অগ্নি নিরাপত্তা

পোর্টেবল ও অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসার – প্রয়োজনীয় বিধিমালা ২০২৬

পোর্টেবল ও অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসার – প্রয়োজনীয় বিধিমালা ২০২৬! বর্তমান সময়ের বহুতল ভবন, অফিস, শিল্পকারখানা ও জনসমাগমস্থলে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোর্টেবল ও অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসার বা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পোর্টেবল এক্সটিংগুইসার যেমন সহজে ব্যবহারযোগ্য, তেমনি অটোমেটিক সিস্টেম আগুন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভানোর সক্ষমতা রাখে। ২০২৬ সালের জন্য নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি ও নির্দেশিকা, যাতে ভবন মালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্যতামূলকভাবে এসব যন্ত্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এই লেখায় আমরা বিস্তারিত জানব ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত পোর্টেবল ও অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে।

পোর্টেবল ফায়ার এক্সটিংগুইসার – Portable Fire Extinguisher

সহজে বহনযোগ্য যে যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন নির্বাপন করা হয় তাকে সহজে বহনযোগ্য বা পোর্টেবল ফায়ার এক্সটিংগুইসার বলে।
 
অগ্নি কান্ডের সূচনালগ্নে এটি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রন করা হয়। এটি ব্যবহার করে অক্সিজেন সরবরাহে বাঁধা প্রদান করে, পানি ছিটিয়ে, দাহ্যবস্তুকে অপসারন করে, দাহ্যবস্তুর তাপমাত্রা কমিয়ে আগুন নেভানো হয়।
 
 

এক্সটিংগুইসারের প্রকারভেদ – Types of Extinguishers

বিভিন্ন প্রকার আগুনে বিভিন্ন রকমের এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত নির্ভর করে আগুনের ধরনের উপর।
 
পোর্টেবল ফায়ার এক্সটিংগুইসার কে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ
১. ডিসিপি (Dry Chemical Powder-DCP)
২. সিওটু (CO2)
৩. ফোম টাইপ (Foam Type)
৪. ওয়াটার টাইপ (Water Type)
 
 

ডিসিপি

এ ধরনের এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক আগুন, গ্যাসের আগুন, কঠিন পর্দাথের আগুনসহ আরো বেশকিছু আগুন নেভানো যায়। বহু জাতীয় আগুন নিভানো যায় বলে একে মাল্টিপারপাস অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রও বলা হয়ে থাকে। পাউডারের কার্যপ্রনালীর উপর ভিত্তি করে একে আবার তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।
 
এবিসি টাইপ (ABC type): এর মূল দুটি ক্যামিক্যাল হলো অ্যামোনিয়াম সালফেট ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট।
 
বিসি টাইপ (BC type): এ ধরনের ফায়ার এক্সটিংগুইসারে সোডিয়াম বাই কার্বনেট বা পটাসিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও মনোক্স নামক এক প্রকার ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা খুবই কার্যকরি।
 
ডি টাইপ (D type): এ জাতীয় এক্সটিংগুইসার সাধারনত ধাতব আগুনে ব্যবহার করা হয়। এতে রয়েছে সোডিয়াম ক্লোরাইড, ব্যারিয়াম ও পটাসিয়াম।
 
 

সিওটু

বৈদ্যুতিক আগুন নিভানোর কাজে এই এক্সটিংগুইসার ব্যবহার হয়। এটি আগুনের উপরে তুষারের সৃষ্টি করে আগুনে অক্সিজেনের প্রবেশকে বাঁধা দান করে আগুন নির্বাপন করে।
 
 

ফোম টাইপ

তরল পদার্থের আগুন নেভানোর জন্য ফোম টাইপ ফায়ার এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফোম টাইপ ফায়ার এক্সটিংগুইসার দুই ধরনের। গ্যাস কার্টিস টাইপ ও প্রেসার টাইপ।
 
 

ওয়াটার টাইপ

যে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে পানি নিক্ষেপ করে আগুন নির্বাপন করা হয় তাকে ওয়াটার টাইপ অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বলে। এ এক্সটিংগুইসার দুই ধরনেরঃ কার্টিস টাইপ ও প্রেসার টাইপ। কার্টিজে পানির সাথে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও প্রেসার টাইপে পানির সাথে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরা থাকে।
 
 

পোর্টেবল ফায়ার এক্সটিংগুইসার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিধিমালা – Rules of Fire Extinguisher

● ভবনের অগ্নি ঝুকিপূর্ণ এরিয়ায় স্থাপন করতে হবে,
● সম্ভব হলে প্রত্যেক ফ্লোরের একই স্থানে স্থাপন করতে হবে,
● এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যেখান থেকে সকলে দেখতে পায়,
● প্রত্যেক ফ্লোরের বর্হিগমন পথ বা সিঁড়ির ভূসংযোগস্থলের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করতে হবে এবং সে স্থানে যেন সহজে পেবেশ করা যায়,
● প্রতি ৯০ বর্গ মিটারের জন্য ১ টি ফায়ার এক্সটিংগুইসার লাগবে,
● ফায়ার এক্সটিংগুইসারের তলদেশ গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ১ মিটার উপরে হতে হবে,
● একটি এক্সটিংগুইসার থেকে আরেকটি এক্সটিংগুইসার ৩০ মিটার (১০০ ফুট) এর অধিক দূরত্বে থাকবে না।
 

 

অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসিং বল – Automatic Fire Extinguishing Ball

ফায়ার এক্সটিংগুইসার বল হলো স্বয়ংক্রিয়, বহনযোগ্য, হালকা ও নিরাপদ অগ্নি নির্বাপক বল। এটি একটি বল আকৃতির অগ্নি নির্বাপক, বর্তমানে এটি খুবই জনপ্রিয়।
 
এর জনপ্রিয়তার মূল কারন হচ্ছে এটি পরিচালনার জন্য কোন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এমনকি কোন লোকের প্রয়োজন পরে না। যখন কোথাও আগুন লাগে মাত্র ৩ সেকেন্ডের মধ্যে এটি সক্রিয় হয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম।
 
অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসিং বল ব্যবহারের সুবিধা সমূহ – Benefit to using automatic fire extinguisher balls
ফায়ার এক্সটিংগুইসার বল একটি অসাধারণ বল যা আগুনের বিপদের মুখোমুখি না হয়ে, উপস্থিত না থেকে আগুন নেভানো যায়। যে কোউ এটি ব্যবহার করতে পারে এবং সকল জায়াগায় ব্যবহার করা যায়।
 

এর সুবিধা সমূহ নিন্মরূপঃ

  • আগুনে নিক্ষেপের ৩ সেকেন্ডের মধ্যে কাজ সক্রিয় হয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম,
  • তাপ সেন্সিং এর মাধ্যমে অটোমেটিক কাজ করে,
  • বৈদ্যুতিক সার্কিট ব্রেকার, রান্নঘর সহ সকল অগ্নি প্রবণ স্থানে ব্যবহার করা যায়,
  • মহিলা, বয়স্ক লোক এমনকি শিশুরাও এটি ব্যবহার করতে পারবে,
  • এটির ওজন ১.৫ কেজির চেয়েও কম,
  • কোন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন নেই,
  • আগুনের নিকটে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না,
  • মানুষ ও পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না,
  • ১৪০ ডিবির চেয়ে কম উচ্চতায় আগুনের আলার্ম দিয়ে থাকে,
  • প্রয়োজন অনুসারে সকল স্থানে ব্যবহার করা যায়,
  • বিশেষ প্রশিক্ষণ বা দক্ষতার দরকার নেই ইত্যাদি।

অগ্নি নিরাপত্তা শুধু আইন বা নিয়মের বিষয় নয়, এটি প্রত্যেকের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অংশ। সময়মতো সঠিক ধরনের পোর্টেবল ও অটোমেটিক ফায়ার এক্সটিংগুইসার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ একটি অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা ভবন, অফিস ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক করবে। তাই এখন থেকেই যথাযথ পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। মনে রাখতে হবে, সচেতনতা ও প্রস্তুতিই আগুনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button