বাণিজ্যিক |
G | শিল্প কারখানা |
H | সংরক্ষণাগার |
I | জনসমাবেশ |
J | বিপজ্জনক |
K | গ্যারেজ |
L | উইটিলিটিস |
M | অন্যান্য ভবন |
ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? – Why Building Maintenance is Important?
ভবনের নিরাপত্তার সর্বত্তোম প্রক্রিয়াসমূহ – Building Safety Procedures
- বিল্ডিং নকশা তৈরি করার পূর্বেই অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা মাটির গুনাগুন বিশ্লেষন ও মাটির ধারণক্ষমতা পরিক্ষা করে নিতে হবে,
- নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ফ্লোর বা উপরের তলার ছাঁদে টিনশেড নির্মাণ করা যাবে না,
- সঠিক অনুপাতে উন্নতমানের রড, সিমেন্ট বালি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে হবে,
- অবশ্যই কলাম, বিম ও স্ল্যাব বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে হবে,
- দেয়াল কিংবা মেঝেতে কোন ফাটল বা হেলে পড়া দেখতে পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে,
- ভবনের নির্দিষ্ট কোন ফ্লোর অতিরিক্ত লোড করে ভারি মেশিন, মাল বা যন্ত্রপাতি রাখা যাবে না,
- নিচতলায় পার্কি রাখলে ঐ তলার পিলারগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করতে হবে,
- নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প ও অগ্নি প্রতিরোধক নিয়মাবলি প্রয়োগ করতে হবে,
- যে কোন ফ্লোর হতে সম্পূর্ণ ভবনে দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে,
- পর্যাপ্ত এলার্ম ও ডিটেকশন সিস্টেম ইনস্টল করতে হবে,
- অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জমাদি অবশ্যই থাকতে হবে,
- ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে উপযুক্ত উপকরন রাখতে হবে,
- জরুরী পাওয়ার সাপ্লাই থাকতে হবে,
- ফারায় লিফট থাকা প্রয়োজন,
- প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার ব্যারিয়ার ব্যবহার করতে হবে,
- ভবনথেকে নিরাপদে বের হবার জন্য পর্যাপ্ত বহিগর্মন পথ রাখতে হবে,
- নিরাপদে বের হবার পর সমাবেশ স্থান (এসেম্বলি পয়েন্ট) থাকতে হবে,
- সিঁড়ির প্রস্থ ও ঢাল নির্ধারনে আইন মানা জরুরী,
- অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা ব্যবহার করতে হবে,
- প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার ব্যারিয়ার ব্যবহার করতে হবে,
- সকল প্রকার চিহ্ন,প্রতিক,সংকেত ও নির্দেশনা ভবনের প্রতি ফ্লোরের এমন স্থানে রাখতে হবে যা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়,
- ভবনের ভেতরে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে ভবনের বাইরে ধূমপানের জন্য আলাদা জোন নির্ধারন করে তা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করে টানিয়ে দিতে হবে,
- নিশ্চিত হতে হবে ভবনের কাছা-কাছি স্থানে জলাধার অথবা নিজস্ব পানি সংরক্ষণাগার রয়েছে,
- সম্পূর্ণ ভবন ও তার আসে-পাশে কোথায় কি কি আছে তার নির্দেশনা চিত্রাআকারে উল্লেখ করে দেয়াল/বোর্ডে টানিয়ে দিতে হবে,
- প্রত্যেকটি ফ্লোরে ন্যূনতম ১টি গ্রিলবিহিন কজ্বাসংযুক্ত জানালা থাকতে হবে যাতে জরুরী প্রয়োজনে খুলে লেডার বা দড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসা যায়,
- অগ্নি নিরাপত্তা কমিটি ও প্রশিক্ষিন জনবল থাকতে হবে এবং
- চাহিদা অনুসারে আরো অনেক সরঞ্জাম ও পদ্ধতি ইনস্টল/অনুসরন করতে হবে।



