Blog

  • লক আউট বা ট্যাগ আউট পদ্ধতি ও তা প্রত্যাহার করার নিয়ম

    লক আউট বা ট্যাগ আউট পদ্ধতি ও তা প্রত্যাহার করার নিয়ম

    লক আউট বা ট্যাগ আউট ডিভাইস কি? – What is the Lock out or Tag out device?

     
     
    লক আউট (Lock Out) বা ট্যাগ আউট (Tag Out) কে ইংরেজিতে সংক্ষেপে “LOTO” বলা হয়। কোন সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণের সময় উক্ত সরঞ্জামটি অন্য কেউ যাতে চালু করতে বা ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
     
    লক আউট ডিভাইসে শুধু একটি লক থাকে আর ট্যাগ আউট ডিভাইসে লকের সাথে একটি ট্যাগ যুক্ত থাকে। ট্যাগটিতে যন্ত্রটি চালানোর সতর্কতার বা কাজের বিষয়ে নির্দেশিকা থাকে।
     
    ট্যাগ আউটটি এমন হতে হবে যেন তা ২২৪.৪ নিউটন চাপ সহ্য করতে পারে এবং তা একবার ব্যবহার করা যায় এমন শেলফ লকিং বা লাইলন ক্যাবল টাই দিয়ে যুক্ত থাকে।

     

     

    লক আউট বা ট্যাগ আউট ব্যবহার পদ্ধতি – The Method of Using The Lock out Or Tag out

    লক আউট বা ট্যাগ আউট ব্যবহার পদ্ধতি প্রয়োগ করার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়।
     
    সেগুলো হলোঃ
    • একটি সুষ্ঠ পরিকল্পনা একটি কাজ অর্ধেক করার সমান তাই পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করতে হবে।
    • কোন যন্ত্র বা মূল সংযোগ মেরামত করতে হলে তার সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তিকে লক আউট বা ট্যাগ আউট সম্পর্কে জানাতে হবে,
    • প্রয়োজনে এর সাথে যুক্ত সকল ব্যক্তিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে,
    • লক আউট বা ট্যাগ আউট ডিভাইসটি যাতে সহযে সনাক্ত করা যায় তাই এর উপর লিখে দিতে হবে,
    • সকল বৈদ্যুতিক উৎস সতর্কতা ও যত্নের সাথে নিয়ন্ত্রন করতে হবে যাতে কোন প্রকার দূর্ঘটনা না ঘটে,
    • এ ডিভাইসের সাথে যুক্ত আছে এমন সকল ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে কাজটি করতে হবে।
     
     
    নিচে এর কার্যকর পদ্ধতিগুলো বর্ননা করা হলোঃ
    দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সুপারভাইজারের অনুমতি সাপেক্ষে লক আউট-ট্যাগ আউট পদ্ধতি সম্পাদন করতে হবে। লক আউট বা ট্যাগ আউট ব্যবহার পদ্ধতি মূলত দুই ধরনের।
     
    যথাঃ
    ১. সাধারন লক আউট বা ট্যাগ আউট (Simple Lockout/Tag out)
    ২. জটিল লক আউট বা ট্যাগ আউট (Complex Lockout/Tag out)
     
     

    সাধারন লক আউট বা ট্যাগ আউট

    স্বল্প সংখ্যক পরিবাহী বা সার্কিটের কিছু অংশ স্থির করতে হয়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন লোক নিয়োগ করতে হবে।
     

    জটিল লক আউট বা ট্যাগ আউট

    এ পদ্ধতিতে প্রথমে একটি লিখিত পরিকল্পনা করতে হবে। ইনচার্জ সকল কাজের তদারকি করবেন। প্রতিটি লক বা ট্যাগের উপর ব্যক্তির নাম, তারিখ ও কারণ লিখে দিতে হবে। একাধিক ব্যক্তি এ পদ্ধতিতে কাজ করলে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে ব্যক্তিগত লক ব্যবহার করবে এবং কাজ শেষে তা খুলে ফেলবে।
     
     

    লক আউট বা ট্যাগ আউট ডিভাইস প্রত্যাহার করার নিয়ম – Lockout Tag out Removal Procedures

    জরুরী কাজ শেষ হলে লক আউট-ট্যাগ আউট বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
     
    এ বিচ্ছিন্ন করণ পদ্ধতি নিচে দেয়া হলোঃ
    ● লক ও ট্যাগ (Lock and Tag) করা বা লক আউট ও ট্যাগ আউট (Lockout and Tag out) প্রত্যাহার করার সময় সকলকে সার্কিট বা সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক যন্তপাতি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে,
    ● একজন দক্ষ ব্যক্তিকে এ কাজটি করতে হবে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সকল রকম পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে নিতে হবে যেন কাজটি করার পূর্বে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, গ্লোবস এবং এই ধরনের অন্যান্য ডিবাসের কানেকশন বিছিন্ন করা হয়।
    ● লক ও ট্যাগ গুলো একমাত্র তিনিই বিচ্ছিন্ন করবেন যিনি এ কাজটি পরিচালনা করেছেন (যেমনঃ সুপারভাইজার) । যিনি এ কাজের ব্যাপারে জানেন না বা দক্ষ নন এমন কোন ব্যক্তি বা অদক্ষ ইলেক্ট্রিশিয়ান কাজটি করবেন না।
    ● নিশ্চিত হতে হবে যেন এ সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সারঞ্জাম চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে না রাখে এবং তা কোন দাহ্য পদার্থের কাছাকাছি না থাকে।
  • বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার উদ্দেশ্য, কারন ও আমাদের করণীয়

    বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার উদ্দেশ্য, কারন ও আমাদের করণীয়

    প্রত্যেকটি কাজের একটি উদ্দেশ্য থাকে। উদ্দেশ্যে বিহীন কাজের কোন মূল্য নেই। বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে।
     
    এর দুটি মূল উদ্দেশ্য হলোঃ
    ১. কোন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক কারনে যাতে আহত বা নিহত না হয় এবং
    ২. বৈদ্যুতিক কারনে সৃষ্ট আগুন দ্বারা কোন সম্পত্তি যেন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় ।
     
     

    আগুন ও বিদ্যুৎ একসাথে হওয়ার প্রদান দুটি কারন

     

    ওভারহিটিং

    বৈদ্যুতিক তারের মধ্য দিয়ে তার ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে অতিরিক্ত যে তাপের সৃষ্টি হয় তাকে ওভারহিটিং বলে।
     

    আরচিং

    বৈদ্যুতিক তারের দুই প্রান্তে কখন কখন যে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি দেখতে পাওয়া যায় তাকে আরচিং বলে। প্রায় সময়ই বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট বা বিদ্যুৎ প্রবাহের বাধার কারণে আরচিং ঘটে।
     
     

    বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ডের কারন সমূহ – Causes Of Electric Fires

    বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ডের প্রধান প্রধান কারনগুলো হলোঃ
    ● বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সঠিকভাবে স্থাপন না করা,
    ● বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষন না করা,
    ● নিন্মমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা,
    ● বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং নির্মান করা,
    ● বৈদ্যুতিক নকশা ব্যবহার না করা,
    ● সঠিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা,
    ● বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষনে অযোগ্য লোক নির্বাচন,
    ● লোড হিসেব না করে যত্রতত্র বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার,
    ● পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করা,
    ● গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সঠিক ও নিরাপদ স্থানে স্থাপন না করা,
    ● বিপদজনক ও ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্থাপনে আলাদা জায়গা ব্যবহার না করা।
     

     

    বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে করনীয় – To Prevent Electrical Accidents and Firefighters

    বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ ও সচেতনতা।
     
    নিচে বিভিন্ন ধাপে তা আলোচনা করা হলো।
     বৈদ্যুতিক নকশা তৈরি করে নিতে হবে,
     ওভারলোডিং এড়িয়ে চলা,
     অনুপযুক্ত স্থানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্থাপন,
     আর্থিং সিস্টেম ব্যবহার করা,
     জরুরী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা,
     রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন ।
     
     

    বৈদ্যুতিক নকশা তৈরি করে নিতে হবে

    মানসম্মত নিরাপদ ভবন নির্মানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা বৈদ্যুতিক নকশা তৈরি করে নিতে হবে। অনুপযুক্ত নকশার কারনে আমাদের দেশের বহু উঁচু ভবনের এখন বজ্রপাত প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেই। বিল্ডিং কোড অনুসরন না করে ভবন নির্মানের ফলে যত্রতত্র বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
     
    বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রক্ষায় আধুনিক কোন ডিভাইস স্থাপন করা হয় না। এর ফলে বিভিন্ন সময় ছোট-বড় দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ড সংগঠিত হয়ে থাকে। তাই নতুন ভবন অথবা বিদ্যমান ভবনকে কি ভাবে নিরাপদ ভবনে উন্নতি করা যায় এ জন্য প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর নিকট থেকে বৈদ্যুতিক নকশা তৈরি করে নিতে হবে।
     
     

    ওভারলোডিং এড়িয়ে চলা

    যখন একই আউটলেটে অধিক পরিমান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় তখন ওভারলোডেড হয়ে আউটলেট বা সার্কিট অত্যধিক তাপ উৎপন্ন করে যা বৈদ্যুতিক আগুনের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার সময় এতে অভ্যন্তরীণ ওভারলোড প্রোটেকশান আছে কিনা আমরা তা দেখি না। অবশ্যই ভালো করে তা দেখে নিতে হবে।
     
    পুরোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরির্বতন না করে অনবরত তা ব্যবহার করা ও অনুমোদিত ওয়াটের অধিক ওয়াটের লাইট ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন দূর্ঘটনা হয়। ওভারলোডিং এড়িয়ে চলতে আমাদের এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
     
     

    অনুপযুক্ত স্থানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্থাপন

    অপেক্ষাকৃত ভারী, বিপদজনক ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির জন্য যায়গা অথবা আলাদা রুম নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। অন্যথায় অনুপযুক্ত স্থানে এসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের ফলে বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনা ও অগ্নিকান্ড সংগঠিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেঃ
     
    এনার্জি মিটারঃ এর রিডিং নেয়ার স্থানে গ্লাস উইন্ডো ব্যতিত সকল অংশে প্রোটেক্টিভ কভার ব্যবহার করতে হবে। এটি ভূমি হতে ১ মিটারের অধিক উচ্চতায় ইনস্টল করতে হবে।
     
    সাব-স্টেশনঃ বহুতল ভবনের সর্বনিন্ম তলায় সাব-স্টেশন স্থাপন করা উত্তম। সাবস্টেশন বা সুইচরুমের মেঝে সর্বোচ্চ বন্যা স্তরের লেভেলের উপরে থাকতে হবে। এর নূন্যতম উচ্চতা ৩.৬ মিটার হবে। ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যার পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
     
    বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নিয়ম অনুসারে ভবনের লোড 50KW এর বেশি হলে সেখানে সাবস্টেশন 11KV/0.4KV প্রয়োজন। এ রুম অবশ্যই পানি, তেল, দাহ্য পদার্থ, ধ্বংসাবশেষ, ময়লা ও সকল বাঁধা থেকে মুক্ত হতে হবে। পর্যাপ্ত সিঁড়ি ও মুক্ত আলো চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ রুমে প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম ও অগ্নি সুরক্ষা থাকা আবশ্যক।
     
    ট্রান্সফরমারঃ ট্রান্সফরমার কোন ভাবেই দাহ্য বস্তুর বেসের উপর বসানো যাবে না। এটি অবশ্যই ধুলো ময়লা ও দাহ্য বস্তু থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ট্রান্সফরমারের তেল জাতীয় সামগ্রী যদি ২০০০ লিটারের বেশি হয় তবে অবশ্যই নিষ্কাশণ কূপের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ট্রান্সফরমারের ব্রেদারস এর তেলের কাপ সব সময় পূর্ণ থাকতে হবে। উপযুক্ত বেড়া ও পর্যাপ্ত আর্থিং সিস্টেম থাকতে হবে।
     
    বয়লারঃ বয়লার আলাদা একটি রুমে স্থাপন করতে হবে ও নিশ্চিত হতে হবে সে রুমে স্বয়ংক্রিয় অগ্নি দমন পদ্ধতি ইনস্টল রয়েছে। এছাড়াও বয়লার রুমে কিকাআউট প্যানাল স্থাপন করে বড় ধরনের দূর্ঘটনা রোধ করা যায়। বয়লারে কাজ শুরু করার পূর্বে বয়লারের চিফ ইন্সপেক্টর থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।
     
     

    সকল প্রকার বোর্ড, বক্স ও অন্যান্য ডিভাইস

    ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড বা সুইচ বোর্ড এর কাছাকাছি ও এর ভিতরে কোন দাহ্য পদার্থ, ধুলো-বালি ও ময়লা থাকতে পারবে না। ওভারলোডিং, ওভারহিটিং বা বারনিং প্রতীকের নির্দেশিকা থাকতে হবে। প্রতিটি সার্কিটে পর্যাপ্ত ইসিসি ও ডেডিকেটেড নিউট্রাল থাকতে হবে। সকল তারের কালার কোড ঠিক রাখতে হবে।
     
    টার্মিনাল ও সার্কিট ব্রেকারের মধ্যে ফেজ বিভাজন করতে হবে। বৈদ্যুতিক তার ও কনডুইট সঠিকভাবে অনুমোদিত হতে হবে। ২০ মি. উচু ভবনের জন্য যেখানে মেঝে ১৫০০ বর্গমি. সেখানে সর্বনিন্ম ২০০ মিমি, ৪০০ মিমি আকারের উলম্ব শ্যাফট চূড়া থাকবে। সকল প্রকার ধাতব বস্তুতে আর্থিং অথবা গ্রান্ডিং এর সংযোগ স্থাপন করতে হবে।
     
    কোন তার খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না, ক্যাবল জয়েন্টগুলো বক্সে রাখার পূর্বে চীনামাটি বা পিভিসি কানেকটর পিআইভি টেপ দিয়ে দিতে হবে। বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতগুলো উন্নত মানের হবে ও এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য রাবার ম্যাট রাখতে হবে। ০.৩৭৬ কিলো ওয়াটের উপরের সকল মটরে ওভারলোড প্রোটেকশন থাকবে। লাইট ও ফ্যান সংযোগের জন্য সিলিং রোস ব্যবহার করতে হবে।
     
     

    আর্থিং সিস্টেম ব্যবহার করা

    যে পদ্ধতিতে সকল প্রকার ধাতব বস্তুকে মাটির নিচে স্থাপিত আর্থ ইলেকট্রোডের সাথে সংযুক্ত আর্থ কন্টিনিউটি কন্ডাক্ট্রোরস (Earth Continuity Conductors) এর সাথে যুক্ত থাকে তাকে আর্থিং সিস্টেম বলে। এর সাথে ফিউস বা সার্কিট বেকার যুক্ত হয়ে প্রটেক্টিভ সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।
     
    যে সকল আর্থিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকেঃ
     সাবস্টেশন ন্যাচারাল আর্থিং (Substation Neutral Earthing)
     সাবস্টেশন এলটি সিস্টেম আর্থিং (Substation LT System Earthing)
     ইকুয়েপম্যান্ট আর্থিং সিস্টেম (Equipment Earthing System)
     এইচটি সার্কিট আর্থিং (H. T. Circuit Earthing)
     এলটি সার্কিট সিস্টেম আর্থিং (L. T. Circuit System Earthing)
     
     

    জরুরী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা

    যে কোন ভবনের বিদ্যুৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হলে তা জানমাল, সম্পত্তি, উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যহত সহ বিভিন্ন ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়, তাই ভবনে অবশ্যই জরুরী বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকতে হবে।
     
    কোথায় কেমন জরুরী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা দরকার তা নিচে আলোচনা করা হলোঃ
     

    জেনারেটর

    জেনারেটর অবশ্যই মূল ভবনের বাহিরে সাবস্টেশন বিল্ডিং এ এবং এর মাত্রারিক্ত কম্পন ও উচ্চ মাত্রার শব্দ এড়ানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। জেনারেটরের লোড সঠিকভাবে হিসেব করে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এ রুমে যেন পানি প্রবেশ করতে না পারে তা লক্ষ্য রাখতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
     
    জেনারেটার রুমে ফায়ারফাইটিং ইকুউপম্যান্ট ও ফার্স্ট এইড বক্স রাখতে হবে। সহজে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে ও এর সিঁড়িতে ধাতব পদার্থ ব্যবহার করা যাবে না।
     

    রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন

    বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির জন্য ইন্সপেকশন ও টেস্টটিং এর রেকর্ড বই রাখতে হবে। নতুন কোন যন্ত্র ইন্সটল করার পর পুনরায় তা চেক করতে হবে। রেটিং ও লোডিং এর মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে সকল প্রকার বোর্ড ও সুইচগেয়ার প্রতি বছর ১ বার চেক করতে হবে।
     
    নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সাবস্টেশন, জেনারেটর রুম সহ সকল মিটার গুলোর বৈধতা পরিক্ষা করতে হবে। ৩% এর উপরে মিটারিং এরোর গ্রহনযোগ্য নয়। আর্থ রেশিস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে তার মান ১ ওহোমের বেশি হতে পারবে না।
     
  • কিভাবে একজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ দ্বারা প্রভাবিত হয়?

    কিভাবে একজন ব্যক্তি বিদ্যুৎ দ্বারা প্রভাবিত হয়?

     
    একজন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিদ্যুৎ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। নিন্মে তা উল্লেখ করা হলঃ
    ● মানবদেহ কাঠের ন্যায় একই চরিত্রের। কাঠ শুকিয়ে গেলে এটি দুর্বল কন্ডাক্টার এবং ভেজা অবস্থায় খুব সহজেই বিদ্যুৎ পরিবাহী। তাই মানবদেহ আর্দ্র অপেক্ষা শুষ্ক হলে তা দুর্বল বৈদ্যুতিক কন্ডাক্টার।
    ● বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য অবশ্যই একটি সম্পূর্ণ পথ থাকতে হবে।
    ● যে সকল পদার্থ বিদ্যুৎ প্রবাহে কিছুটা বাঁধা প্রদান করে তাকে কন্ডাক্টার বলে। বিদ্যুৎ কন্ডাক্টারের মাধ্যমে প্রাবাহিত হয়। যেমনঃ পানি, লোহা, মানবদেহ ইত্যাদি।
    ● বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুতের জন্য দুর্বল কন্ডাক্টার কিন্তু এরমধ্যে অল্প পরিমানে লবণ ও এসিড থাকলে এটা কন্ডাক্টার বা পরিবাহী হিসেবে বিবেচিত হবে।
    ● শরীর বৈদ্যুতিক বর্তনীর সংস্পর্শে আসলে তখন ইলেকট্রিক শক ঘটে। বিদ্যুৎ দ্রুত শরীরের এক প্রান্তে প্রবেশ করে এবং অন্য প্রান্ত দিয়ে সরাসরি মাটিতে চলে যায়।
    ● বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ প্রতিরোধের জন্য যে কয়টি উপাদান নির্ধারণ করা হয়েছে।
    সেগুলো হলোঃ
     
    • কি দ্বারা তৈরি,
    • এটির আকার ও
    • এটির তাপমাত্রা।
     
     
    ● মানবদেহ যখন একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর অংশ হয়ে যায় এখন কিছু
    উপাদান শক প্রদানের জন্য তীব্র ভাবে প্রভাবিত করে।
    সেগুলো হলোঃ
     
    • প্রবাহিত বিদ্যুতের পথ,
    • প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ,
    • বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময়,
    • পরিবেশে আর্দ্রতার উপস্থিতি,
    • বিদ্যুতের ভোল্টেজের পরিমান,
    • শকের পূর্বে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ।
     
     
    বিদ্যুৎ প্রবাহ ও মানব দেহের উপর তার প্রভাব নিন্মরূপঃ

    এসি বিদ্যুৎ

    মানব দেহের উপর প্রভাব

    সামান্য কম্পন অনুভূত হওয়া।

    ২-৯

    ছোট আঘাত বা শক।

    ১০-২৪

    পেশীগুলো জমে শক্ত হয়ে যাবে বা খিঁচুনি ধরে যাবে।

    ২৫-৭৪

    শ্বাসযন্ত্রের পেশী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ব্যাথা, সেঁকা বা হালকা দহন হতে পারে।

    ৭৫-৩০০

    মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

    ৩০০ এর অধিক

    অঙ্গহানি অথবা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
  • বিদ্যুৎ কি, প্রকারভেদ ও গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা – বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান

    বিদ্যুৎ কি, প্রকারভেদ ও গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা – বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান

    বিদ্যুৎ কি? – What is Electricity?

    বিদ্যুৎ বা তড়িৎ হলো এমন এক ধরনের অদৃশ্য শক্তি যা গতি, আলো, শব্দ এবং রূপান্তরিত শক্তি ইত্যাদি উৎপাদন করে বিভিন্ন কাজ সমাধান করে।
     
     

    বিদ্যুৎ কত প্রকার ও কি কি? – Types of Electricity

    বিদ্যুৎ দু প্রকার। যথাঃ ১. স্থির বিদ্যুৎ এবং ২. চল বিদ্যুৎ।
     
     

    বিদ্যুৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা ও তথ্য [বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান] – Important Definitions and Information About Electricity [General Knowledge About Electricity]

     

     কারেন্ট কি? [What is Current?]

    পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত ইলেকট্রনগুলোর কোন নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকে কারেন্ট বলে। কারেন্ট প্রতীক আই (I) ও একক কুলম্ব বা এম্পিয়ার (Ampere) এর প্রতীক (A) ।
     
    কারেন্ট কে দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ
    ১. অল্টারনেটিং কারেন্ট (Alternating Current – AC)
    ২. ডাইরেক্ট কারেন্ট (Direct Current – DC)
     
    অল্টারনেটিং কারেন্টঃ যে কারেন্টের মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় তাকে অল্টারনেটিং কারেন্ট বলা হয়।
    ডাইরেক্ট কারেন্টঃ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান পরিবর্তিত হয় না তাকে ডাইরেক্ট কারেন্ট বলে।
    ডাইরেক্ট কারেন্টঃ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান পরিবর্তিত হয় না তাকে ডাইরেক্ট কারেন্ট বলে।
     

     

     এম্পিয়ার কি? – What is Ampere?

    কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে এক কুলম্ব চার্জ এক সেনেন্ড সময় ধরে প্রবাহিত হলে উক্ত পরিমান চার্জকে এক এম্পিয়ার বলে।
     
    এম্পিয়ার মাপার যন্ত্রের নাম এম্পিয়ার মিটার (Ampere Meter) । ১ কুলম্ব = ৬.২৪ X ১০১৮ ইলেকট্রন চার্জ।
     
     

     ভোল্টেজ কি? [What is Voltage?]

    ভোল্টেজ হলো এক প্রকারের বৈদ্যুতিক বল বা চাপ। পরিবাহীর পরমানুগুলোর ইলেকট্রন (ঋণাত্নক কনিকা) সমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন তাকে ভোল্টেজ বলে। ভোল্টেজ এর প্রতীক হলো ভি (V) এবং এর একক ভোল্ট (Volt) ।
     
    ভোল্টেজ মাপার যন্ত্রের নাম ভোল্ট মিটার (Volt Meter) । ভোল্টেজ হলো রেজিস্ট্যান্স বা পরিবাহীর রোধ ও এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট এর গুনফল।
     
    সুতরাং, ভোল্টেজ = কারেন্ট X রেজিস্ট্যান্স (V = I X R)
     
     

     ভোল্ট কি? – What is Volt?

    কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে ১ এম্পিয়ার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি ১ ওয়াট পরিমান কাজ সম্পন্ন করে, তাহলে উক্ত পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যকে ১ ভোল্ট বলে।
     
    ভোল্ট বা Volt এর প্রতীক (V) । ইতালীয়ান বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছে। তিনিই প্রথম বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করেন।
     
     

     ওহম কি? – What is Ohm?

    বিদ্যুৎ পরিবাহকের দুই প্রান্তের বিভক পার্থক্যের মান ১ ভোল্ট হলে তার মধ্য দিয়ে যদি ১ এম্পিয়ার বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় তাহলে সেই পরিবাহকের রোধকে ১ ওহম (Ω) বলে।
     
    গাণিতিক ব্যাখাঃ Ω = V/A
    যেখানে, Ω (ওহম); V = ভোল্ট; A = এম্পিয়ার
     
     
     

     ক্যাপাসিট্যান্স কি? – What is Capacitance?

    ক্যাপাসিটরের কোন প্লেটগুলোর মধ্যে কোন বিভব পার্থক্য থাকলে প্লেটগুলো বৈদ্যুতিক শক্তি সঞ্চয় করে (চার্জ ধরে রাখে) এ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যকে ক্যাপাসিট্যান্স বলে।
     
    ক্যাপাসিট্যান্স এর প্রতীক সি (C) । এর একক ফারাদ Farad (F) বা মাইক্রো ফারাদ Micro Farad (µF) । ক্যাপাসিট্যান্স মাপার যন্ত্রের নাম ওহম মিটার বা ক্যাপাসিট্যান্স মিটার।
     
     

     ইন্ডাকট্যান্স কি? – What is Inductance?

    ইন্ডাকট্যান্স কয়েলের একটি বিশেষ ধর্ম যা কয়েলে প্রবাহিত কারেন্টের হ্রাস বা বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করে থাকে। এর প্রতীক L ও এর একক হ্যানরি (Henry) ।
     

     

     কম্পন কি? – What is Vibration?

    কম্পকের ফলেই শব্দের সৃষ্টি হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোন বস্তু সাম্যাসস্থানের উভয় পার্শ্বে স্পন্দন ঘটে। অর্থাৎ একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্নকালে তার অর্ধেক সময় সাম্যাসস্থানের একদিকে ও বাকি সময় বিপরীত দিকে গমন করে। যেমনঃ গিটারের তারে শব্দ সৃষ্টি ইত্যাদি।
     

     

     কম্পাংক বা ফ্রিকুয়েন্সী কি? – What is Frequency?

    এক সেকেন্ড পিরিয়ডে যতগুলো সাইকেল সম্পন্ন হয় তাকে কম্পাংক বা ফ্রিকুয়েন্সী বলে। এর প্রতীক F । কম্পনের এস আই একক হার্জ (Hz) । এ নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী হেনরিক হার্টজ এর নামানুসারে। যিনি সর্বপ্রথম তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
     
     

     রেজিস্ট্যান্স বা রোধ কি? – What is Resistor?

    পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় পরিবাহী পদার্থের যে ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের কারনে তা বাধাপ্রাপ্ত হয় তাকে রেজিস্ট্যান্স বা রোধ বলে।
     
    এর প্রতীক আর (R) এবংএকক ওহম (Ohm) ।
     
     

     কন্ডাকটর বা পরিবাহী কি? – What is Conductor?

    যেসকল পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করতে করতে পারে তাদের কন্ডাকটর বা পরিবাহী বলে। যেমনঃ সোনা, রূপা, লোহা ইত্যাদি।
     
     

     সেমি-কন্ডাকটর বা অর্ধপরিবাহী কি? – What is Semi-Conductor?

    যেসকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সামান্য পরিমানে বিদ্যুৎ চলাচল করে অর্থাৎ অবস্থা ভেদে কখনো বিদ্যুৎ চলাচল করে আবার কখনো চলাচল করে না তাদের সেমি-কন্ডাকটর বা অর্ধপরিবাহী বলে। যেমনঃ সিলিকন, জার্মেনিয়াম ইত্যাদি।
     
     

     ইন্সুলেটর বা অপরিবাহী কি? – What is Insulator?

    যেসকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ চলাচল করতে করতে পারে তাদের ইন্সুলেটর বা অপরিবাহী বলে। যেমনঃ রাবার, প্লাষ্টিক ইত্যাদি।
     
     

     পাওয়ার বা বৈদ্যুতিক ক্ষমতা কি? – What is Power?

    বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহারের হারকে পাওয়ার বা বৈদ্যুতিক ক্ষমতা বলে। পাওয়ার কে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। পাওয়ারের একক ওয়াট (Watt) বা কিলোওয়াট (Kilo Watt) ।
     
    অর্থাৎ, পাওয়ার = ভোল্টেজ X কারেন্ট (P = V X I)
     
     

     এনার্জি বা বৈদ্যুতিক শক্তি কি? – What is Energy?

    বৈদ্যুতিক ক্ষমতা বা পাওয়ার একটি সার্কিটে যত সময় কাজ করে পাওয়ারের সাথে উক্ত সময়ের গুনফলকে বৈদ্যুতিক শক্তি বা এনার্জি বলে। এনার্জি মাপার যন্ত্রের নাম এনার্জি মিটার।
     
    এনার্জি এর একক Watt-hour বা Kilowatt-hour .
    অর্থাৎ, এনার্জি, ওয়াট = পাওয়ার X টাইম (W = P X T)
     
     

     ওয়াট কি? – What is Watt?

    কোন লোড একটি নির্দিষ্ট সময়ে যতটুকু শক্তি ব্যয় করে কোন কাজ সম্পন্ন করে তাকে ওয়াট বলে। ওয়াট পরিমাপক যন্ত্রের নাম ওয়াট মিটার।
     
    ওয়াট বের করতে নিচের সূত্রটি ব্যবহার করা হয়। যথাঃ
     P = V X I X Cosθ
     P = I2 X R X Cosθ
     P = (V2 X Cosθ) / R
    P = Power,
    I = Current,
    V = Voltage,
    R = Resistance,
    Cosθ = Power Factor,
     
     

     পিরিয়ড বা সময় কি? – What is Period?

    এক সাইকেল সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে পিরিয়ড বা সময় বলে। এর প্রতীক হলো টাইম (T) ।
     
     

     সাইকেল কি? – What is Cycle?

    একটি পরিবাহী একটি উওর মেরু ও একটি দক্ষিণ মেরুর মাঝখানে একটি পথ যদি একবার পরিক্রমন করে তাহলে একটি ভোল্টেজ তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এ তরঙ্গকেই সাইকেল বলে।
     
     

     অল্টারনেশন কি? – What is Alternation?

    অল্টারনেশন হলো ভোল্টেজ তরঙ্গের অর্ধাংশ।
     
     

     বৈদ্যুতিক সার্কিট বা বর্তনী কি? – What is Electrical Circuit?

    বিদ্যুতের উৎস, পরিবাহী, নিয়ন্ত্রনযন্ত্র, রক্ষণযন্ত্র, ব্যবহারযন্ত্র একত্রে এমন একটি পথ যার ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে তাকে বৈদ্যুতিক সার্কিট বা বর্তনী বলে।
     
    সার্কিটের সংযোগের ভিত্তিতে একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ
    ১. সিরিজ সার্কিট (Series Circuit) ,
    ২. প্যারালাল সার্কিট (Parallel Circuit) ও
    ৩. মিশ্র সার্কিট (Mixed Circuit)
     
    সিরিজ সার্কিটঃ দুই বা তার অধিক রেজিস্টার একের পর এক যদি এমন ভাবে যুক্ত করা হয় যেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহের একটি মাত্র পথ থাকে তাকে সিরিজ সার্কিট বলে।
     
    প্যারালাল সার্কিটঃ একাধিক রেজিস্টার বা লোড প্রত্যেকটিকে বৈদ্যুতিক উৎসের আড়াআড়িতে এমনভাবে সংযুক্ত করা হয় যাতে বিদ্যুৎ প্রবাহের একাধিক পথ বিদ্যমান থাকে তাকে প্যারালাল সার্কিট বলে।
     
  • ভূমিকম্প থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – পূর্বে, চলাকালীন সময় ও পরবর্তী করনীয়

    ভূমিকম্প থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – পূর্বে, চলাকালীন সময় ও পরবর্তী করনীয়

    ভূমিকম্প হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর প্রাকৃতিক ভাবে ঘটা দুর্যোগ সহজে মোকাবেলা করা যায় না। ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দেয়ার কোন যন্ত্র এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই কিছু নিয়মকানুন ও সতর্কতা মেনে চললে এর ভয়াবহতা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব।
     
     
    ভূমিকম্পের ক্ষতিক্ষতি কমিয়ে আনতে এর সতর্কতা মূলক করনীয় হিসেবে কাজকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
    ১. ভূমিকম্পের পূর্বে করনীয়,
    ২. ভূমিকম্পের সময় করনীয় ও
    ৩. ভূমিকম্প পরবর্তী করনীয়।
     
     

    ভূমিকম্পের পূর্বে করনীয় – Things to Do Before An Earthquake

     
    এ অংশে ভূমিকম্পের পূর্বে কি করা উচিত সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারনা দেয়া হলঃ
    ● পরিবার বা কার্যপরিবেশে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে কার কি করনীয় তা পূর্ব থেকে নির্ধারন করা।
    ● বিল্ডিং কোড ও আইন মেনে ভবন নির্মাণ করা।
    ● নিয়মিত সকল ইউটিলিট সার্ভিস সমূহ পরীক্ষা করা।
    ● জরুরী টেলিফোন নাম্বার সমূহ (ফায়ার সার্ভিস, এম্বুলেন্স, ব্লাডব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনি) সংরক্ষণ করা ও দেয়ালে বা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শিত করা।
    ● একাধিক দরজা ও জরুরী বহিঃগমন সিঁড়ি রাখা। বহিঃগমন পথ চিহ্নিত করে দিতে হবে।
    ● প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী সংরক্ষণ করা।
    ● রাসায়নিক পদার্থ বা ক্ষতিকারক দ্রব্যাদি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা।
    ● নিয়মিত অগ্নি মহড়া, অগ্নি নির্বাপক চালনা প্রশিক্ষন, উদ্ধার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
     
     
     

    ভূমিকম্পের সময় করনীয় – What to Do During An Earthquake

     
    ভূমিকম্প যখন চলমান বা পুনরায় সংগঠিত হবার আশঙ্কা থাকে সেক্ষেত্রে কি করনীয় এ অংশে আমরা তা জানবোঃ
    ● আপনি ভবনের ভাহিরে থাকলে ভবনের ভেতর ঢোকা থেকে বিরত থাকুন ও বৈদ্যুতিক খুটি, ব্রীজ, ঝুলন্ত কোন বস্তু, সাইনবোর্ড বা কোন অবকাঠামোর কাছাকাছি আশ্রয় না নিয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
    ● কোন ভাবে বেরহতে না পারলে বা উপরের তলায় থাকলে দ্রুত খাট বা টেবিলের নিচে, ভীম বা কলামের পাশে বা রুমের এক কোণায় আশ্রয় নিন। বসে পড়ুন এবং কিছু দিয়ে (হেলমেট, বালিস বা নিজ হাত) মাথা কে সুরক্ষিত রাখুন।
    ● বহুতল ভবন, শপিং মল, সিনেমা হল বা সহজে নির্গ্মন যোগ্য নয় এমন স্থানে থাকলে আতংকিত হয়ে দৌড়ে বের হবার চেষ্টা করবেন না। মাথায় হাত রেখে বসে পড়ুন।
    ● এ সময় লিফট ব্যবহার করা যাবে না।
    ● পানিতে অবস্থান করলে দ্রুত উপরে উঠে আসতে হবে।
    ● বহুতল ভবনের ছাদ, জানালা বা উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পড়া যাবে না।
    ● ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির পর আবার ঝাঁকুনি হতে পারে, তাই কিছু সময় নিরাপদে অবস্থান করা জরুরী।
    ● গাড়ির ভেতরে থাকলে বের হবেন না। বহুতল ভবন, ওভারব্রীজ, বড় গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুটি থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে।
     
     
     

    ভূমিকম্প পরবর্তী করনীয় – What to Do After An Earthquake

     
    ভূমিকম্পের পর যে সকল কাজ করতে হবে তা নিন্মরূপঃ
    ● অগ্নি নির্বাপন, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা সহ অন্যান্য সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করা,
    ● সর্বশেষ অবস্থা জানতে টিভি বা রেডিও শোনা,
    ● খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা,
    ● ত্রান সামগ্রী সুষ্ঠ বন্টনে সাহায্য করা,
    ● হেলে পড়া বা ফাটল ধরা কোন ভবনের মধ্যে প্রবেশ না করা,
    ● প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতা না থাকলে চাপা পড়া কোন ব্যক্তিকে টেনে হেচড়ে বের না করা,
    ● ধ্বংসস্তুপ ও আবর্জনা দ্রুত অপসারনের ব্যবস্থা নেয়া,
    ● রাসায়নিক বিক্রিয়া, বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা অগ্নি কান্ডের সম্ভবনা থাকলে নিরাপদ দূরত্বে থাকা,
    ● দ্রুত পর্যাপ্ত পরিমান স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করা,
    ● সরকার সহ বিভিন্ন সেবা মূলক সংস্থার কাজে সাহায্য করা,
    ● ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ লাইন ও ড্রেন লাইন মেরামত ও পুনঃ স্থাপন করা,
    ● প্রশিক্ষিত হলে আহত ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে এগিয়ে আসা,
    ● মৃত ব্যক্তিদের যথাযথ ব্যবস্থা করা ও মৃত পশু-পাখি মাটিতে পুঁতে ফেলা,
    ● আহত, সর্বহারা ও নিহত পরিবারের স্বজনদের সান্ত্বনা প্রদান,
    ● ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ ও রাস্তা সহ সকল জরুরী স্থাপরা পুনঃ স্থাপন করা,
    ● সম্পদের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী তাই কোন অবস্থায় যে কোন মূল্যবান দ্রব্য আনার জন্য পুনরায় ভবনে বা রুমে প্রবেশ করা যাবে না,
    ● কোন বিধ্বস্ত ভবনে আটকা পড়লে আপনার ডাক যদি কেউ শুনতে না পায় সেক্ষেত্রে শক্ত কিছু দিয়ে ফ্লোরে বা দেয়ালে জোরে জোরে আঘাত করুন, তাহলে নিকটে থাকা কেউ বা উদ্ধারকর্মী তা শুনতে পাবে।
    ● বড় বা ভারী কোন বস্তুর নীচে আটকা পড়লে টানা হেচড়া করে শরীরের শক্তি নষ্ট না করে কেউ পৌছানোর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • ভবনধ্বস থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – যা আপনার জানা উচিত

    ভবনধ্বস থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – যা আপনার জানা উচিত

    ভবনধ্বস এর মূল কারন হলো ভবনের দূর্বল কাঠামো ও পর্যাপ্ত প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকা।
     
    তাই এ দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অন্যন্য সকল বিষয় বিবেচনা করে ভবনধ্বস ঠেকাতে নিন্মক্তো বিষয় গুলো মেনে চলা জরুরী।
     
    ● সঠিক স্ট্রাকচারাল নকশা না হলে ভবন ভূমিকম্প ও ভবনধ্বস প্রতিরোধক হবে না। তাই ভবনের নকশা তৈরি করার পূর্বে স্ট্রাকচারাল নকশার বিধিগুলো অনুসরণ করতে হবে।
    ● মাটির গুনাগুন বিশ্লেষণ এবং মাটির ধারণক্ষমতা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করে রিপোর্ট করতে হবে।
    ● রিপোর্টের ভিত্তিতে যাচাই বাছাই করে ভবনের ডিজাইন করতে হবে।
    ● অপেক্ষাকৃত জটিল কাঠামোর জন্য ত্রিমাত্রিক ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে নকশা তৈরি করতে হবে।
    ● নতুন ভবনে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বিধিগুলো প্রয়োগ করলে ২% থকে ৩% নির্মাণ খরচ বাড়ে তাই অবশ্যই ভূমিকম্প প্রতিরোধে বিষটি মাথায় রাখতে হবে।
    ● ভবনের গুনগত মান ঠিক রাখতে ভবন নির্মাণের সমস্ত তদারকির দায়িত্ব অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর হতে দিতে হবে।
    ● নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে কোন ফ্লোর নির্মাণ, বা ফাঁকা রাখা যাবে না।
    ● ইঞ্জিনিয়ারকে “বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড” অনুসরন করে বিল্ডিংকে ভূমিকম্প প্রতিরোধেক করে নির্মান করতে হবে।
    ● সঠিক পরিমানে সিমেন্ট, বালি, রড ও কংক্রিট ব্যবহার করতে হবে। কংক্রিটে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না। কারন ঢালাই এর পর কংক্রিটের কিউরিং করতে পানির ব্যবহার করা হয়।
    ● ভালো মানের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রড ব্যবহার করতে হবে। র্ষ্ক্যাপ থেকে তৈরি রড ব্যবহার করা যাবে না।
    ● নিচ তলায় পার্কিং রাখলে সেখানে অবশ্যই পিলারগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করতে হবে। কংক্রিটের দেয়াল তৈরি করে পিলারগুলোকে আটকিয়ে দিতে হবে।
    ● প্রয়োজনে অতিরিক্ত দেয়াল সঠিক স্থানে বসিয়ে ভূমিকম্পরোধ শক্তির পরিমান বাড়াতে হবে।
    ● হঠাৎ ভবন বা কোন কক্ষের মাপ কমানো যাবে না। যদি কমানো আবশ্যিক হয় তবে ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ পূর্বক প্রতিক্রিয়া জেনে ডিজাইন করতে হবে।
    ● ভূমিকম্প প্রতিরোধের জন্য ৫ ইঞ্চি ইটের দেয়াল নিরাপদ নয়। এই দেয়ালগুলো ছিদ্রযুক্ত ইটের ভেতরে চিকন রড দিয়ে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে মিলিয়ে দিতে হবে ও সকল দিকে লিন্টেল দিতে হবে।
    ● ভীম বা কলাম বিহীন ভবন ঝুঁকি পূর্ণ ভবন কারন মাঝাড়ি রকমের ভূমিকম্প হলেই তা ভেঙ্গে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই অবশ্যই কলাম, ভীম ও স্ল্যাভ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে হবে।
  • বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব এবং বন্যা মোকাবেলায় করণীয়

    বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব এবং বন্যা মোকাবেলায় করণীয়

    বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব – Harmful Effects of Floods

     
    বিভিন্ন সময়ে বন্যায় বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে। বিগতসালে ঘটা বন্যা ও তার ভয়াবহতা পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে প্রতি ২ বছরে মাঝারি আকারে এক বার, ৬ থেকে ৭ বছরে ভয়াবহ আকারে এক বার, ৭ বছরে এক বার ব্যাপক বন্যা ও ৩৩ থেকে ৫০ বছরে এক বার মহাপ্রলয়ংকরী বন্যা হানা দিতে পারে।
     
    এ সকল বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়। মানুষের প্রাণহানি ঘটে ও সম্পদ নষ্ট হয়। পরিবেশ নষ্ট হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় ও উন্নয়নের ধারা ব্যহত হয়।
     
     

    বন্যার ধরন – Types of Flood

    প্রতি বছর একই কারনে বন্যা সংগটিত হয় না। বন্যার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো –
    ১. মৌসুমি বন্যা,
    ২. জোয়ার-ভাটা জনিত বন্যা এবং
    ৩. আকষ্মিক বন্যা।
     
     

    বন্যা থেকে নিরাপত্তায় করনীয় – Safety from Flood

    বাচ্চারা ও বয়ষ্ক ব্যক্তিরা বন্যায় সবচেয়ে বেশি আহত হয় এবং অসহায় হয়ে পড়ে। এছাড়াও কৃষকরা ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বহু মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে।
     
    বন্যা হতে নিরাপত্তার ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যে কাজগুলো করতে হবে তা নিচে দেয়া হলোঃ
    ● সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা।
    ● পূর্ব থেকে বা বন্যার পূর্বাবাস পাওয়া পাত্র পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ করে সংরক্ষণ করা।
    ● বর্ষা ও বন্যায় সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে বাড়ীতে কার্বলিক এসিড নিরাপদে সংরক্ষণ করা।
    ● বন্যার সময় চলাফেরার সময় নৌকা তৈরি করে রাখা। নৌকা তৈরি করার সামর্থ্য না থাকলে কলা গাছের ভেলা বেনিয়ে ব্যবহার করা।
    ● বাড়ি ও শোবার খাটের চারপাশে বেষ্টনী দেয়া। এতে করে ছোট বাচ্চারা নিরাপদ থাকবে ও ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করতে পারবে না।
    ● খালি বা পরিত্যাক্ত বাড়িতে প্রবেশ না করা। কারণ এ সময় উক্ত স্থানে হিংশ্র প্রানি, সাপ ও বিষাক্ত পোকা-মাকর সেখানে বাসা বাঁধে।
    ● বন্যার পূর্বে বন্যা প্রতিরোধী শস্য রোপণ ও শস্য রোপণ মৌসুমের অভিযোজন করা।
    ● গবাদিপশু সমূহের জন্য মাচা দিয়ে উঁচু করে থাকার যায়গা তৈরি করে দিতে হবে।
    ● বন্যার সময় মসার উপদ্রব বেড়ে যায় তাই মসারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
    ● নিরাপদ পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
    ● এ সময় নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো পরীক্ষা করতে হবে ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে প্রভৃতি।
     
     

    বন্যা মোকাবেলায় করণীয় – What to do to Deal with Floods

    বেশিরভাগ সময় বন্যা হবার সম্ভবনা পূর্ব থেকে অনুমান করা যায়। তাই বন্যা হতে নিরাপত্তায় পূর্ব থেকেই কাঠামোগত ও অ-কাঠামোগত দুই ব্যবস্থাই নেয়া যায়। বন্যা হতে নিরাপত্তায় কি কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো।
     
     

    সহজ ব্যবস্থাপনা – Easy Management

    যে সকল ব্যবস্থাপনা অপেক্ষাকৃত সহজ ও অল্প সময়ে সম্পন্ন করা যায় সেগুলো হলো সহজ ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছেঃ
    ● সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা,
    ● বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন,
    ● বন্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রশিক্ষণের আয়োজন,
    ● পুকুর, খাল-বিল ও নালা খনন করে সেচের পানি সংরক্ষণ করা,
    ● রাস্তাঘাট নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা,
    ● বিল্ডিং নির্মাণ কোড অনুসরণ করে বিল্ডিং নির্মাণ করা,
    ● বাড়ির চারপাশে বেষ্টনী নির্মাণ করা,
    ● এলাকায় বেষ্টনীমূলক বাঁধ তৈরি করা,
    ● নদীর দুই ধাঁরে বেড়ি বাঁধ দেয়া,
    ● নদীর দুই ধাঁরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা,
    ● বন্যা প্রবল অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা,
    ● বন্যা সহনক্ষম শস্য চিহ্নিত করে তা রোপণ করা ইত্যাদি।
     

     

    ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য ব্যবস্থাপনা – Expensive and Laborious Management

    যে সকল ব্যবস্থাপনায় প্রচুর অর্থ ও শ্রম দিতে হয় সেগুলো হলো ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য ব্যবস্থাপনা। বেশিরভাগ সমর ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনার কাজ সরকার সম্পন্ন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছেঃ
    ● বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধা প্রদান করা,
    ● নদী তীরকে সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী সুদৃড় কাআঠামো নির্মাণ,
    ● ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করে নদীর গভীরতা বাড়ানো,
    ● সমুদ্র উপকূলবর্তী স্থানে পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা,
    ● প্রর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রবাহকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি।
     
    বন্যা বাংলাদেশের একটি বড় দুর্যোগ। তাই এ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ব্যপক কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিছু সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু চলমান রয়েছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলা ও নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও সচেতন থাকতে হবে।
     
  • বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় করনীয় বা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

    বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় করনীয় বা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায়

    বর্তমান সময়ে বজ্রপাত মারাত্নক আকার ধারন করেছে। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়কালে (এপ্রিল থেকে জুন) অধিক বজ্রপাত ও ঝড়-তুফান সংগঠিত হয়।
     
    তাই বজ্রপাতকে এখন দুর্যোগ হিসেবে গন্য করা হয়। এ দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। বজ্রপাতে থেকে রক্ষা পেতে ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে জাতীয় বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত দন্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পোস্টে আমরা বজ্রপাত থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।
     
    নিচে বজ্রপাত থেকে নিরাপত্তায় আরো কি কি করা যেতে পারে যে সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
    ● পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখার সাথে সাথে সকল বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে হবে,
    ● ঘরের ভেতর অবস্থানকালে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বারান্দায় বা জানালার নিকটে থাকা যাবে না,
    ● বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির পাইপ, সিঁড়ির ধাতব রেলিং ইত্যাদি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে,
    ● বজ্রপাতের সময় বের হবার প্রয়োজন হলে রাবারের জুতা পরে, প্লাষ্টিক বা কাঠের হাতল যুক্ত ছাতা নিয়ে বের হতে হবে,
    ● দ্রুত দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে,
    ● কালো মেঘ দেখা দিলে জলাশয় (পুকুর, ডোবা ইত্যাদি) থেকে দূরে থাকা,
    ● সকল মাছ ধড়ার নৌকা ও ট্রলারকে মাছ ধরা বন্ধ করে নিরাপদে অবস্থান করতে হবে,
    ● প্রতিটি ভবনে বাধ্যতামূলক ভাবে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন করতে হবে,
    ● এপ্রিল হতে জুন মাস এ সময় বজ্রপাত দেশি হয় বিধায় উক্ত সময় আকাশে মেঘ দেখলে ঘরে অবস্থান করা,
    ● বজ্রপাতের সময় উঁচু স্থান ও খোলা জায়গায় থাকা যাবে না,
    ● বেশি করে তাল গাছ রোপণ করতে হবে,
    ● খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে ও দু কানে ভেতর আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়তে হবে,
    ● কোন গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না, এ সময় বড় গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে,
    ● এ সময় খোলা মাঠে কোন কাজ বা খেলাধুলা করা যাবে না,
    ● গাড়ির ভেতরে থাকলে তার ধাতব পদার্থের সাথে যাতে শরীর না লাগে তাতে লক্ষ্য রাখতে হবে। গাড়ি নিরাপদ কোন স্থান যেখানে ছাউনি রয়েছে এমন স্থানে নিয়ে যাওয়া,
    ● অনেকজন একসাথে খোলা জায়গায় থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেককে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে অবস্থান করতে হবে,
    ● বৈদ্যুতিক খুঁটি বা যে কোন খুঁটি, পিলার, ছেঁড়া তার, মোবাইলের টাওয়ার, উঁচু গাছপালা থেকে থেকে সাবধান থাকা,
    ● বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে সে ক্ষেত্রে সকলে এক রুমে না থেকে ভিন্ন ভিন্ন রুমে অবস্থান করা,
    ● বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক শকের মত করেই চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
  • ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ ও তাসৃষ্ট কারণ [যা না জানলেই নয়]

    ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ ও তাসৃষ্ট কারণ [যা না জানলেই নয়]

    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারনে ভয়াবহ সকল দুর্যোগসমূহ – All Natural and Man-made Disasters

    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দু কারনেই দুর্যোগ সংগঠিত হতে পারে তবে প্রাকৃতিক কারনেই অধিকাংশ দুর্যোগ ঘটে থাকে।
     
    প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট এ দুটির মধ্যে যে কয়টি দুর্যোগ বড় ধরনের বিপদ বয়ে আনে ও প্রায় প্রতি বছর সংগঠিত হয় সে গুলো হলোঃ
    ১. ভূমিকম্প (Earthquake)
    ২. ভবনধ্বস (Collapse/Structure Failure)
    ৩. অগ্নিকান্ড (Fire)
    ৪. বজ্রপাত (Thunder)
    ৫. বন্যা (Flood)
     
     

    ভূমিকম্প

    ভূ-অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময়ে জমানো চাপ, তাপ ও বিক্রিয়ায় কারনে সৃষ্ট শক্তির হঠাৎ বিমুক্তির ফলে ভূপৃষ্ঠে যে কম্পনের সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। এ ধরনের কম্পন মৃদু, মাঝারি বা প্রচন্ড হতে পারে। এটি সাধারনত কয়েক সেকেন্ড থেকে ২-৩ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬,০০০ ভূমিকম্প সংগঠিত হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগই মৃদু আকারের হয় বলে আমরা তা বুঝতে পারি না। শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে ও প্রাণহানি হয়।
     
    যে সকল কারনে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে সেগুলো হলোঃ
    • ভূপৃষ্ঠের প্লেটসমূহের মধ্যে পারস্প্ররিক ধাক্কা,
    • ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে শিলাচুৎতি ঘটলে,
    • ভূ-অভ্যন্তরের গলিত গ্যাস বা লাভার প্রবল ধাক্কা,
    • আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে মানবসৃষ্ট কারনে।
     
     
    এসব ভূমিকম্পের ফলে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয় তা নিন্মরূপঃ
     ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ নষ্ট সহ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা অকেজ হয়ে পড়ে,
     বিভিন্ন ভবন ও ঘরবাড়ির নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে ও মারা যায়,
     গবাদি পশু হাস-মুরগী সহ অন্যান্য পশু-প্রানী মৃত্যুবরণ করে,
     বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বসে যায়,
     গ্যাস পাইপ লাইন ও রাসায়নিক পদার্থে বিস্ফোরণ ঘটে,
     সমুদ্র উপকূলে জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়,
     পুকুর ও নদী-নালা শুকিয়ে যায়,
     গাছপালা নষ্ট হয় ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়,
     বহু যানবাহন নষ্ট হয়ে জরুরী পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়,
     অনেক সময় মহামারী ও দুর্ভিক্ষে বহু লোক মারা যায়,
     বৈদুতিক শর্টসার্কিট ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের কারনে আগুন লেগে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
     
    পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে যে ভবন নির্মাণ আইন না মানা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অবহেলা ও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হওয়ার মূল কারন। এছাড়াও যে সকল কারন গুলো রয়েছে সেগুলো হলোঃ
    ● ভবন নির্মাণ নিয়ম না মেনে ভবন তৈরি করা,
    ● ভূমিকম্প সহনশীল রড ও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা,
    ● ঘন বসতি ও অধিক জনসংখ্যা,
    ● অদক্ষ প্রকৌশলী ও মিস্ত্রি ব্যবহার করা,
    ● নদী, পুকুর বা ডোবা ভালো ভাবে ভরাট না করে ভবন নির্মাণ,
    ● মাটি পরিক্ষা না করেই ভবন নির্মাণ,
    ● পরিকল্পনা বিহীন ভবন ও রাস্তা নির্মান ইত্যাদি।
     
     

    ভবনধ্বস

    বিল্ডিংকোড ও ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, নীচু জমি ভরাট করে ভবন মির্মাণ, পরিকল্পনা ছাড়া যত্রতত্র ইচ্ছেমত বিল্ডিং তৈরি, নির্মাণ ত্রুটি ও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ভবনধ্বস হয়ে থাকে। ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বসের মূল কারণ হলো মানবসৃষ্ট কারণ। তবে মানবসৃষ্ট কারন ছাড়াও ভূমিকম্পের কারণে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বস সংগঠিত হতে পারে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রানা প্লাজার ধ্বস কে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বসের প্রধান উদাহরন হিসেবে উল্যেখ করা যায়।
     
    বিভিন্ন কারনে ভবনধ্বস বা কাঠামোগতধ্বস হতে পারে, তা নিচে দেয়া হলোঃ
    ● ভূমিকম্পের কারণে ভবনধ্বস বা কাঠামোগত ধ্বস হতে পারে,
    ● বিল্ডিং এর ডিজাইন ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর্ঘনার অন্যতম কারন,
    ● অবিজ্ঞ প্রকৌশলী ও দক্ষ মিস্ত্রি না রাখা, রাখলেও তদারকির অভাব থাকলে,
    ● বিল্ডিং নরম মাটি ও নীচু জমিতে নির্মানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভীত ও পর্যাপ্ত পাইলিং না থাকা,
    ● পাহারের তলদেশে ভবন নির্মান করার ফলে কখনো পাহার হেলে পরা বা কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ে ভবনধ্বস ইত্যাদি।
     
     

    অগ্নিকান্ড

    পরিমিত তাপের উপস্থিতিতে দাহ্যবস্তুর সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলে আগুনের সৃষ্টি হয়। আগুন আমাদের জীবনে আশীর্বাদ স্বরুপ কিন্তু তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার ফলে অগ্নিকান্ড সংগঠিত হয়। প্রতিনিয়ত অগ্নিকান্ডের ফলে বহু প্রাণহানী ও ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হচ্ছে।
     
    অগ্নিকান্ডের কারন গুলো হলোঃ
    ● যন্ত্রাংশের ঘষর্ণ,
    ● যত্রতত্র ধূমপান,
    ● অনিরাপদ ওয়েল্ডিং,
    ● অতিরিক্ত তাপমাত্রা,
    ● ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ফিটিংস,
    ● গ্যাস ও বয়লার বিস্ফোরন,
    ● জ্বলন্ত বস্তু ও জ্বলন্ত গ্যাসের চুলা,
    ● অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সংযোগ
    ● ক্যামিকেলের অনিরাপদ ব্যবহার ও সংরক্ষণ,
    ● ভূমিকম্পের কারনে বিদ্যুৎ বা গ্যাস লাইন থেকে আগুন লাগতে পারে ইত্যাদি।
     
     

    বজ্রপাত

    বজ্রপাত কেন সংগঠিত হয় তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা নেই। ধারনা করা হয় উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাতে সৃষ্টি হয়। বজ্রমেঘের ভেতরে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের ফলে জলীয়বাষ্পে একই সময়ে একই সাথে শিশির বিন্দু, বৃষ্টিকণা, ও তুষারকণার তৈরি হয়।
     
    উক্ত বৃষ্টিকণা এবং তুষারকণার সংঘর্ষে স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ ঘটনাটি বিশাল মেঘামালার মধ্যে ঘটে বলে এর ফ্রিকোয়েন্সি, পরিমান ও সৃষ্ট শব্দের পরিমান অনেক বেশি হয়। এ বিদ্যুৎ প্রায় ৩০,০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপ উৎপাদন করে বিধায় এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হয়।
     
     

    বন্যা

    বর্ষাকালে কোন এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি তা দীর্ঘ সময় মানুষের জীবন এবং সম্পদের ক্ষতি সাধন করে তবে তাকে বন্যা বলা হয়। আমাদের দেশে রয়েছে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী সহ মোট ৭০০টি নদী এবং বার্ষরিক বৃষ্টিপাতের পরিমান ২৩০০ মি.মি. ।
     
    এজন্য বলা হয়ে থাকে “বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল দেশ”। প্রতি বছর প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কি.মি. অঞ্চল অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখন্ড বন্যা কবলিত হয়। ব্যপকভাবে বন্যা হলে তা ৫৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। আমাদের দেশের বন্যাকে তিন শ্রেনীতে ভাগ করা যায়।
     
    যথা – ১. মৌসুমি বন্যা (Monsoon Flood) ২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) এবং ৩. জোয়ারসৃষ্ট বন্যা (Tidal Flood)
     
    এ সকল বন্যায় মানুষ ও পশুপাখির প্রাণহানী ঘটে ও বিপন্ন হয়। তাছাড়া ফসলী জমি ডুবে যাবার ফলে বিপুল পরিমান ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকে। সাধারনত মে থেকে অক্টোবর এ সময়ে বন্যা সংগটিত হয় এবং এর উচ্চতা ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
     
    বন্যা সংঘটিত হবার কারণগুলো হলোঃ
    ● দেশের ভেতরে ও দেশের বাহিরে উজান এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত,
    ● ভূমিকম্প ও ভূরূপতত্ত্বে পরিবর্তন সম্পর্কিত জটিলতা,
    ● ভৌগলিক অবস্থান ও মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
    ● হিমালয়ের বড়ফ গলা পানির প্রবাহ,
    ● গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া,
    ● অপরিকল্পিত নগরায়ণ,
    ● প্রকৃতির উপর মানুষের হস্তক্ষেপ,
    ● বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা,
    ● শাখানদীগুলো পলি দ্বারা ভরে যাওয়া ও তার পার্শ্বদেশ দখল হয়ে যাওয়া,
    ● গঙ্গা নদীতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ ও অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব,
    ● প্রধান নদীগুলোর একিসাথে পানি বৃদ্ধি ও এক নদীর উপর অন্য নদীর প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি।
     
     
    উপরোক্ত বড় দুর্যোগ ছাড়াও আরো কিছু দুর্যোগ রয়েছে যেগুলো প্রায়ই আমাদের বিপদে ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে – ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও সুনামি।
     
    ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ হলো সমুদ্রে সৃষ্ট নিন্মচাপ, বায়ুমন্ডলে বাতাসের গতিবেগ এক হওয়া, সমুদ্রের উত্তাপ তাপমাত্রা প্রভৃতি। অনাবৃষ্টি, বৃক্ষ নিধন, ভূগভস্থ পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়া ইত্যাদি কারনে খরার সৃষ্টি হয়। নদীভাঙনের কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বৃক্ষ নিধন, রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি, নদী গর্ভে ফাটল প্রভৃতি। সুনামি হয়ে থাকে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুপাতের কারণে।
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কি? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উপাদান কয়টি ও কি কি?

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কি? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উপাদান কয়টি ও কি কি?

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা [Disaster Management]

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে বুঝায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য গৃহিত কৌশল।
     
    ব্যাপক অর্থে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হলো দুর্যোগের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে এর ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য বিভিন্ন কৌশল এবং পরিকল্পনা। সঠিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব।
     
     
    দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যে সকল পদক্ষেপ বা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তা নিন্মরূপঃ
    ● প্রতিরোধ (Prevention)
    ● হ্রাসকরন (Mitigation)
    ● প্রস্তুতি (Preparedness)
    ● সাড়া প্রদান (Response)
    ● পুনর্বাসন (Rehabilitation)
    ● পুনর্গঠন (Reconstruction)
    ● উন্নয়ন (Development)
     
     

    প্রতিরোধ

    সাধারণত প্রতিরোধ বলতে বুঝায় কোন ঘটনা বা পরিস্থিতিকে বাঁধা দিয়ে রাখা বা ঘটতে না দেয়া। দুর্যোগ প্রতিরোধ বলতে বুঝায় সম্ভাব্য কোন দুর্যোগকে বাঁধা প্রদান করে ঘটতে না দেয়া এবং উক্ত দুর্যোগের হাত থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ভবনে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন।
     
     

    হ্রাসকরন বা প্রশমন

    দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং জীবন ও সম্পদ বাঁচতে নেয়া পদক্ষেপকে দুর্যোগ হ্রাসকরন বা প্রশমন বলে। দুই পদ্ধতিতে দুর্যোগ হ্রাসকরন বা প্রশমন করা যায়। ১. কাঠামোগত এবং ২. অ-কাঠামোগত।
    কাঠামোগত ব্যবস্থাঃ এর মধ্যে রয়েছে তাল, নারকেল, গেওয়া, কেওড়া, বাবলা, ঝাউ সহ নানান জাতের গাছ লাগিয়ে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা। পাকা স্কুল, ঘড়-বাড়ি, অফিস এবং বন্যার ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য নদী ড্রেজিং করা, সুইচ গেট বানানো ইত্যাদি।
     
     

    অ-কাঠামোগত ব্যবস্থা

    সঠিক সময়ে সতর্ক সংকেত ও বার্তা প্রদান করা, শুকনা খাবার ও পানি সংরক্ষন, নলকূপের মাথা খুলে মুখ পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেয়া, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা, পত্রিকা, টিভি ও রেডিও এর মাধ্যমে সকলকে সচেতন করা ইত্যাদি।
     
     

    প্রস্তুতি

    অতীতের দুর্যোগের ঘটনার অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে অনুরূপ একটি ঘটনাকে অনুমান করে আগে থেকে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার নামই দুর্যোগ প্রস্তুতি। যে কোন দুর্যোগে পতিত জনগোষ্ঠিকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যা দূর করা ও জীবন রক্ষার প্রচেষ্টা সহ মৌলিক চাহিদা পূরণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় দুর্যোগের সময় নিরাপদে আশ্রয় পেতে পূর্ব থেকে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে রাখা।
     
     

    সাড়া প্রদান

    দুর্যোগ চলাকালীন বা তার পরে দুর্যোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষা ও জীবন নির্বাহের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিকে জরুরী সাড়া প্রদান বলে। দুর্যোগকে আমরা নানা ভাবে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও অনেক সময় দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সময় এ বিষয় বিবেচনা করে জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকা ও দুর্গত জনগোষ্ঠিকে জরুরী অবস্থায় সাহায্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠি, সংস্থা ও ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হচ্ছে দুর্যোগে সাড়াপ্রদান।
     
     

    পুনর্বাসন

    দুর্গত জনগোষ্ঠিকে অর্থনৈতিক, মানসিক ও ভৌত কল্যাণ সাধন এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকার স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কার্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হলো পুনর্বাসন। এ পর্যায়ে মৃত মানুষ, গবাদি পশু অপসারণের ব্যবস্থা করাহয় ও পুকুর, খাল-বিল, জলাশয় সমূহ পরিষ্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, গবাদি পশু ইত্যাদির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার সহ ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা তার চেয়ে ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
     
     

    পুনর্গঠন

    সাধারণ ভাবে পুনর্গঠন বলতে বুঝায় কোন কিছু পুনরায় নির্মাণ করা। আর দুর্যোগের ক্ষেত্রে পুনর্গঠন বলতে বুঝায় দুর্যোগের পর নষ্ট হয়ে যাওয়া বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া অবকাঠামো সমূহ পুনরায় নির্মাণ করা। এর মূল উদ্দ্যেশ হলো দুর্গত জনগোষ্ঠিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
     
     

    উন্নয়ন

    দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হতে কাটিয়ে উঠা ও দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াটা জরুরী। আর দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়ন আবশ্যক। তাই কোন জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও এর ধারা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টাই হলো উন্নয়ন।
  • অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – যা আপনাকে জানতেই হবে

    অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপত্তায় করণীয় – যা আপনাকে জানতেই হবে

    অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপত্তায় করনীয় [Task of Fire Safety]

    অধিকাংশ অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী বৈদ্যুতিক ব্যস্থাপনার ত্রুটি ও অবেহেলা। তাই অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপত্তার জন্য আমাদের জানতে হবে সঠিক বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে, সব সময় সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে। অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী সম্পর্কে থাকতে হবে বাস্তব জ্ঞান।
     
     
    নিচে অগ্নিকান্ড থেকে নিরাপত্তায় কি কি ব্যবস্থা নেয়া জরুরী তা উল্ল্যেখ করা হলঃ
    ● প্রচুর পানি ও বালি মজুদ থাকতে হবে,
    ● পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী উপস্থিতি থাকতে হবে,
    ● রান্নার পর চুলা বন্ধ করে পুনরায় তা দেখে নিশ্চিত হতে হবে,
    ● আগুন লাগার সাথে সাথে দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে,
    ● আগুন লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে কি করা উচিত তা ঠিক করতে হবে,
    ● বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে হবে,
    ● ফায়ার সার্ভিসের টেলিফোন নাম্বার মুখস্ত করে রাখতে হবে ও দেয়ালে লিখে রাখতে হবে,
    ● ভবন ও এর গুরুত্বপূর্ন অংশ (দরজা, জানালা, সিঁড়ি) অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবহার করা,
    ● খোলা বাতির ব্যবহার পরিহার করতে হবে,
    ● গৃহ ও তার আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিপাটি থাকতে হবে,
    ● প্রতি মাসে বা মাঝে মাঝে বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো পরিক্ষা করা,
    ● গৃহে ও কর্মস্থলে অগ্নিকান্ড সংগঠিত হলে কার কি দায়িত্ব তা ঠিক করে রাখতে হবে,
    ● নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর গৃহে অগ্নি মহড়ার আয়োজন করতে হবে,
    ● দিয়াশলাই বা গ্যাস লাইটার সাবধানে ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহার শেষে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে,
    ● আগুন বা সহজে আগুনের স্পর্সে আসতে পারে এমন কোন খেলনা বা কোন কিছু বাচ্চাদের হাতে দেয়া যাবে না।
     
     
     

    কাজের স্থানে ও কর্মরত অবস্থায় অগ্নি নিরাপত্তা করনীয় [Fire Prevention in the Workplace]

    ● ঝুকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থসমূহ নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা ও তা ব্যবহার, পরিবহনে প্রশিক্ষিত লোক রাখতে হবে,
    ● কারখানা ও গুদামঘরে দিয়াশলাই বা গ্যাস লাইটার নিয়ে প্রবেশ না করা,
    ● প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী রাখতে হবে,
    ● কাজের পরিবেশ ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে,
    ● প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর একবার ফায়ার ড্রিলের আয়োজন করা,
    ● মোট কর্মকর্তা-কর্মচারি বা শ্রমিকের ১৮% লোককে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হতে হবে,
    ● চাহিদা অনুসারে দেয়াল, সিঁড়ি ও রুম অগ্নি প্রতিরোধক করে নির্মান করতে হবে ও অগ্নি প্রতিরোধক দরজা ও জানালা ব্যবহার করতে হবে,
    ● সকল বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিক্ষা করা। ত্রুটিপূর্ণ ও পুরানো সরঞ্জাম পরির্বতন করে নতুন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা,
    ● ফায়ার এলার্ম বাজার সাথে সাথে কর্মস্থল ত্যগ করে সাড়িবদ্ধ হয়ে নিরাপদ স্থানে আসা,
    ● একাধিক ইমার্জেন্সি বর্হিগমন পথ ও ইমার্জেন্সি লাইটিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে,
    ● বর্হিগমনের পথ সর্বদা বাধামুক্ত ও খোলা রাখা,
    ● চলাচলের রাস্তায় কোন কিছু রাখা যাবে না,
    ● টিম গঠন করে প্রত্যেককে সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব দেয়া,
    ● কোথাও অগ্নি ঝুকির তথ্য পেলে দ্রুত স্থান পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া,
    ● কারখানার ছাদে টিন শেড ব্যবহার করা যাবে না, করলে আইননুযায়ী সামনের ২৫ ভাগ খোলা রাখতে হবে,
    ● কাজ চলাকালীন সময়ে রুমের দরজা ও মূল গেট আটকিয়ে রাখা বা তালা দেয়া যাবে না,
    ● গায়ে লাগুন লাগলে সে ক্ষেত্রে দৌড়ানো যাবে না, মাটিতে গড়াগড়ি দিতে হবে,
    ● যদি কখনো ধোঁয়ায় সম্পূর্ণ গুম আচ্ছন্ন হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসতে হবে। উক্ত সময় মাস্ক বা রুমাল, কাপড়ের টুকরো বা অন্যকিছু দিয়ে নাক ও মুখ চেপে ধরে বা বেঁধে বের হয়ে আসা।
  • ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম ও দাম ২০২

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম ও দাম ২০২

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের নিয়ম

    ফায়ার এক্সটিংগুইসার ব্যবহার করে আগুন নেভাতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে আগুনের ধরণ। ধরণ অনুসারে এক্সটিংগুইসারটি নির্ধারিত স্থান হতে ক্যারি হ্যান্ডেল ধরে নিয়ে আসতে হবে। সেফটি পিনটি খুলে আগুনের উৎসের দিকে তাক করে ধরুন। এবার হ্যান্ডেলে চাপ দিলেই অগ্নি নির্বাপক পদার্থ বের হয়ে আগুন নিভে যাবে।
     
     
    পুরো বিষটি আরও সুন্দর করে বুঝতে ও মনে রাখতে “PASS” শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হলোঃ
     
    পর্টেবল ফায়ার এক্সটিংগুইশার
     
    P = PULL the pin (সেফটি পিনটি টেনে খুলুন)
    A = AIM nozzle at base of fire (নজেলকে আগুনের উৎসের দিকে তাক করুন)
    S = SQUEEZE the handle (হাতলের লিডারকে চাপ দিন)
    S = SWEEP nozzle side to side (নজেলকে সঠিক ভাবে ঘুরিয়ে আগুন নেভান)
     
     
    বিঃদ্রঃ পর্টেবল ফায়ার এক্সটেংগিসার ব্যবহারের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ২ থেকে ৩ মিটার দূরে থেকে সাবধনতার সাথে ধীরে ধীরে ব্যবহার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে তা চালিয়ে যেতে হবে।
     
     
    আগুন নিভে গেলে আগুনের চারপাশ পুনরায় আরেকবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোথাও কোন আগুন অবশিষ্ট রয়েছে কিনা। কারন ছোট-খাটো কোন আগুন বা ফুল্কির কারনে পুনরায় আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
     

     

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তরঃ ফায়ার এক্সটিংগুইশার চার প্রকার। যথাঃ
    ১. ডিসিপি (Dry Chemical Powder – DCP)
    ২. সিওটু (C)
    ৩. ফোম টাইপ (Foam Type)
    ৪. ওয়াটার টাইপ (Water Type)

    আগুন নেভাতে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?

    উত্তরঃ আগুন নেভাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার দাম

    উত্তরঃ ফায়ার এক্সটিংগুইশার দাম ক্যামিকেলের ধরন অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।